বলা হয়, শিক্ষায় সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ। আমরা জানি, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। প্রকৃতপক্ষে বাক্যটি এতবার বলা হয়েছে যে, এখন এর গুরুত্ব হারিয়ে গেছে। কারণ মুখে আমরা যতই বলি না কেন বাংলাদেশে শিক্ষা ততটুকু গুরুত্ব পাচ্ছে না। ১৯৭৪ সালে প্রথম যে শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বের হয়েছিল, সেখানে শিক্ষাকে মানব মূলধন বা সামাজিক পুঁজি হিসেবে স্বীকার করে এতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। সেখানে বাজেটের এক-চতুর্থাংশ এবং জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। আর আজকের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে আমরা দেখব, চলতি অর্থবছর শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩ শতাংশের কম। অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে যখন অর্থ ছিল না, দেশের অর্থনীতি মন্দায় পতিত হয়েছিল, খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছিল, তখন অর্থাভাব সত্ত্বেও শিক্ষার গুরুত্ব বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। এরপর হবে কারিগরি শিক্ষা। কারিগরি শিক্ষা হবে প্রয়োজন ও চাহিদাভিত্তিক অর্থাৎ দেশে কোন কোন কারিগরি শিক্ষার চাহিদা বেশি এবং কোন কোন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত জনবল দরকার এবং আর কী কী চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে। কারিগরি শিক্ষা হবে দেশ ও আন্তর্জাতিক চাহিদা সামনে রেখে। আর উচ্চশিক্ষায় যাবে তারাই, যারা মেধাবী।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই শিক্ষাকে গতানুগতিক ও গুরুত্বহীন করে রেখেছে। শিক্ষা খাতে বাজেট কমতে কমতে তলানিতে এসে ঠেকেছে। ইউনেস্কোর নিয়ম অনুসারে, প্রতিটি দেশকে অন্তত জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া উচিত। আমরা কোনো দিনও সেটি পাইনি। স্বাধীনতার পর যেটুকু গুরুত্ব শিক্ষার ক্ষেত্রে দেয়া হয়েছিল, তা আর পরে বজায় থাকেনি। প্রত্যাশা থাকবে, শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ অন্তত ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ হবে।
শিক্ষাকে গুরুত্ব দিলে দেশ এগোবেই। এক্ষেত্রে মালয়েশিয়াকে উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। দেশটির অবস্থা প্রথমে বাংলাদেশ থেকে খুব বেশি উন্নত ছিল না। মাথাপিছু আয় ছিল আমাদের দ্বিগুণ। অথচ এখন তাদের মাথাপিছু আয় ১২-১৪ গুণ বেশি। এর একমাত্র কারণ হলো মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় এসে ২০ বছরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষাকে।
মানবসম্পদ হচ্ছে সবচেয়ে বড় পুঁজি। শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তিকে বলা হয় মানব মূলধন। কারিগরি শিক্ষা দিয়ে জনগণকে দক্ষ করে তুললে তা হবে সবচেয়ে বড় পুঁজি। একটি দেশ প্রাকৃতিক সম্পদে ধনী হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, দেশটি সমৃদ্ধিশালী বা উন্নত হবে। বিশ্বের অনেক দেশ রয়েছে, এমন কোনো সম্পদ নেই, যা সেখানে নেই। যেমন— আফ্রিকার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো বা সুদানের কথা বলা যেতে পারে। নাইজেরিয়া পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। অ্যাঙ্গোলাও তেলসমৃদ্ধ। কিন্তু দরিদ্র। লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। কিন্তু দীর্ঘকাল শাসনকারীরা শিক্ষাকে গুরুত্ব না দেয়ায় দেশ কাঙ্খিত অগ্রসর হয়নি। এখন অবশ্য শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া শুরু করেছে দেশটি। প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগানোর জন্য দরকার বিজ্ঞানী, কারিগর, দক্ষ জনবল ও একটি উদ্যমী সরকার। সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ের মতো দেশ দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়েছে।
অন্যদিকে প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, যেমন— জাপান, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি রাষ্ট্র গুরুত্ব দিয়েছে মানবসম্পদে। এ দেশগুলো শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। মেইজি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে জাপানের অবস্থাও বাংলাদেশের মতো ছিল। কিন্তু চাহিদাভিত্তিক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল দেশটি। ১৮৭৭ সালে জাপানের টোকিওতে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হয়। ১৮৮০ সালে সেখান থেকে প্রথম গ্র্যাজুয়েটরা বের হয়। এ গ্র্যাজুয়েটদের ৯০ শতাংশ ছিল ফিজিকস, কেমিস্ট্রি ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করা। কারণ সে সময় দেশটিতে ফিজিসিস্ট, কেমিস্ট, ম্যাথমেটিশিয়ানের দরকার সবচেয়ে বেশি ছিল। তাই শুধু শিক্ষার হার বাড়ালেই হবে না। জানতে হবে কী ধরনের শিক্ষা প্রয়োজন।
আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, আমরা শিক্ষাকে কম গুরুত্ব দিয়ে এসেছি এবং ১৯৭৪ সালের শিক্ষা রিপোর্ট বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেইনি। এটি বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেত। এত লোক বেকার থাকত না। কারণ কারিগরি শিক্ষা গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশাকেও আকর্ষণীয় করা হতো। রিপোর্টে মেধাবীরা যাতে শিক্ষকতায় আসে, সে ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে এগুলো আর গুরুত্ব পায়নি।
শিক্ষায় উন্নতির প্রধান শর্ত যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকর্ষণ করা। ১৯৭৫ সালের পরে গতানুগতিক শিক্ষানীতি চালু করা হয়েছে। বাজার অর্থনীতির নামে শিক্ষাকেও বাজারের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা শুরু হয়ে যায়। ব্যাঙের ছাতার মতো স্কুল-কলেজ গড়ে উঠতে শুরু করে। এর ভালো দিক হলো, শিক্ষার হার বাড়ছে এবং মানুষ ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু এর খারাপ দিকও রয়েছে। কী শিক্ষা দেয়া হচ্ছে? লক্ষ করলে দেখা যাবে, গ্রামগঞ্জে শিক্ষার মান অনেক নিচু। অনেকে রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক স্বার্থে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছে। অনেক কলেজে দলীয়করণ ও অনৈতিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। যেসব শিক্ষক টাকা দিয়ে নিয়োগ পান, তারা বাকি সময় ওই টাকা উসুলে ব্যস্ত থাকেন। অর্থাৎ একজন অনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ৪০ বছর ধরে খারাপ শিক্ষাই দিয়ে যাবেন। এছাড়া অপরাজনীতি, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও দক্ষ শিক্ষকের সমস্যা তো রয়েছেই।
আমাদের দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে কেন? বেকার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ কারিগরি ও বিশেষায়িত শিক্ষার প্রসার না ঘটিয়ে ঢালাওভাবে সাধারণ উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি। হাজার হাজার বিএ, এমএ পাস করছে, যাদের চাকরির কোনো সুযোগ নেই। একটি পদের বিপরীতে ৫০০ লোক দরখাস্ত করে, অথচ একজনও যোগ্য লোক পাওয়া যায় না। আমাদের প্রয়োজন ছিল প্রথম থেকে কারিগরি শিক্ষার প্রসার। শুধু মেধাবীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে, বাকিরা কারিগরি বা বিশেষায়িত শিক্ষা গ্রহণ করবে— এভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত ছিল। আমাদের দেশে গ্র্যাজুয়েট লেভেলে কারিগরি শিক্ষায় পাসের হার মাত্র ৩ শতাংশ, অবশ্য সরকার বলছে ১০ শতাংশ, কিন্তু এটি ভারতে ২৭ শতাংশ, নেপালে ২৩ শতাংশ, শ্রীলংকায় ৪০ শতাংশ এবং উন্নত দেশে ৬০ শতাংশের বেশি। এ থেকে বোঝা যায়, এ দেশগুলোর উন্নতির সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার সম্পর্ক কী। আমাদেরও বুঝতে হবে গলদটা কোথায়।
একটি দেশে যদি দক্ষ জনশক্তি থাকে, তবে অন্যান্য সম্পদ এমনিই চলে আসে। যেমন জাপান। বলতে গলে তাদের দক্ষ জনশক্তি ছাড়া কিছুই নেই, কিন্তু সম্পদের কি অভাব আছে? আমাদের দেশে কী হয়? যারা ফিজিকস, কেমেস্ট্রি, বায়োলজিতে প্রথম হচ্ছে, এসব মেধাবীকে যেখানে গবেষণায় যোগ দেয়া উচিত, সেখানে সুযোগের অভাবে তারা ব্যাংক, বীমাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে। তাদের পুরো শিক্ষাটাই তো অপচয়।
বিশ্ববিদ্যালয়েও গবেষণার সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের ১ শতাংশ গবেষণা খাতে ব্যয় কর্মচারীদের বেতন আর কালি-কলম কিনতেই শেষ হয়। আমাদের এখানে গবেষণা এখনো গুরুত্ব পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান বিতরণের জায়গা নয়, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান সৃষ্টির জায়গা, জ্ঞান আত্মস্থকরণ এবং জ্ঞান বিতরণের জায়গা। আর জ্ঞান সৃষ্টির জন্য দরকার গবেষণা। বিজ্ঞানের একটি আবিষ্কার বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারে। সমাজবিজ্ঞানের ভালো একটি বই বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। ভালো একটি কবিতার বইও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। অবশ্য গবেষণার জন্য অর্থ একমাত্র সমস্যা নয়। আসল সমস্যা হলো উদ্যোগ। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও উদ্যমী গবেষকের অভাব রয়েছে আমাদের।
অন্যদিকে আমাদের দারিদ্র্য যে হারে কমছে, সেসঙ্গে বাড়ছে বৈষম্য। এ বৈষ্যম্যের একটি কারণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অবহেলা। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি হলো মাদ্রাসা শিক্ষা, যেখানে দরিদ্র ছেলেমেয়েরা পড়ে, যেখানে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে খুব কমই শিক্ষা দেয়া হয় এবং শিক্ষা বর্তমান শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এখানে যে লাখ লাখ ছেলেমেয়ে পড়ে, তারা তো বেকার হবেই। কিন্তু যদি প্রাথমিক শিক্ষাকে সেভাবে সম্প্রসারণ, অবৈতনিক ও প্রণোদনা দেয়া হতো, যারা একেবারে গরিব তাদের একবেলা খাবার দেয়া, বৃত্তি দেয়ার মতো প্রণোদনা দেয়া যেত, তবে এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। আরেকটি হলো বাংলা মাধ্যম বা সাধারণ শিক্ষা। এটি হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। যেহেতু কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ নেই, তাই এখানে ছাত্রছাত্রী বেশি, এখান থেকে আসা বেকারও বেশি। সর্বশেষটি হচ্ছে ইংরেজি শিক্ষা, এখানে মধ্যবিত্তদের কিছু সন্তান পড়লেও বেশির ভাগই ধনিক শ্রেণীর। ইংরেজি মাধ্যমে যারা পড়ছে, তাদের বেশির ভাগেরই লক্ষ্য একেবারে বিদেশে চলে যাওয়া। দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে তারা কিছু জানে না বা জানতে আগ্রহী নয়। কঠিন ভাষায় বলতে গেলে, মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার কারিকুলামের চিন্তাধারায় ‘মাইনাস বাংলাদেশ’। তাদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব কম। সরকারি একটি অনুসন্ধান রিপোর্টে দেখা গেছে, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী জানে না স্বাধীনতা দিবস কোনটি। দেশের শিক্ষার্থীরা যদি দেশের ইতিহাসই না জানে, তবে দেশপ্রেম গড়ে উঠবে কোত্থেকে? ২০১০ সালে প্রকাশিত একটি তথ্যানুযায়ী, আমাদের ৭৪ শতাংশ রাজনীতিবিদের সন্তান বিদেশে পড়ে। মনে হয়, দেশ যারা চালান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলে তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। কারণ তাদের ছেলেমেয়েরা তো এ দেশে লেখা পড়া করে না; করবেও না।
স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন হওয়া উচিত সমগোত্রীয় পেশার চেয়ে আকর্ষণীয়। যদি যথেষ্ট সম্মানী না পাওয়া যায়, তবে মেধাবীরা শিক্ষকতায় আসবে কেন? বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ভালো শিক্ষক নেয়ার জন্য বিশেষ ইনসেনটিভ থাকা দরকার। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ হতে হবে স্বচ্ছ। শিক্ষানীতিতে গবেষণার জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য সরকারের একটি আলাদা বরাদ্দ থাকা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কেন বিশ্বের ৭০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই? কারণ এখানে গবেষণা নেই।
শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে নিচু স্তরে অর্থাৎ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক থেকে কাজ শুরু করতে হবে। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত হবে প্রাথমিক শিক্ষা এবং এর পরে কারিগরি ও বিশেষায়িত শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ঢালাওভাবে সাধারণ শিক্ষার কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় না করে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট করতে হবে। ধোলাইখালের কথাই বলি। নিরক্ষর, অল্প শিক্ষিত কারিগররা কী অসাধারণ কাজ করছে! সেখানে যদি কোনো প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থাকত, তাহলে এদের বিনা পয়সায় বা অল্প খরচে আরো দক্ষ করে তোলা যেত। এটি করা গেলে দেখা যাবে, এখান থেকেই নামকরা কারিগর, প্রযুক্তিবিদ বেরিয়ে আসছে। চীন, ভারত কিন্তু তা-ই করেছে। গ্রামগঞ্জে অনেক মেধাবী রয়েছে, অর্থের অভাবে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে পারছে না। এদের সামনে এগোনোর সুযোগ করে দিতে হবে। এভাবেও কিন্তু দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর হতে পারে।
শিল্পায়নে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, আমরা এক পণ্যনির্ভর। ৩৫ বছর ধরে গার্মেন্ট খাত নিয়ে চলছি। রফতানি বহুমুখী হলে কারিগরি শিক্ষার চাহিদা বাড়ত। কারণ নতুন পণ্য তৈরির জন্য গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ জনশক্তি দরকার। কিন্তু এগুলোর তো চাহিদা বাড়ছে না। এগুলোর চাহিদা বাড়লে বুঝতে হবে পরিবর্তন এসেছে।
লেখক: চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়






