বছর পাঁচেক আগে বাংলাদেশের বিজয় দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে আমার সেখানে যাওয়ার সুযোগ হয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানকে পরাজিত করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে তারা। সেখানে গিয়ে নানা রকমের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার।

১৯৭১ সালের যুদ্ধের ইতিহাস আর অভিজ্ঞতার আলোকে সাজানো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে কয়েকজন কিশোরকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ১৯৭১ সালে আমেরিকান কোন নেতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হেনরি কিসিঞ্জার? তারা শূন্য দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকায়। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, এডওয়ার্ড এম কেনেডি? তারা কেউ কোনো উত্তর দিল না। তাহলে কি রিচার্ড এম নিক্সন? এবারো তারা সবাই চুপ।

আমি হঠাৎ অদ্ভুত এক সংকটের মধ্যে পড়লাম। আর কোনো নাম মনে করতে পারছি না। হাল ছাড়লাম না। শেষ নামটি প্রাণপণে মনে করার চেষ্টা করতে থাকলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় ফরেন সার্ভিস অফিসার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন যিনি। যার টেলিগ্রামের জন্য তাকে দ্রুত ওয়াশিংটনে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল যে তার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আগামীতে রাষ্ট্রদূত পদের জন্য তিনি অযোগ্য বিবেচিত হবেন। ঢাকায় নিযুক্ত শেষ আমেরিকান কনসাল জেনারেল। আর্চার কেন্ট ব্লাড? তোমরা তার নাম শুনেছ? কিশোরদের মধ্যে একজন আমাকে স্বীকৃতির এক উদার ও আনন্দিত হাসি উপহার দিয়ে বলে, হ্যাঁ, আর্চার ব্লাড। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন সত্যিকারের বন্ধু।

মার্কিন কূটনীতিক কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৭০ সালে ঢাকায় আসেন আর্চার ব্লাড। ১৯৭১ সালে তাকে কঠিন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। একজন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি আপাদমস্তক যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলতে বাধ্য। আবার একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে মানবতার পক্ষে তার অবস্থান। তাই একাত্তরের মার্চ থেকে পাকিস্তানি বাহিনী যখন নিরীহ বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালাতে শুরু করে, মানবতার সে লাঞ্ছনা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে প্রেরণ করেন টেলিগ্রাম। পরবর্তী সময়ে যা স্বীকৃতি পায় ঐতিহাসিক ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে। সেখানে তিনি আমেরিকান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, আমাদের সরকার গণতন্ত্র দমনকে নিন্দা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের সরকার গণহত্যার নিন্দা করতে ব্যর্থ হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার যখন পূর্ব পাকিস্তানে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, তখন আমাদের সরকার নাগরিকদের রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

স্বাভাবিক কারণেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ব্লাডের এ বার্তাকে সুনজরে দেখেনি। বরং ব্লাডের পাঠানো বার্তাগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। এরপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে একপর্যায়ে আর্চার ব্লাডকে ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে ফিরিয়ে আনা হয়। কেননা তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে যে ধাক্কা দিয়েছিলেন, তা নিক্সন-কিসিঞ্জার চক্রের জন্য ছিল চপেটাঘাতস্বরূপ। তিনি সিলেক্টিভ জেনোসাইড শিরোনামে পাঠানো টেলিগ্রামে লেখেন ‘পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার ভয়াবহতা একদিন প্রকাশ্যে আসবেই।’

আর্চার মার্কিন কূটনীতিকদের সামনে একটি উদাহরণ তৈরি করেছেন। যেমন ২০১৬ সালের জুনে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে একসঙ্গে ৫১ জন আমেরিকান কূটনৈতিক একটি স্মারক স্বাক্ষর করে। ঘটনাটি আর্চারের বিষয়টি আবারো সামনে আনে। তাছাড়া স্টেট ডিপার্টমেন্টের সবাই যে সরকারের কথা অনুযায়ী চলবে তা নয়। আমলাদের মধ্যে কেউ কেউ উল্লেখ করেন যে প্রেসিডেন্ট ভুল বার্তা দিচ্ছেন। তাই তার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করাটা অনুচিত। আর্চারের হাত ধরে ১৯৭১ সালে প্রবর্তিত এ প্রক্রিয়া কূটনীতিকদের সরাসরি আমেরিকান নীতির প্রতিবাদ করার পথ দেখায়।

ডিসেন্ট চ্যানেল হলো বার্তা প্রেরণের এমন একটি পদ্ধতি, যা ফরেন সার্ভিস অফিসার ও অন্যান্য মার্কিন নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত এবং যার মাধ্যমে তাদের সরকারি নীতির গঠনমূলক সমালোচনা প্রকাশ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। ডিসেন্ট চ্যানেলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পটভূমিতে। এ সময় ভিন্নমত প্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনাকে সরকারের তরফ থেকে উপেক্ষা করা হচ্ছিল এমন উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বার্তা আদান-প্রদানের জন্য এ ‘মেসেজিং ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেখানে আমেরিকার বৈদেশিক কর্মকর্তাসহ রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত অফিসাররা কিংবা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা সরকারের নীতি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা তুলে ধরতে পারেন।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ ঘিরে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭১ সালের মার্চ-পরবর্তী বাংলাদেশে পাকিস্তানের হামলা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার অভাবের কারণে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে একজন তরুণ আমেরিকান কুটনীতিক অফিসার আনুষ্ঠানিকভাবে তার ভিন্নমত তুলে ধরে ডিসেন্ট চ্যানেলে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যা ছিল সরকারের সমালোচনা করে আমেরিকার সেক্রেটারি অব স্টেটের কাছে প্রেরিত প্রথম কোনো বার্তা। অন্য কোনো সরকারি আমলাতন্ত্রে পদ্ধতিটি নেই। তবে আমেরিকায় আর্চারের দেখিয়ে দেয়া পথ ধরে বসনিয়ায় জাতিগত হত্যা বন্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান, ইরাক আক্রমণে বিরোধিতা করা এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন না দেয়া বা তার বিপরীতে কঠোর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানাতে অগ্রসর হয়েছেন অনেকে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হামলা শুরু করে তখন ব্লাড ও তার সহকর্মীরা কার্যত বন্দি হয়ে পড়েন। ওয়াশিংটনে প্রেরিত ব্লাড টেলিগ্রামে আরো উল্লেখ করেন, পেশাদার সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমরা সরকারের (আমেরিকান) বর্তমান নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করছি এবং আমরা আশা করছি আমাদের সৎ ও স্থায়ী স্বার্থ রক্ষিত হবে এবং আমাদের নীতির পরিবর্তন ঘটবে। ওই টেলিগ্রামে সই করেছিলেন ঢাকায় কনস্যুলেট অফিসের অধিকাংশ কর্মকর্তা। একাত্তরে নিজ দেশের অবস্থানকে সমালোচনা করে ঢাকার পক্ষে অবস্থান নেয়ার ঘটনাটা ব্লাড আর্চারের জীবন বদলে দেয়। তিনি শুধু তার ভিন্নমতের প্রকাশই করেননি, আমেরিকাকে তাদের মিত্র পাকিস্তানের রক্তাক্ত হামলার নিন্দা করতেও আহ্বান জানিয়েছিলেন। জেনারেল আর্চার কেন্ট ব্লাড একাত্তরে নিক্সন-কিসিঞ্জারের পাকিস্তানপন্থী অন্যায় নীতির বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন।

২০১৩ সালে আমেরিকান সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ গ্যারি জে বাস তার লেখা ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড’ বইটিতে আর্চার ব্লাডের বীরত্বপূর্ণ ভিন্নমতের বিষয়টিকে চমত্কার শব্দের বিন্যাসে তুলে ধরেছেন। ব্লাড কিসিঞ্জার-নিক্সন সময়ে মার্কিন প্রশাসনের কোপানলে পড়লেও পরবর্তীকালে নন্দিত হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে আমরা লক্ষ করি যে মার্কিন সরকার আর্চার ব্লাডকে সম্মান জানাতে ও মর্যাদায় ভূষিত করতে আগ্রহী। এমনকি একাত্তরে তার পাঠানো টেলিগ্রামের ঘটনাটি আজ আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অফিসারদের পাঠ্যক্রমের অংশও।

মার্সিয়া এস বার্নিকাট যখন ঢাকায় আমেরিকার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান তখন তার প্রথম দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ সরকারের কাছে আলোচিত ব্লাড টেলিগ্রামের একটি অফিশিয়াল কপি উপস্থাপন করা। যেটিকে বলা হয়েছিল ‘বিদ্যমান ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব কাঠামোর বিরুদ্ধে ভিন্নমত প্রকাশ করার এক মূল্যবান অনুস্মারক’।

১৯৭০ সালে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল হিসেবে নিযুক্ত তখন ক্রমেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের যুক্তিসংগত উত্থান হতে দেখেছেন। দেখেছেন পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ছে। অথচ তারা বাঙালিদের বিদ্রোহ দমনে কেবল সৈন্যদের জড়ো করছে। কোণঠাসা পাকিস্তানের অত্যাচারের বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা যখন বাঙালিদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়, ব্লাড ও তার অন্যান্য সহযোগী হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে দুজন অফিসার টেলিগ্রামের মাধ্যমে স্টেট ডিপার্টমেন্টে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানাতে সক্ষম হন।

কিন্তু নিক্সন-কিসিঞ্জার সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে মিত্রতার সম্পর্কে মনোযোগী ছিলেন। মূলত চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য পাকিস্তানের সহযোগিতা নিতে আগ্রহী ছিলেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে আর্চার ব্লাডের পাঠানো বার্তাগুলো নিক্সন-কিসিঞ্জার সরকারের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছিল। আর্চার তার প্রেরিত একটি বার্তায় লিখেছিলেন, ‘পাকিস্তানি সামরিক নৃশংসতার সম্পূর্ণ ভয়াবহতা শিগগিরই প্রকাশ পাবে।’ ‘সুনির্বাচিত গণহত্যা’ শিরোনামে পাঠানো টেলিগ্রামে তিনি এ কথাগুলো লিখেছিলেন।

গ্যারি বাস তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, এ কাজের জন্য ব্লাডকে অনেক কিছু হারাতে হয়। কিসিঞ্জার ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্লাডকে ওয়াশিংটনে প্রত্যাহার করিয়ে এনে মানবসম্পদ বিভাগে বসানো হয়েছিল। ঢাকায় বসে পাঠানো টেলিগ্রামগুলো বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে ওয়াশিংটনের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি, কিন্তু তা আর্চার ব্লাডের ক্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একাত্তরে আর্চার ব্লাডের সঙ্গে আরো যে ২০ জন আমেরিকান কূটনীতিক ব্লাড টেলিগ্রামে স্বাক্ষর করেছিলেন, সে দলে ছিলেন হাওয়ার্ড বি শ্যাফার। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য আর্চার কখনই আর রাষ্ট্রদূত হননি। আমি তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করেছি। তবে অবাক করার মতো ব্যাপার হচ্ছে, টেলিগ্রাম পাঠানোর ঘটনা ঘিরে তার সঙ্গে যে বিরূপ আচরণ করা হয়েছে, তার ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়েছে, সেসব নিয়ে তিনি কখনো কারো কাছে তিক্ততা প্রকাশ করেননি।’ হাওয়ার্ড বি শ্যাফাকে পরবর্তী সময়ে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা হয়।

আমি যখন আর্চার ব্লাড সম্পর্কে জানি, স্বাভাবিকভাবেই তার ঘটনা আমার কাছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। কারণ তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি আমেরিকার সিস্টেমের মধ্যে থেকে সরকারের নীতিকে চ্যালেঞ্জ করার মতো বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছিলেন। কেউ যদি নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে তার পাঠানো টেলিগ্রামগুলো ফাঁস করে দিত তাহলে কি বিষয়টি আরো ফলপ্রসূ হতো? কিংবা আর্চার যদি তাকে ঘিরে আমলাতান্ত্রিক শাস্তিগুলোকে পর্যবেক্ষণ না করে, বিদ্রোহ করে পদত্যাগ করতেন, তাতে কি ভালো হতো? এ প্রশ্নগুলো মাঝে মাঝে মনে হয় আমার। গবেষকদের পর্যালোচনা বলছে, ডিসেন্ট চ্যানেল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এটি ব্যবহার করে সরকারের নীতির সমালোচনা করে যতগুলো বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে তা নীতিনির্ধারকদের খুব একটা প্রভাবিত করেনি।

কিন্তু ঢাকার ক্ষেত্রে বিষয়টি খানিকটা ভিন্ন। বাংলাদেশের মানুষের কাছে আর্চার ব্লাডের টেলিগ্রাম মানে বিশেষ কিছু। তারা মনে করে, আমেরিকার সিস্টেমের মধ্যে থেকেই তিনি আমেরিকার সিস্টেমের সমালোচনা করার সাহস করেছেন। তিনি ব্যতিক্রমী একজন কূটনীতিক। ব্লাড তার একটি মন্তব্যে বলেছিলেন, মার্চের ঘটনাবলি তার জন্য ছিল ‘ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।’

নৈতিকতা ও কর্ম—এ দুটি ক্ষেত্রেই আর্চার ব্লাড সঠিক প্রমাণ করেছেন নিজেকে। তাই ২০০৪ সালে তার মৃত্যুর পরও তিনি ভিন্নমত তুলে ধরার জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবেই স্মরণীয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর্চার ব্লাডকে ক্রিশ্চিয়ান এ হার্টার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে। ঢাকায় আমেরিকান সেন্টারের লাইব্রেরির নামও রাখা হয় তার নামে: আর্চার কে ব্লাড লাইব্রেরি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার স্মৃতিচারণামূলক বই দ্য ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ প্রকাশিত হয় ২০০২ সালে। আর্চার ব্লাড মার্কিনদের কাছে ভিন্নমতের কূটনীতিক হলেও বাংলাদেশের কাছে তিনি একজন সত্যিকারের বন্ধু।

 

এলেন ব্যারি: নিউইয়র্ক টাইমসের নিউ ইংল্যান্ড শাখার ব্যুরো চিফ

ভাষান্তর: রুহিনা ফেরদৌস