বাংলাদেশের নানা
ক্ষেত্রে গত
৫০ বছরে
সাফল্য খালি
চোখেই দৃশ্যমান।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির
ক্ষেত্রে মোবাইল
ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে
(এমএফএস) কিছুটা
ভূমিকা আছে।
এমএফএস খাতের
বয়স ১০
বছর। এ
সাফল্যের পেছনে
ছয়টি বিষয়
নিবিড়ভাবে কাজ
করেছে। বিষয়গুলো
যথাক্রমে এমএফএস
রেগুলেশন, মোবাইল
অপারেটরদের সঙ্গে
চুক্তি, মানসম্মত
বিনিয়োগ, ডিস্ট্রিবিউশন
ও এজেন্ট
নেটওয়ার্ক, ব্যাংক
নেটওয়ার্ক ও
সবশেষে গ্রাহক
আস্থা।
১.
সবার মূলে
ডিজিটাল বাংলাদেশের
রূপকল্প, সরকারের
অনুকূল নীতি
এমএফএস খাতটি
গড়ে তুলতে
সহায়তা করেছে।
এমএফএসের প্রথম
লাইসেন্স দেয়া
হয় ২০১০
সালে। বিকাশ
ব্র্যাক ব্যাংকের
সাবসিডিয়ারি কোম্পানি
হিসেবে লাইসেন্স
পায় ২০১০
সালেই। বাংলাদেশ
ব্যাংক এমএফএস
গাইডলাইন প্রথম
নিয়ে আসে
২০১১ সালে।
পরবর্তী সময়ে
বাংলাদেশ ব্যাংক
গাইডলাইনকে আরো
মজবুত করতে
রেগুলেশন ড্রাফ
করা হয়।
দীর্ঘ সময়
ধরে ড্রাফ
রেগুলেশনটি নিয়ে
এ খাতে
সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের—ব্যাংক
নির্বাহী, প্রযুক্তিবিদ,
অর্থনীতিবিদ, সমাজতাত্ত্বিক
ও মিডিয়া—আলোচনার
ব্যাপক সুযোগ
হয়। দীর্ঘ
এক আলোচনার
পথ ধরে
বর্তমান রেগুলেশন
তৈরি হয়
২০১৮ সালে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রেগুলেশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত বিকাশের তিনটি অর্জনের কথা আমরা
বলতে পারি
এক. রেগুলেটর
হিসেবে বাংলাদেশ
ব্যাংকের সব
নির্দেশনার প্রতি
আমরা আন্তরিক।
পাশাপাশি বাংলাদেশ
ব্যাংক তফসিলি
ব্যাংকগুলোর মতো
এমএফএফ অপারেটরদের
জন্য গ্রাহককের
আর্থিক নিরাপত্তার
স্বার্থে যেসব
নির্দেশনা দিয়েছে,
তা আমরা
অক্ষরে অক্ষরে
পালন করেছি।
রেগুলেটরি নির্দেশনা
মাঠ পর্যায়ে
বাস্তবায়নের লক্ষ্যে
বিকাশের কর্মকর্তা,
ডিস্ট্রিবিউটর ও
এজেন্টদের প্রশিক্ষণ
ও তার
সঙ্গে তদারকির
ওপর ধারাবাহিকভাবে
সার্বক্ষণিক গুরুত্ব
দিয়ে আসছি,
যা রেগুলেটর
ও গ্রাহক
উভয়ের আস্থা
তৈরিতে সহায়তা
করেছে।
দুই. রেগুলেটর
আমাদের আন্তরিকতা
ও কর্মনিষ্ঠতাকে
মূল্যায়ন করেছে।
আর আমাদের
বিনিয়োগকারী ও
পরিচালনা বোর্ড
আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক
ও কমপ্লায়েন্ট
প্রতিষ্ঠান হিসেবে
নিজেদের গড়তে
সর্বোচ্চ সক্রিয়
ছিল। উভয়পক্ষীয়
একটি অভিভাবকত্ব
আমাদের কাজকে
গাইড করেছে।
তিন. বাংলাদেশে
যে বিশ্বমানের
প্রযুক্তিভিত্তিক আর্থিক
প্রতিষ্ঠান গড়া
সম্ভব, আর
সেই প্রতিষ্ঠান
যে বিশ্বমানের
বিনিয়োগকারীদের একত্র
করতে পারে
বিকাশ সে
দৃষ্টান্ত তৈরি
করেছে।
২.
রেগুলেশনের বাইরে
আরো পাঁচটি
বিষয় বিকাশের
পেছনে কাজ
করেছে। এ
বিষয় পাঁচটি
পরস্পরের সঙ্গে
ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
তা হলো
বিকাশের বিজনেস
মডেল। পেছন
দিকে ফিরে
তাকালে আমরা
এর বিজনেস
মডেলের অন্তঃসম্পর্কের
দিকটি খুঁজে
পাই।
ক. নব্বইয়ের
দশকের শেষ
ভাগ থেকে
মোবাইল অবকাঠামোর
ভিত্তিটি গড়ে
ওঠে। সরকারের
দূরদর্শিতা, পরিকল্পনা
ও বাস্তবায়ন
কৌশল বিদেশী
বিনিয়োগ আকৃষ্ট
করার মাধ্যমে
বর্তমানে দেশব্যাপী
মোবাইল নেটওয়ার্কের
ভিত্তিটি গড়ে
উঠেছে। আর
এ অবকাঠামোর
ওপর ভিত্তি
করে এক
যুগ পর
এমএফএস খাতটি
গড়ে ওঠে।
দেশের সব
মোবাইল অপারেটরের
সঙ্গে এমএফএস
খাতের নেটওয়ার্ক
প্রভাইডার হিসেবে
সঠিক কর্ম-অংশীদারিত্ব
করতে পারা
ছিল বিকাশের
জন্য একটি
উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য
যে, প্রধানমন্ত্রীর
তথ্য ও
যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক
উপদেষ্টা ইউএসএসডির
জন্য যৌক্তিক
দাম নির্ধারণে
গ্রাহকবান্ধব সিদ্ধান্ত
দিয়ে খাতটি
আরেক ধাপ
এগিয়ে দিয়েছেন।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে
তার দূরদর্শীপূর্ণ
নেতৃত্বের কারণে
ইন্টারনেটের ব্যাপক
প্রসার ঘটে,
যার সুফল
এমএফএস অ্যাপ
ব্যবহারকারী ভোগ
করছেন।
খ. বিকাশের
অগ্রগতির সঙ্গে
সঙ্গে প্রযুক্তি
ও বিনিয়োগ
দুটো বিষয়ের
দিকে আমাদের
বিশেষ গুরুত্ব
দিতে হয়।
বিশেষত বাংলাদেশ
ব্যাংক সব
রেগুলেটরি শর্ত
পূরণ, গ্রাহককে
মানসম্মত ও
নিরাপদ সেবা
প্রদান, নতুন
সেবা সৃষ্টি
ও তৃণমূল
পর্যায়ে বিকাশের
সেবা ছড়িয়ে
দিতে প্রযুক্তি
ও শক্তিশালী
ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক
গড়ে তোলার
জন্য দীর্ঘমেয়াদি
বিনিয়োগের কোনো
বিকল্প নেই।
গ. বিকাশ
আজ সার্বক্ষণিক
অর্থনৈতিক লেনদেনের
নেটওয়ার্ক হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত। আর্থিক
অন্তর্ভুক্তির এ
মেলবন্ধন সৃষ্টিতে
ডিস্ট্রিবিউশন ও
এজেন্ট নেটওয়ার্ক
এখন পর্যন্ত
এর মূল
প্রাণশক্তি। এজেন্টদের
ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ
ও নিবিড়
মনিটরিংয়ের ওপর
আমরা গুরুত্ব
দিয়ে এ
খাতে যথেষ্ট
বিনিয়োগ করে
আসছি। ধারাবাহিকভাবে
এ কাজ
তৃণমূল পর্যায়ে
একটি মানবসম্পদ
তৈরির পাশাপাশি
উদ্যোক্তা ও
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে
অবদান রেখেছে।
ঘ. বিকাশের
অগ্রগতি ও
বিস্তৃতির একটা
পর্যায়ে ব্যাংকের
সঙ্গে সম্পর্ক
ও নিবিড়
নেটওয়ার্ক গড়ে
তোলার প্রয়োজনীয়তা
দেখা দেয়।
প্রথম দিকে
বেশ কয়েক
বছর নগদ
অর্থ ব্যবস্থাপনায়
এককভাবে ব্র্যাক
ব্যাংকের ওপর
নির্ভরশীল ছিলাম।
ফলে অর্থ
ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা
সম্ভব হচ্ছিল
না। বাংলাদেশ
ব্যাংক বিষয়টি
বিবেচনায় নিয়ে
একটি বাস্তব
সিদ্ধান্ত নেয়,
যা সৃষ্ট
সমস্যা সমাধানে
তড়িৎ কাজ
করে। দেশের
সব সরকারি
ও বেসরকারি
ব্যাংককে বিকাশের
নগদ অর্থ
ব্যবস্থাপনায় ব্যবহারের
সুযোগ করে
দেয়। রেগুলেটরের
এ সিদ্ধান্তের
ধারাবাহিকতায় বর্তমানে
সবমিলিয়ে সব
প্রধান ব্যাংকের
সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ
ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক
গড়ে উঠেছে
বিকাশের। এ
অধ্যায়টি এমএফএস
খাত ও
বিকাশের জন্য
একটি গুরুত্বপূর্ণ
ধাপ, যার
ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর
সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে
নতুন ধরনের
সেবা নিয়ে
আসায় সক্ষম
হয়েছে।
ঙ. গত
এক দশকে
বর্তমান সরকারের
উদ্যোগে বাংলাদেশজুড়ে
ডিজিটাইজেশনের এক
কর্মযজ্ঞ চলছে।
এর প্রত্যক্ষ
সুবিধাভোগী হচ্ছে
দেশের সব
অঞ্চলসহ তৃণমূলের
গ্রামীণ জনপদ।
দেশের ডিজিটাইজেশনের
এ প্রক্রিয়ায়
এমএফএস আর্থিক
অন্তর্ভুক্তির বাহন
হিসেবে নিজেদের
যুক্ত করেছে,
যেখানে গ্রাহকসেবা
ও তাদের
সন্তুষ্টিই শেষ
কথা।
৩.
পরিশেষে বিকাশের
কাজের একটি
মৌলিক দিক
তুলে ধরি,
তা হলো
গ্রাহকের অর্থ
পাওনাদারদের অ্যাকাউন্টে
পৌঁছে দেয়া।
যেমন ধরুন,
গ্রাহক বিকাশ
দিয়ে বিদ্যুৎ
বিল দিচ্ছেন,
আর বিকাশ
বিদ্যুৎ সরবরাহকারীর
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে
টাকাটা জমা
দিচ্ছে। এক্ষেত্রে
গ্রাহকের অর্থের
ওপর ঝুঁকি
কমানোর জন্য
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ
ব্যাংক যারা
পেমেন্ট সেবা
দেবে তাদের
লেনদেনের পরিমাণের
ওপর ভিত্তি
করে মূলধনের
পর্যাপ্ততা প্রণয়নের
কথা বিবেচনা
করে দেখতে
পারে। ফলে
বাংলাদেশ ব্যাংকের
কাছে সার্বক্ষণিক
একটি নির্দিষ্ট
পরিমাণ টাকা
জমা থাকবে।
এতে আর্থিক
নিরাপত্তা আরো
সুদৃঢ় হবে।
বাংলাদেশ বিশ্বের
একটি সফল
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির
দৃৃষ্টান্ত। ১০
বছরে এমএফএস
খাতটি ধীরে
ধীরে দানা
বাঁধছে। দ্রুত
বর্ধনশীল এমএফএস
খাত প্রতিনিয়ত
নতুন নতুন
সব চ্যালেঞ্জের
মধ্য দিয়ে
এগিয়ে চলেছে।
গ্রাহকের আস্থা
অর্জনের মধ্য
দিয়ে চ্যালেঞ্জকেই
আমরা সম্ভাবনা
হিসেবে দেখি।
আস্থাই জনস্বার্থ
সম্পর্কিত সেবার
মূল শক্তি।
স্বাধীনতার ৫০
বছরে এই
হোক আমাদের
লক্ষ্য ও
অঙ্গীকার।
কামাল কাদীর: বিকাশের প্রধান নির্বাহী





