দ্রুত ক্রমবর্ধমান
জনসংখ্যার
সাথে
পাল্লা
দিয়ে
দেশের
আবাসন
খাতের
প্রয়োজনীয়তা
বাড়ছে
দিন
দিন।
যদিও
করোনা
মহামারীর
কারণে
আবাসন
প্রকল্পে
ধীরগতি
পরিলক্ষিত
হচ্ছে।
তবে
ধারণা
করা
হচ্ছে,
সময়ের
পরিপ্রেক্ষিতে
বাংলাদেশের
শহরগুলোতে
বিশেষ
করে
ঢাকা
শহরের
আবাসন
খাতের
চাহিদা
আরো
সম্প্রসারণ
হবে
অচিরেই।
তাছাড়া
বর্তমানে
শহরগুলোতে
মেট্রোরেল
থেকে
শুরু
করে
অন্যান্য
অবকাঠামোগত
উন্নয়নের
যে
প্রকল্প
চলমান
সেগুলো
সম্পন্ন
হলে
ধারণা
করা
হচ্ছে
নাগরিক
জীবনযাপনে
তার
ইতিবাচক
প্রভাব
পড়বে।
সেক্ষেত্রে
এটিও
প্রতীয়মান,
আবাসন
খাতের
ওপর
এর
বিশেষ
প্রভাব
পড়তে
পারে!
যেমন
ধরা
যাক
জমির
মূল্যবৃদ্ধি
পেতে
পারে!
নির্মাণসামগ্রীর
মূল্য
বেড়ে
যাওয়ার
কারণে
আবাসন
ক্ষেত্রে
অ্যাপার্টমেন্টের
মূল্য
আগের
তুলনায়
বেড়ে
যাওয়ার
সম্ভাবনা
রয়েছে।
তাছাড়া
নাগরিকদের
অন্যান্য
জীবন-জীবিকার
ব্যয়
বেড়ে
যাওয়ার
সম্ভাবনা
রয়েছে
সামগ্রিক
অর্থে,
যার
প্রভাব
সরাসরি
শহরে
বসবাসরত
বিশেষ
করে
মধ্যবিত্ত
পরিবারগুলোর
ওপর
আরোপিত
হবে।
এতে
জীবনযাত্রা
আরো
কষ্টসাধ্য
হতে
পারে
ঊর্ধ্বগতিসম্পন্ন
ব্যয়ভারের
কারণে।
এই নগরকেন্দ্রিক
আবাসন
খাতের
প্রধান
উৎস
বেসরকারি
আবাসন
খাত।
যদিও
বর্তমানে
সরকারিভাবে
মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত
বিশেষ
করে
নিম্নবিত্তদের
আবাসন
খাতের
বিভিন্ন
প্রকল্প
হাতে
নেয়া
হয়েছে।
ঢাকা
শহরের
প্রতি
বর্গকিলোমিটারে
বসবাস
করছে
প্রায়
৫০
হাজার
মানুষ,
যা
বিশ্বের
ঘনবসতিপূর্ণ
নগর
হিসেবে
প্রথম
সারিতে
অবস্থান
করে।
নিজেদের
আর্থসামাজিক
উন্নয়নের
লক্ষ্যে
প্রতিদিন
দেশের
বিভিন্ন
প্রান্ত
থেকে
এ
শহরে
ছুটছে
হাজারো
মানুষ।
সঙ্গে
তাদের
পরিবারগুলো,
যাদের
বেশির
ভাগই
মধ্যবিত্ত
পরিবার।
আমরা
নিম্নবিত্ত
পরিবারগুলোর
আবাসন
সমস্যা
নিয়ে
কথা
বলি।
বিভিন্ন
প্রকল্প
গ্রহণ
করি
তাদের
আবাসন
সমস্যা
সমাধানের
জন্য।
তাছাড়া
একটি
শহরের
উচ্চবিত্ত
পরিবারগুলোর
আবাসন
সমস্যার
সমাধানকল্পে
দেশের
বিশেষ
করে
বেসরকারি
খাত
বিভিন্ন
আবাসন
প্রকল্প
গড়ে
তোলে,
যা
অত্যন্ত
ব্যয়বহুল।
আর
নাগরিকদের
উপার্জনের
সক্ষমতা
বৃদ্ধি
পাওয়ার
কারণে
তারা
সাধারণত
ভালো
জায়গায়
বসবাস
করতে
চায়।
সেক্ষেত্রে
আমাদের
দেশের
সরকারি-বেসরকারি
খাত
যদিও
বিভিন্নভাবে
তাদের
চাহিদা
পূরণের
চেষ্টা
করে
যাচ্ছে।
তবে
এ
কথা
বলে
নেয়া
অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ,
এই
মধ্যবিত্ত
পরিবারগুলোর
আবাসন
সমস্যা
নিয়ে
এখনো
সেভাবে
যুগোপযোগী
করে
ভাবা
হচ্ছে
না।
আর
মধ্যবিত্ত
পরিবারগুলোর
জন্য
কিছু
আবাসন
প্রকল্প
গড়ে
উঠলেও
আর্থসামাজিক
প্রেক্ষিতে
সেটি
আসলেই
মধ্যবিত্তদের
হাতের
নাগালের
মধ্যে
আছে
কিনা
সে
বিষয়গুলো
খতিয়ে
দেখা
প্রয়োজন!
আরেকটি
প্রশ্ন
থেকে
যায়
বৈকি!
স্বল্পমূল্যের
আবাসন
প্রকল্প
নামের
যে
প্রকল্পগুলো
সম্প্রসারণ
হচ্ছে
দিনকে
দিন
তা
প্রায়োগিক
অর্থে
আসলেই
স্বল্পমূল্যের
কিনা
তা
দেখা
প্রয়োজন।
এর
সাথে
মধ্যবিত্ত
পরিবারগুলোর
চাওয়া-পাওয়া
আর
আর্থিক
সামর্থ্যের
একটি
পারস্পরিকতা
রয়েছে।
কারণ
এ
অ্যাপার্টমেন্টগুলোর
দাম
বাড়ছে
দ্রুতগতিতে।
উদাহরণ
হিসেবে
নব্বইয়ের
দশকে
যেখানে
অ্যাপার্টমেন্টগুলোর
প্রতি
বর্গফুটের
দাম
ছিল
দুই-আড়াই
হাজার
টাকা,
এক
দশক
পরে
সেই
দাম
বেড়ে
যায়
৩-৪
হাজার
টাকা
পর্যন্ত।
বর্তমানে
প্রতিটি
অ্যাপার্টমেন্টের
প্রতি
বর্গফুটের
দাম
প্রায়
পাঁচগুণ
বেড়েছে।
কিছু
কিছু
বিশেষ
এলাকার
ক্ষেত্রে
এর
বাজারমূল্য
বৃদ্ধির
পরিমাণ
তার
থেকেও
বেশি।
তাই
আমাদের
ভাবতে
হবে
স্বল্পমূল্যের
আবাসন
প্রকল্পগুলোর
ধারণা
কেমন
হওয়া
প্রয়োজন?
যেখানে
ক্রয়মূল্যের
সাথে
নাগরিকদের
চাওয়া-পাওয়ার
একটি
সামঞ্জস্য
থাকে।
কারণ
বিশ্বের
শহরগুলোতে
মধ্যম
আয়ের
মানুষের
সংখ্যা
ক্রমাগত
বাড়ছে,
বিশেষ
করে
২০০০
সাল
থেকে।
টেকসই
উন্নয়নের
লক্ষ্য
অনুযায়ী
২০৩০
সালের
মধ্যে
মধ্যম
আয়ের
জনসংখ্যা
হবে
মোট
জনসংখ্যার
৩৫-৪৫
শতাংশ।
যদিও
আমাদের
দেশে
জনসংখ্যার
বিন্যাস
এবং
তাদের
বার্ষিক
উপার্জনের
পরিমাণ
কেমন
হতে
পারে
তার
নির্দিষ্ট
ও
সুস্পষ্ট
কোনো
রূপরেখা
নেই।
তবে
এ
কথা
বলে
নেয়া
ভালো,
এই
মধ্যম
আয়ের
পরিবারগুলোর
সদস্যরা
বেশির
ভাগ
শিক্ষিত-চাকরিজীবী
এবং
যারা
দেশের
সামগ্রিক
অর্থনৈতিক
উন্নয়নে
অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
পালন
করছে।
তাছাড়া যেহেতু
আমাদের
দেশের
মানুষের
মাথাপিছু
আয়
ক্রমেই
বাড়ছে
তাই
শুধু
শহরকেন্দ্রিক
চিন্তা
করলেই
হবে
না।
গ্রাম
কিংবা
মফস্বল
সব
জায়গাতেই
কিন্তু
আবাসন
শিল্পের
চাহিদা
বাড়ছে।
তাই
শুধু
শহুরে
আবাসন
প্রকল্পগুলোর
রূপরেখা
কেমন
হবে
সে
বিষয়গুলোর
সাথে
গ্রাম
কিংবা
মফস্বলের
আবাসন
প্রকল্পগুলোর
অবকাঠামোর
বিকাশ
কেমন
হবে
সেগুলো
নিয়ে
বৃহৎ
পরিকল্পনা
দরকার।
নতুবা
একদিন
হয়তোবা
শহরগুলোর
মতো
আমাদের
গ্রামগুলোও
বসবাসের
অনুপযোগী
হয়ে
উঠবে
অপরিকল্পিত
অবকাঠামোর
কারণে।
এ
বিষয়গুলোকে
অবশ্যই
প্রাধান্য
দিয়ে
বছরব্যাপী
স্বল্প
ও
দীর্ঘমেয়াদি
পরিকল্পনা
করতে
হবে।
আমাদের দেশের
আবাসন
ব্যবসার
বয়স
প্রায়
অর্ধশত
বছরের
কাছাকাছি।
তবে
এ
আবাসন
শিল্পের
বিকাশ
দ্রুতগতিতে
পরিলক্ষিত
হয়
১৯৯৫
সালের
পর
থেকে।
ঢাকার
জনসংখ্যার
চাপ
সামলাতে
বেসরকারি
আবাসন
খাতের
ভূমিকা
অপরিসীম।
বিশেষ
করে
রিয়েল
এস্টেট
অ্যান্ড
হাউজিং
অ্যাসোসিয়েশন
অব
বাংলাদেশ
(রিহ্যাব) ১৯৯১
সালে
যখন
প্রতিষ্ঠিত
হয়
তার
সদস্য
সংখ্যা
ছিল
মাত্র
১১।
কিন্তু
২০১৬-এর
হিসাব
অনুযায়ী
রিহ্যাবের
সদস্য
সংখ্যা
১
হাজার
১৫১।
বর্তমানে
তা
আরো
বেড়েছে।
তথ্য
অনুযায়ী
প্রতি
বছর
প্রায়
১০
হাজার
অ্যাপার্টমেন্ট
ইউনিট
রিহ্যাব
সদস্য
কর্তৃক
প্রস্তুত
করা
হয়।
দেশের
মোট
জিডিপির
১২-১৫
শতাংশ
জোগান
দেয়
এ
আবাসন
খাত।
তাছাড়া
বর্তমানে
আমাদের
দেশের
মানুষের
উপার্জনের
সক্ষমতা
বেড়েছে।
তবে
গবেষণায়
উঠে
এসেছে,
ঢাকা
শহরের
প্রতি
বছর
প্রায়
৩০
হাজার
অ্যাপার্টমেন্ট
ইউনিটের
চাহিদা
রয়েছে,
যা
বর্তমানে
জোগানের
তুলনায়
দুই-তিন
গুণের
কাছাকাছি।
তাছাড়া
শহরে
বসবাসরত
পরিবারগুলোর
মধ্যে
একক
পরিবারগুলো
বেশি
পরিলক্ষিত
হচ্ছে
এবং
চাহিদা
মোতাবেক
জমির
বর্ধমান
মূল্য
এবং
অ্যাপার্টমেন্টগুলোর
মূল্যবৃদ্ধি
হওয়ার
কারণে
ফ্ল্যাটের
আকার
ছোট
হয়ে
আসছে
ক্রেতার
চাহিদা
অনুযায়ী।
পরিসংখ্যান
ব্যুরোর
হিসাব
অনুযায়ী
বর্তমানে
ঢাকা
শহরে
বসবাসরত
পরিবারগুলোর
গড়
আকার
৪
দশমিক
২।
দেখা
যাচ্ছে
মধ্যবিত্ত
পরিবারগুলো
৮০০
থেকে
১
হাজার
২০০
বর্গফুটের
অ্যাপার্টমেন্ট
বেশি
পছন্দ
করছে।
সেক্ষেত্রে
এ
পরিবারগুলোর
সদস্য
হয়
চার-পাঁচজন
এবং
এ
পরিবারগুলোর
ন্যূনতম
একজন
সদস্য
শহরের
কোনো
না
কোনো
চাকরির
সাথে
সম্পর্কযুক্ত।
তাছাড়া
গবেষণায়
দেখা
যায়,
শহরে
নাগরিকরা
সেসব
জায়গায়
তাদের
আবাসন
গড়ে
তুলতে
চায়
কিংবা
ক্রয়
করতে
চায়
যেখান
থেকে
তাদের
কর্মক্ষেত্র
বিশেষ
করে
তাদের
ছেলেমেয়েদের
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের
দূরত্ব
কম।
তাছাড়া
মধ্যবিত্ত
কিংবা
নিম্নমধ্যবিত্ত
পরিবারগুলো
শহরকেন্দ্রিক
বসবাসের
দরুন
উচ্চমূল্যের
এ
অ্যাপার্টমেন্টগুলো
ক্রয়ের
ক্ষেত্রে
কিংবা
মাসিক
ভাড়া
বাবদ
তাদের
উপার্জনের
প্রায়
অর্ধেক
কিছু
কিছু
ক্ষেত্রে
অর্ধেকের
বেশি
ব্যয়
করে।
সেক্ষেত্রে
তারা
তাদের
দৈনন্দিন
জীবনের
বিভিন্ন
চাহিদা
বিশেষ
করে
খাবারদাবার,
পোশাক
কিংবা
চিত্তবিনোদনের
বিভিন্ন
ইচ্ছাগুলোকে
সীমিত
করছে,
যার
প্রভাব
পড়ছে
তাদের
মানসিক
স্বাস্থ্যের
ওপর।
তথ্য-উপাত্ত
বিশ্লেষণ
করলে
দেখা
যায়,
এ
নিম্নবিত্ত
কিংবা
মধ্যবিত্ত
পরিবারগুলোর
৬০-৭০
শতাংশ
নতুন
একটি
অ্যাপার্টমেন্ট
ক্রয়
কিংবা
উন্নত
পরিবেশে
তাদের
বসবাসের
মাসিক
বাসা
ভাড়া
বহন
করা
অত্যন্ত
কষ্টসাধ্য।
যাকে
আমরা
বলি
‘আনঅ্যাফোর্ডেবল’।
সে
কারণেই
এ
পরিবারগুলো
তাদের
উপার্জনের
সাথে
সক্ষমতা
রেখে
ঘনবসতিপূর্ণ
পরিবেশে
একটু
কম
মূল্যের
বাসা
ভাড়া
বাবদ
জীবন
যাপন
করছে।
যেখানে
বসবাসের
সুস্থ
ও
সুন্দর
পরিবেশ
বিশেষ
করে
যাকে
আমরা
বলি
স্বাস্থ্যসম্মত
পরিবেশ
তার
অভাব
অনুধাবিত
হচ্ছে
দিনকে
দিন।
এ
ঘনবসতিপূর্ণ
আবাসন
শিল্পগুলো
অত্যন্ত
অপরিকল্পিতভাবে
গড়ে
উঠছে।
একদিকে
সেখানে
বসবাসরত
নাগরিকদের
স্বাস্থ্যের
ওপর
নেতিবাচক
প্রভাব
ফেলছে।
অন্যদিকে
সামগ্রিক
অর্থে
একটি
শহরের
পরিবেশকেও
দূষিত
করছে।
শহরটি
হয়ে
উঠছে
বসবাসের
অযোগ্য।
এখানে উল্লেখ্য,
আবাসন
খাতগুলো
এ
ধরনের
প্রকল্পগুলোর
জন্য
বিশেষ
করে
অ্যাপার্টমেন্টের
বর্গফুট
কিংবা
আকারের
দিকে
বেশি
গুরুত্ব
আরোপ
করছে।
যেমন
একটি
অ্যাপার্টমেন্টে
কয়টি
বেডরুম
থাকবে
কিংবা
কয়টি
বারান্দা
থাকবে,
এ
ধরনের
বস্তুগত
বিষয়গুলোকে।
সেখানে
খরচের
ব্যাপারগুলো
মুখ্য
হয়ে
উঠছে।
যে
বিষয়টির
দিকে
আরেকটু
নজর
দিতে
হবে
সেটি
হচ্ছে
এ
শহরে
বেড়ে
ওঠা
ঘনবসতিপূর্ণ
যে
বহুতলবিশিষ্ট
আবাসন
প্রকল্প
রয়েছে,
যেখানে
হয়তো
নাগরিকদের
চাহিদা
অনুযায়ী
বিভিন্ন
ধরনের
ছোট
ছোট
অ্যাপার্টমেন্ট
সন্নিবেশের
মাধ্যমে
আমরা
কম্প্যাক্ট
লিভিং
তৈরি
করতে
চাচ্ছি
অর্থাৎ
অল্প
জায়গায়
বসবাস
করতে
চাচ্ছি
সেসব
আবাসন
প্রকল্প
কী
ধরনের
নেতিবাচক
প্রভাব
ফেলতে
পারে
জনজীবনে
সেদিকে।
কারণ
অনেকাংশেই
দেখা
যায়,
অল্প
জায়গায়
বেশি
মানুষের
বসবাসের
জন্য
যে
ধরনের
প্রকল্প
গড়ে
উঠেছে
সেগুলোকে
দেখলে
অনেক
সময়
বহুতলবিশিষ্ট
বস্তি
মনে
হতে
পারে!
আমাদের
ভেবে
দেখতে
হবে
ভবিষ্যৎ
পরিণতির
কথা।
শুধু
বসবাসের
জায়গা
প্রদানের
মাধ্যমে
সমস্যা
সমাধান
হবে
না,
বরং
এর
সাথে
ভবিষ্যতে
আরো
অনেক
ধরনের
স্বাস্থ্যগত
কিংবা
সামাজিক
সমস্যাও
সংযুক্ত
হতে
পারে,
যা
শহরের
সামগ্রিক
অবকাঠামোকে
প্রভাবিত
করতে
পারে
নেতিবাচকভাবে।
যদিও অতি
অল্প
জায়গায়
কীভাবে
স্বাস্থ্যসম্মতভাবে
বসবাস
করা
যায়
এ
ধারণা
স্থাপত্যের
পরিভাষায়
নতুন
কিছু
নয়।
এমনকি
টেকসই
উন্নয়ন
লক্ষ্যমাত্রায়
এ
ধারণার
কথা
উল্লেখ
রয়েছে।
তবে
আমাদের
দেশে
বর্তমানে
যে
আবাসন
প্রকল্পগুলোকে
দেখছি,
যা
ক্রমবর্ধমান
নগরকেন্দ্রিক
আবাসনের
চাপ
কমানোর
জন্য
চেষ্টা
করছে
সেখানে
একটি
প্রশ্ন
থেকে
যায়!
সাময়িকভাবে
হয়তোবা
এ
সুউচ্চ
ঘনবসতিপূর্ণ
আবাসন
প্রকল্পগুলো
বসবাসের
সমস্যার
সমাধান
করতে
পারে।
হয়তোবা
একটু
কম
খরচে
দেশের
মধ্যবিত্ত
কিংবা
নিম্নমধ্যবিত্ত
পরিবারগুলো
সেগুলো
কিনতে
পারে।
তবে
সেখানে
বসবাসরত
পরিবারগুলোর
শারীরিক
বা
মানসিক
স্বাস্থ্যের
ওপর
তাদের
বসবাসের
জায়গা
কী
প্রভাব
বিস্তার
করছে
সেগুলো
নিয়ে
আরো
বেশি
গবেষণা
প্রয়োজন।
কারণ
আমরা
জানি
যে
একটি
বসবাসের
জায়গার
সাথে
বসবাসকারীর
শারীরিক
ও
মানসিক
একটি
সম্পর্ক
তৈরি
হয়।
বিশেষ
করে
সেই
পরিবারের
নারী,
ছোট
ছেলেমেয়ে
কিংবা
বয়স্কদের
ওপর।
তাছাড়া
আমাদের
ঢাকা
শহরের
মতো
ঘনবসতিপূর্ণ
একটি
জায়গায়
বিষয়টি
অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ
সরকারি
ও
বেসরকারি
মানসিক
স্বাস্থ্য
সংস্থার
জরিপে
দেখা
গেছে,
বিশেষ
করে
আমাদের
ঢাকা
শহরে
প্রায়
অর্ধেকের
বেশি
নাগরিক
কোনো
না
কোনোভাবে
মানসিক
অস্থিরতায়
ভুগছে,
যার
প্রবণতা
দিনকে
দিন
বাড়ছে।
এমনকি
শহরভিত্তিক
স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও
বর্তমানে
মানসিক
সমস্যার
বিষয়টি
অত্যন্ত
গুরুত্ব
পাচ্ছে।
যদিও
এর
পেছনে
অনেকগুলো
কারণ
রয়েছে।
তবে
বসবাসের
পরিবেশ
অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ
একটি
কারণ
হিসেবে
বিভিন্ন
গবেষণায়
চিহ্নিত।
বিশেষ
করে
এই
মহামারীর
সময়ে
বসবাসের
জায়গার
সাথে
মানুষের
যে
আন্তঃসম্পর্ক
ও
স্বাস্থ্যের
প্রভাব
ওতপ্রোতভাবে
জড়িত,
সে
বিষয়টি
আমরা
ভালোভাবে
উপলব্ধি
করতে
পেরেছি।
তাই
ভবিষ্যৎ
আবাসন
প্রকল্প
নির্মাণে
বিষয়টি
আলোকপাত
ও
সমাধানকল্পে
বিশেষ
আবাসন
শিল্প
নির্মাণ
কোডের
ব্যবস্থাপনা
করতে
হবে।
বিশেষ
করে
শহরে
বসবাসরত
মধ্যবিত্ত
ও
নিম্নমধ্যবিত্ত
পরিবারগুলোর
জন্য
যাদের
সেই
আর্থিক
সক্ষমতা
নেই
তাদের
বসবাসের
জায়গা
ইচ্ছা
অনুযায়ী
পরিবর্তন
ও
পরিবর্তন
করার।
সেক্ষেত্রে
বসবাসকারীর
দৈনন্দিন
জীবনের
চাহিদা
ও
মনস্তাত্ত্বিক
বিকাশের
দিকগুলোকে
গবেষণার
মাধ্যমে
খুঁজে
বের
করতে
হবে
এবং
সেগুলোকে
প্রায়োগিক
করতে
হবে
আবাসন
শিল্পে।
যেকোনো
ধরনের
‘পাবলিক
হাউজিং’য়ের
স্থান
নির্ধারণ
কিংবা
নকশা
প্রণয়নের
ক্ষেত্রে
বিষয়ভিত্তিক
সামগ্রিকতা
যেমন
বসবাসকারীর
আর্থসামাজিক
অবস্থা,
ধর্ম-বর্ণ,
সাংস্কৃতিক
পরিমণ্ডল
বিবেচনা
করতে
হবে
সুচারুভাবে।
এমনকি
নির্মিত
হয়ে
যাওয়া
ঘনবসতিপূর্ণ
আবাসন
প্রকল্পগুলোকে
কীভাবে
নতুন
করে
বিন্যাস
করা
যায়
সেগুলো
নিয়েও
বিশদ
ভাবনা
জরুরি।
এক্ষেত্রে
আমরা
করোনা
পরিস্থিতির
আগে
ও
পরের
নাগরিক
অভিজ্ঞতাগুলোকে
কাজে
লাগাতে
পারি
এবং
সমন্বয়
করতে
পারি
বর্তমানে
প্রচলিত
বিল্ডিং
কোডে।
তাছাড়া আমাদের
আরো
ভাবতে
হবে
বাসস্থানের
শক্তি
নিরাপত্তা
ও
জ্বালানি
ব্যবহারের
কথা।
আবাসন
প্রকল্পগুলোকে
এমনভাবে
ঢেলে
সাজাতে
হবে
যেখানে
শক্তির
অপচয়
কম
হয়।
সেটি
পুরনো
আবাসন
প্রকল্প
থেকে
শুরু
করে
নবনির্মিত
কিংবা
ভবিষ্যতে
নির্মিতব্য
আবাসন
প্রকল্পগুলোর
ক্ষেত্রেও
সমানভাবে
প্রযোজ্য
হবে।
বিশেষ
করে
নতুন
ও
পুরনো
আবাসন
প্রকল্পগুলোর
শ্রেণীবিন্যাস
করে
সেগুলোকে
একটি
নির্দিষ্ট
রেটিং
সিস্টেমের
আওতায়
আনা
যেতে
পারে।
এ
রেটিং
সিস্টেম
আবাসন
প্রকল্পভেদে
ভিন্ন
হতে
পারে।
সেক্ষেত্রে
ছয়তলার
অধিক
বহুতল
ভবনগুলোর
জন্য
ভিন্নভাবে
চিন্তা
করা
যেতে
পারে
সেখানকার
পারিপার্শ্বিক
প্রকৃতি
ও
পরিবেশের
কথা
চিন্তা
করে।
সেই
সাথে
এনার্জি
রেট্রোফিটিংয়ের
মাধ্যমে
শক্তির
অপচয়
কমানো
যেতে
পারে
যা
বহির্বিশ্বে
সমাদৃত।
তাছাড়া
এলাকাভিত্তিক
শক্তি
সংরক্ষণ
নীতিমালা
এ
আবাসন
প্রকল্পগুলোর
জন্য
প্রণয়ন
করা
যেতে
পারে।
সেক্ষেত্রে
বসবাসকারী
জীবনযাত্রার
মান
কিংবা
গতিপ্রকৃতি
ইত্যাদি
বিষয়ে
বিচার-বিশ্লেষণ
করেই
নির্দিষ্ট
শক্তি
সংরক্ষণ
নীতিমালা
ভিন্ন
ভিন্ন
শহরের
জন্য
প্রণয়ন
ও
প্রয়োগ
করা
যেতে
পারে,
যা
আমাদের
দেশের
জন্য
এ
মুহূর্তে
অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
এ কথা
প্রতীয়মান
যে
করোনা-পরবর্তী
সময়ে
স্থাপত্যচর্চায়
বিশেষ
করে
আবাসন
শিল্প
বিকাশে
বিশেষ
একটি
পরিবর্তন
আসবে।
তবে
সেই
পরিবর্তনটি
কীভাবে
বর্তমান
নাগরিক
জীবনযাপনের
সাথে
সমন্বিত
হবে
কিংবা
অভিযোজিত
হবে
সেগুলো
নিয়ে
বিস্তর
গবেষণার
প্রয়োজন।
কারণ
আমাদের
মতো
জনবহুল
একটি
দেশের
নিজস্ব
কিছু
প্রেক্ষাপট
রয়েছে,
যা
অন্যদের
তুলনায়
সম্পূর্ণ
ভিন্ন
ও
জটিল।
সেখানে
নাগরিকদের
সামাজিক-অর্থনৈতিক
কিংবা
স্বাস্থ্য
সম্পর্কিত
বিষয়গুলো
বসবাসের
জায়গার
সাথে
প্রত্যেকটি
ধাপে
জড়িত।
সেই
সঙ্গে
রয়েছে
নাগরিকদের
ভবিষ্যৎ
চাহিদার
সমন্বয়।
আর
আমাদের
দেশের
ভবিষ্যৎ
আবাসন
শিল্পকে
অবশ্যই
অর্থমূল্যের
সাথে
এ
বিষয়গুলো
চ্যালেঞ্জ
হিসেবে
নিতে
হবে
মানসম্পন্ন
অবকাঠামো
উন্নয়নের
লক্ষ্যে।
আমাদের
দেশের
স্থাপনা
নির্মাণ
শিল্পের
আধুনিকায়ন
প্রয়োজন।
যেকোনো
ধরনের
প্রকল্প
বিশেষ
করে
আবাসিক
এলাকায়
যে
প্রকল্পগুলো
হচ্ছে
সেগুলো
নির্মাণের
সময়
কোনোভাবেই
পরিবেশ
দূষণ
না
হয়
সেদিকে
সুনির্দিষ্ট
নীতিমালা
প্রণয়ন
ও
নির্মাণাধীন
স্থাপনায়
প্রয়োগ
করতে
হবে।
সবশেষে
কর্মক্ষেত্রে
নির্মাণ
শিল্পে
শ্রমিকদের
স্বাস্থ্যবিধি
ও
সামগ্রিক
নিরাপত্তার
বিষয়টি
সর্বাঙ্গীণভাবে
গুরুত্ব
দিতে
হবে,
যা
এখনো
উপেক্ষিত।
সজল চৌধুরী: শিক্ষক, স্থপতি ও স্থাপত্য-পরিবেশবিষয়ক গবেষক





