বিগত বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে আমরা পরিকল্পিত শিল্পায়নের দিকে অগ্রসর হয়েছি। শুরুটা হয়েছে ১৯৫৭ সালে, যখন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) গঠিত হয়। কিন্তু দেশের শিল্পায়নের বড় ক্যানভাস তাতে সাজানো যায় না। তবে এর ভিত্তিতে দেশের ঢাকা, চট্টগ্রামে বেশকিছু শিল্পায়ন হয়। কিছু জায়গায় সফল হয়েছে আবার কিছু কিছু জায়গায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি।

১৯৮০ সালে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি অ্যাক্ট করা হয় অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। বিশেষ করে এশিয়ার চীন, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডের সফলতার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশেও এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় রফতানি বৃদ্ধির জন্য। যদিও আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় চেষ্টাটা হয়েছে সীমিত পরিসরে। ৪০ বছরে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা) আটটি ইপিজেড করেছে ও এর আওতায় তারা ২ হাজার ২৯০ একর জমি উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এনেছে।

এ পর্যায়ে বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির আলোচনাটা প্রাসঙ্গিক। যার নেপথ্যে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত প্রবাসী আয়। আমাদের দেশের শ্রমিকরা বাইরে গিয়ে অর্থ আয় করে দেশে পাঠানোর মাধ্যমে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে শুরু করে, তারা পরিবার-পরিজনের কাছে অর্থ পাঠায়, ফলে তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। এভাবে আমাদের মানুষের গার্হস্থ্য চাহিদা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশে বিভিন্ন শিল্প স্থাপনের প্রয়োজন দেখা দেয়। আবার একই সঙ্গে শুরু হয় আমদানির বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া। যেহেতু অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়েছে সেগুলো মেটানোর জন্য অনেক বড় বড় শিল্প দেশের বিভিন্ন জায়গা যেমন নায়ারণগঞ্জ, আশুলিয়া, হবিগঞ্জ, মোংলা, কালুরঘাটসহ আরো কয়েকটি জায়গায় স্থাপিত হয়। এভাবে শিল্পায়ন ক্রমে প্রায় সব জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়ে।

মুশকিলটা হচ্ছে, শিল্পায়নের অতিরিক্ত ছড়িয়ে যাওয়ার ফলে সরকারকে কিছুটা সমস্যায়ও পড়তে হয়। যেমন, যেখানে যেখানে কারখানা প্রতিষ্ঠা হয়েছে এমনসব জায়গায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগসহ আরো কিছু সুবিধা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। অথচ শিল্পায়ন যদি পরিকল্পিত হয়, তাহলে সুনির্দিষ্টভাবে একটা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুতের সংযোগ টেনে দেয়া যায় কিংবা গ্যাস ও পানির একটা বড় সংযোগ টেনে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজগুলো চালিয়ে নেয়া সম্ভব হয়। আলাদা করে বিচ্ছিন্নভাবে শত শত সংযোগ দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

বাংলাদেশে ২০১০ সালে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে প্রকৃত অর্থে শিল্পায়নের গতির বৃদ্ধি ঘটে ২০১১ সালের দিকে। ২০১৪ সালের শেষে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়। এরপর বাকিটা ইতিহাস। দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ শুরু করে বেজা। কাজটি করার জন্য বিদেশ থেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে আসা হয়। যেমন বেজা জাপানের সুমিতমো করপোরেশনকে নিয়ে আসে। নায়ারণগঞ্জের আড়াইহাজারে ১ হাজার একর জমিতে জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ করা হচ্ছে। বেজা কাজ করছে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৯০০ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ করছে চীনের হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। এ ধরনের বড় বড় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।

এছাড়া আরো একটি গুণগত পরিবর্তন আনা হয়। সে প্রসঙ্গটা এ আলোচনায় উল্লেখ করা জরুরি। বেসরকারি খাতকে আমরা বলি ‘ইঞ্জিন অব আওয়ার ইকোনমিক গ্রোথ’। বেজা এ বেসরকারি খাতকে শিল্প উন্নয়নের মূল ভূমিকায় নিয়ে আসে। বেসরকারি খাতকে ‘জোন ডেভেলপার’ হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে। আবদুল মোনেম গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, সিটি গ্রুপসহ অন্যরা প্রাইভেট ইকোনমিক জোন করার কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত ১১টি প্রাইভেড ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার মধ্যে মেঘনায় ১১টি বিদেশী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে এসেছে। এ জোনগুলোতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। পরিকল্পিত শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা যুগান্তরকারী পদক্ষেপ হিসেবেই আমরা মনে করি। এক্ষেত্রে নতুন নতুন বেসরকারি জোন নিয়ে আসা অর্থনীতির স্বার্থে খুবই জরুরি। এতে করে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। 

রাষ্ট্রীয় স্বার্থে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সমর্থন জোগানোর কাজগুলো যদি অব্যাহত থাকে ও নতুন নতুন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়টির দিকে যদি জোর দেয়া হয়, তাহলে যেখানে-সেখানে শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার প্রবণতা কমে আসবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরীতে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাবের অনুমোদন হয়েছে—এটা কিন্তু একটি জায়গাতেই। আমরা আশা করছি, অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে এখানে। যেখানে ১৫ লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

বেজা সিরাজগঞ্জে যেমন বড় একটা উদ্যোগ নিয়েছে—১ হাজার ৪২ একর জমিতে। তেমনি মৌলভীবাজার, জামালপুরেও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অন্য অঞ্চলগুলোতেও যদি এ ধরনের বড় উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা হয়, তাহলে ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা হবে। কারণ, তারা এক জায়গার মধ্যেই সব পাবে। বেজার পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের অনলাইনে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া হচ্ছে, বিভিন্ন দফতরে তাদের কাগজপত্র ছাড় করার জন্য যেতে হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষসহ ব্যবসায়িক কাগজপত্রের বিভিন্ন অনুমোদন ব্যবসায়ীরা বেজার মাধ্যমে থেকে পেয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠায় ব্যবসায়ীদের এ ধরনের সুবিধাপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করার বিষয়গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পায়নের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলেই আমি মনে করি।

বেজা বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কাছে নিজেদের অভূতপূর্ব গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। তবে এটি ধরে রাখার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের কাজ করে যেতে হবে। বেজার পক্ষ থেকে আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছি যাতে বিভিন্ন শিল্প বিকাশ লাভ করতে পারে। তবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার কাজটি কিন্তু ততটা সহজ নয়। আমরা সরকারি কর্মকর্তা, আমাদেরও কিন্তু শিল্প, শিল্পের প্রক্রিয়া, শিল্পের রূপান্তর ও ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে বোঝাপড়া থাকতে হবে।

একটা সময় কৃষি আমাদের অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে। এখন কৃষির অংশগ্রহণ কমেছে। এর মূল কারণ সেবা খাত ও শিল্পায়নের অবদান। আগামীতে যা আরো বাড়বে। তবে এর জন্য প্রো-ইন্ডাস্ট্রি, প্রো-প্রাইভেট সেক্টর দরকার, যা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকে। আমরা যদি তা করতে পারি তাহলে পরিকল্পিত শিল্পায়নের যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছে, তা আরো সফল হবে। রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হবে। বাজার বড় হবে। আমাদের অর্থনীতি প্রতিযোগিতা সক্ষম হবে।

আমি মনে করি, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপান্তরে আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর (বিএসএমএসএন) থেকে শুরু করে অন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে আমরা অনেক বড় পরিসরে করেছি। অর্থনৈতিক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল রূপান্তর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি করে দেয়া, সহজ করে দেয়া এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার ফলে। এক্ষেত্রে আগামী দিনগুলোয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বিভিন্ন প্রণোদনা ও ভর্তুকি প্রদানের পাশাপাশি নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে। ব্যবসায়ীরা যেন অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো ঘিরে আগ্রহী থাকে তা নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো থেকে পুরোপুরি সুফল পাব না।

যেকোনো কাজ আগে যারা শুরু করে তারা একটা উদাহরণ তৈরি করে। অন্যরা যখন আবার যাত্রা করে তখন তারা তা কমবেশী অনুসরণ করে। আমরা যখন সড়ক নির্মাণ করি, তখন অন্যদের উদাহরণগুলো সামনে রাখি। তবে আমরা তা আমাদের মতো করে করি। এ মুহূর্তে আমাদের কাছে হয়তো জাপানের মতো দক্ষ শ্রমশক্তি নেই কিংবা আমরা আমেরিকার মতো ১৮-২০ লেনের রাস্তা নির্মাণ করতে পারব না। আমাদের প্রস্তুতিগুলো হবে আমাদের উপযোগী। তবে তা করতে গিয়ে কোনোভাবেই কিছু কিছু জায়গাতে ছাড় দেয়া চলবে না। সরকারি সংস্থাগুলোর মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি। আমি মনে করি, বেজা এক্ষেত্রে সফল। বেজার স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি সততার সঙ্গে সেবা সরবরাহ করতে সমর্থ হয়েছে, যা খুবই জরুরি।

হয়তো ভূমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে অন্যান্য ইউটিলিটি সরবরাহ ও অবকাঠামো তৈরির বিষয় আমরা উন্নত দেশগুলোর মতো করে করতে পারিনি। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের চেষ্টার ঘাটতি ছিল না। যতটুকু ঘাটতি আছে তা আমরা আগামীতে অবশ্যই পূরণ করতে সক্ষম হব। তাতে আমরা বৈশ্বিক মানের সেবা প্রদান করতে পারব ও আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

২০৪০ সালের মধ্যে আমাদের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কথাটা যখন বলা হচ্ছে, তখন তা কিন্তু খণ্ডিতভাবে বলা হচ্ছে। আমরা ৭৫ হাজার একর জমিতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার কথা বলেছি। কেন আমরা এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি? কারণ আমাদের জমির পরিমাণ কম। তাছাড়া কৃষি জমিতে শিল্প সম্প্রসারণের বাস্তব অনেক অসুবিধাও রয়েছে। এ কারণে খুবই সামান্য পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বেশির ভাগ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে পানিতে নিমজ্জিত ভূমির ওপর। উপকূলে ২৪ কিলোমিটার বাঁধ দিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

৪০ বছরে আটটি ইপিজেড হয়েছে ২ হাজার ২৯০ একর জমিতে। তার মানে গড় হিসাবে প্রতিটি জমি ৩০০ একরের নিচে। এক্ষেত্রে আমরা যদি ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করি ও এর আকার ৩০০ একর করে হয় তাহলে কিন্তু ৩০ হাজার একর হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর একাই ৩০ হাজার একর আয়তনের। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য বেজা প্রায় ৬০ একর জমি বন্দোবস্ত/অধিগ্রহণ করেছে। তবে আমি মনে করি, দেশের শিল্পায়নের চাহিদার তুলনায় এ জমি যথেষ্ট নয়। আমরা যদি অন্যভাবে হিসাব করি তাহলে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে মাত্র ১৫ হাজার জমি বাকি রয়েছে। তবে আমি মনে করি এটা যথেষ্ট নয়। সম্প্রতি আমি দায়িত্ব থেকে অবসর নিয়েছি। কিন্তু তার আগে বেজা নিজস্ব উদ্যোগে টার্গেট রিভাইজ করা শুরু করে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ লাখ একর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আওতায় নিয়ে আসা হবে। যাতে ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ চাহিদাটা পূরণ করা সম্ভব হয়। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছরে আমরা যেহেতু ৬০ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছি, সেহেতু এ লক্ষ্যমাত্র পূরণেও সাফল্য ধরা দেবে বলে আমি মনে করি।

আমাদের অর্থনীতি প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে। আমরা আমাদের শিল্পায়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে চাই। ইকোনমিক জোনের আকার ছোট-বড় হওয়ার কারণে সংখ্যায় তারতম্য হলেও জমির পরিমাণ অনুসারে আমরা অনেক ভালো অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছি। এরই মধ্যে ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি আরো অনেক বেশি হবে। সরকার আমাদের নীতিগত যে সহায়তা দিয়েছে, তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রতিযোগিতা সক্ষম থাকাটা অনেক জরুরি। বিনিয়োগগুলো যাতে অন্য দেশে চলে না যায় সেজন্য নিজেদের প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আমাদের সেবা দেয়ার গতিকে আরো বেশি ত্বরান্বিত করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত সেবা, স্বচ্ছতা ও সততা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজকে আরো অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

 

পবন চৌধুরী: সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চিফ অ্যাডভাইজার, সিটি গ্রুপ