আর্চার কেন্ট ব্লাডের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন হেনরি প্রেখট। সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছিল ১৯৮৯ সালের ২৭ জুন এবং সেটি প্রকাশিত হয়েছিল ডিপ্লোমেটিক জার্নালে। সাক্ষাৎকারটির মধ্য থেকে তৎকালীন বাংলাদেশে তার কার্যক্রম-সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর সংক্ষিপ্ত আকারে বণিক বার্তার পাঠকদের জন্য ভাষান্তরের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো। ভাষান্তর করেছেন সৈয়দ মেহরাজ কবির ও মাহমুদুর রহমান
ঢাকায় আপনার
কাজ কী
ছিল?
আমি
ছিলাম
পলিটিক্যাল
অফিসার
ও
ডেপুটি
প্রধান
অফিসার।
দ্বিতীয়
পরিচয়টিই
বেশি
গুরুত্বপূর্ণ
হয়ে
উঠেছিল।
সে সময় আপনার
রাজনৈতিক কাজ
কী ছিল?
বড়
অংশে
কাজ
ছিল
পাকিস্তান
সরকার
ও
পশ্চিম
পাকিস্তানিদের
বিরুদ্ধে
বাঙালিদের
অভিযোগগুলো
রিপোর্ট
করা।
এতে
ওয়াশিংটন
অসন্তুষ্ট
হয়।
কারণ
ওয়াশিংটন
বিশ্বাস
করতে
চাইত
যে
পাকিস্তান
একটি
স্থিতিশীল,
অবিচ্ছিন্ন
দেশ।
আইয়ুব
তখন
পাকিস্তানের
সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রে
জনপ্রিয়,
কিন্তু
পূর্ব
পাকিস্তানে
জনপ্রিয়
না।
আমরা
এ
সম্পর্কে
অবগত
ছিলাম
যে
আমরা
এমন
একটি
বিষয়
প্রচার
করছি
যা
খুব
বেশি
জনপ্রিয়
না।
তবে
যারাই
ঢাকায়
কাজ
করত,
তারা
এ
ঘটনায়
এতটাই
ক্ষুব্ধ
হয়
যে
আমরা
এ
বিষয়ে
রিপোর্ট
করি।
আপনি বলছেন
যে ওয়াশিংটন আপনার এ
অভিযোগগুলো রিপোর্ট করার জন্য
অসন্তুষ্ট ছিল?
তারা
সরাসরি
কখনো
আপত্তি
জানাননি,
যেমন
আমরা
রিপোর্ট
করে
আসছিলাম
যে
আইয়ুব
জনপ্রিয়
নন,
গভর্নর
আহসুম
যদিও
জনপ্রিয়
ছিলেন
এবং
সম্ভবত
তার
জনপ্রিয়তাই
তার
অপসারণের
কারণ
হতে
পারে।
কারণ
প্রেসিডেন্ট
তাকে
তার
প্রতিদ্বন্দ্বী
মনে
করতে
পারেন।
আর
১৯৬১
সালের
গ্রীষ্মে
এক
তরুণ
মার্কিন
পূর্ব
পাকিস্তানে
এসেছিলেন
ফার্ম
ব্যুরো
এক্সচেঞ্জে
এবং
তিনি
কিছু
সময়ের
জন্য
একটি
বাঙালি
খামারে
কাজ
করেছিলেন।
যখন
তিনি
ওয়াশিংটনে
ফিরে
যান
তখন
তাকে
এ
বিষয়ে
জিজ্ঞেস
করা
হলে
তিনি
বলেন,
‘আইয়ুব
বিপুল
জনপ্রিয়
পূর্ব
পাকিস্তানে,
কিন্তু
তারা
আহসুমকে
পছন্দ
করে
না।’
যখন এ
অসন্তুষ্ট বাঙালিদের সঙ্গে আপনি
যোগাযোগ করেছিলেন তখন পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ কি ঢাকায়
বা করাচিতে বিরোধী দলের
সঙ্গে কথা
বলার জন্য
আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেছিল?
আমার
যতদূর
মনে
পড়ে,
মাঝে
মাঝে
তারা
করেছিল।
আমার
মনে
হয়,
আমরা
সবাই
জানতাম
যে
কাজের
বিষয়ে
আমাদের
আরো
সতর্ক
হতে
হবে।
কখনো
আমাকে
কঠিন
অবস্থানে
পড়তে
হয়েছিল
সোহরাওয়ার্দীর
কারণে,
যিনি
পাকিস্তানের
প্রধানমন্ত্রী
ও
আওয়ামী
লীগের
নেতা
ছিলেন,
কিন্তু
তিনি
তখন
প্রায়
তার
অবসরের
সময়ে
ছিলেন
এবং
তিনি
কোনো
গুরুত্বপূর্ণ
রাজনৈতিক
ব্যক্তিত্ব
ছিলেন
না
আর।
তিনি
আমাকে
তার
বাড়িতে
ডাকতেন
এবং
বলতেন,
‘চলো
আমরা
কোনো
সিনেমা
দেখতে
যাই
অথবা
এটা-ওটা
করি।’
আর
আমি
তখন
সেটা
কাটানোর
চেষ্টা
করতাম।
কারণ
আমি
বুঝেছিলাম
যে
তার
সঙ্গে
আমাকে
জনসমক্ষে
দেখা
গেলে
সেটা
খুব
বিব্রতকর
হবে।
অর্থাৎ
পাকিস্তানি
সরকার
তা
পছন্দ
করবে
না
আর
সেটা
যুক্তরাষ্ট্রের
জন্য
বিব্রতকর
হতে
পারে।
এছাড়া
সে
সময়
এ
ঝুঁকি
নেয়ার
জন্য
তিনি
আসলে
তেমন
উল্লেখযোগ্য
কেউ
ছিলেন
না।
হাজার হাজার
মাইল দূরের
দূতাবাসের সঙ্গে
কনসুলেট জেনারেলের সম্পর্ক কী
রকম ছিল?
শোচনীয়।
সিআইএর ভূমিকা কী ছিল?
তাদের কারণে
কি কাজে
কোনো সমস্যা হয়?
না,
তারা
মাত্র
দুজন
অফিসার
আর
একজন
সেক্রেটারি
ছিলেন।
আমরা
তাদের
সঙ্গে
মিলে
কাজ
করেছি।
কখনো
কোনো
সমস্যা
হয়নি।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কি
কোনো বিদ্রোহ দানা বাঁধছিল সে সময়?
না,
না।
আর ভারতীয়দের সঙ্গে
কি কোনো
সমস্যা হয়েছিল?
না,
কিছু
সাম্প্রদায়িক
দাঙ্গা
ছিল
বটে।
ভারতে
মুসলিমদের
ওপর
হিন্দুরা
হামলা
করলে
কয়েক
দিন
পর
পূর্ব
পাকিস্তানে
হিন্দু
সংখ্যালঘুদের
ওপর
পাল্টা
হামলা
করত
মুসলিমরা।
সেটাই
একমাত্র...অবশ্য
সেক্ষেত্রে
ভারতীয়রাই
পাকিস্তানি
কর্তৃপক্ষের
সন্দেহের
তালিকায়
ছিল।
তবে
আমরা
ভারতীয়
হাইকমিশনারের
সঙ্গে
যোগাযোগ
রাখার
চেষ্টা
করেছিলাম।
উপমহাদেশের দুটি
ভিন্ন অঞ্চল
মিলে একটি
দেশ তৈরির
জন্য সে
সময় মানুষ
আক্ষেপ করেনি?
না।
বাঙালিরা
জানত
যে
তারা
সমান
সুবিধা
পাচ্ছে
না।
বৈদেশিক
মুদ্রা
অর্জনের
বিরাট
একটি
অংশ
আয়
করত
তারা।
কিন্তু
তাদের
জন্য
বরাদ্দ
ছিল
মাত্র
এর
এক-তৃতীয়াংশ।
উন্নয়ন
তহবিলের
অর্ধেকের
কম
তারা
পেত।
সামরিক
ও
বেসামরিক
চাকরির
প্রধান
প্রধান
পদে
নিযুক্ত
ছিল
পশ্চিম
পাকিস্তানিরা।
ওয়াশিংটনের স্টেট
ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে
সম্পর্ক কী
রকম ছিল?
ডিপার্টমেন্টের
সঙ্গে
আমাদের
কোনো
সমস্যা
ছিল
না।
দূতাবাসের
সঙ্গেও
আমার
নিজের
কোনো
সমস্যা
ছিল
না।
কনসাল
জেনারেলের
ছিল,
আমার
না।
১৯৭০ সালের
মার্চে আপনাকে সরাসরি ঢাকায়
বদলি করা
হয়। এরপর?
ওয়াশিংটনের
সঙ্গে
পরামর্শ
করে
আমি
ঢাকা
যাই।
প্রথম
আর
শেষবার
আমি
শপথ
গ্রহণ
করি।
সে
সময়
বিল
ম্যাকম্বার
ছিলেন
আন্ডার
সেক্রেটারি
ফর
ম্যানেজমেন্ট,
যিনি
প্রাথমিকভাবে
কনসাল
জেনারেলদের
শপথ
গ্রহণ
অনুষ্ঠান
চালু
করেন।
একটি
ছোট
অনুষ্ঠানে
আমি
ঢাকার
কনসাল
জেনারেল
হিসেবে
শপথ
গ্রহণ
করি।
এ অনুষ্ঠানের অর্থ
কি আপনার
স্বাধীনতা সীমিত
ছিল?
না,
একেবারেই
নয়।
আট
বছর
পর
ঢাকায়
ফিরে
যাওয়ার
অভিজ্ঞতা
দারুণ
ছিল।
অনেক
মানুষই
আমার
পূর্বপরিচিত
ছিল।
কিন্তু
ততদিনে
পরিস্থিতি
অনেক
বেশি
বদলে
গিয়েছিল।
পশ্চিম
থেকে
পূর্ব
পাকিস্তানের
বিচ্ছিন্ন
হওয়ার
উত্তেজনা
আরো
বেশি
ছিল।
এর
মধ্যে
প্রধান
ছিল
প্রেসিডেন্ট
ইয়াহিয়ার
মার্শাল
ল
তুলে
নিয়ে
সংসদীয়
গণতন্ত্র
আবার
চালু
করে
পাকিস্তানের
দুই
অংশেই
নির্বাচন
অনুষ্ঠিত
করা।
তবে
প্রথমত,
আমাদের
জন্য
সংকট
হয়ে
দাঁড়ায়
১৯৭০
সালের
৩
নভেম্বরের
ভয়াবহ
সাইক্লোন,
যার
ফলে
তিন
লাখ
মানুষের
প্রাণহানি
হয়।
ত্রাণের বিষয়ে
সরকার আরো
বেশি কার্যকর হতে পারছিল না কেন?
আমি
নিশ্চিত
না।
এর
আগে
১৯৬১-৬২
সালে
পাকিস্তান
সরকার,
বিশেষ
করে
পাকিস্তানি
সামরিক
বাহিনী
ত্রাণ
সরবরাহে
আরো
বেশি
তত্পর
ছিল।
কিন্তু
এবার
তারা
বেশি
কিছু
করেনি।
ফর্ট
ব্র্যাগ
থেকে
আমাদের
হেলিকপ্টার
ইউনিট
দিয়ে
পাকিস্তানি
আর্মি
সহযোগিতা
করেছিল।
পাকিস্তানি
নৌবাহিনী
একের
পর
এক
প্রেস
রিলিজ
পাঠাতে
থাকে।
মনে
হচ্ছিল,
তারা
কোনো
রকম
গুরুত্বই
দিচ্ছিল
না।
প্রেসিডেন্ট
ইয়াহিয়া
চীন
থেকে
ফেরার
পথে
১
ঘণ্টার
জন্য
পূর্ব
পাকিস্তান
সফর
করেন।
আর
পোপ
ও
অন্যান্য
জ্যেষ্ঠ
কর্মকর্তা
যারা
পাকিস্তানি
নন,
তারা
সে
সময়
পূর্ব
পাকিস্তান
সফরে
আসেন,
যা
ব্যাপকভাবে
বিশ্ব
গণমাধ্যমে
প্রচারিত
হয়।
পশ্চিম
পাকিস্তানের
মার্কিন
রাষ্ট্রদূত
ফারল্যান্ড
পূর্ব
পাকিস্তানে
আসেন
এবং
গণমাধ্যম
কর্মীদের
সঙ্গে
কাজ
করার
বিষয়ে
তিনি
বেশ
সহযোগী
ছিলেন।
মার্কিন
সংবাদমাধ্যম,
সম্ভবত
এপি
সে
সময়
অভিযোগ
করে
যে
রাষ্ট্রদূতের
হেলিকপ্টারের
ব্লেডের
আঘাতে
চালের
পার্সেল
নিতে
আসা
এক
বাঙালি
আহত
হন।
এটা
সত্য
না।
আমরা
পরে
জানতে
পারি,
এটা
গুজব
ছিল
আর
তারা
এ
তথ্যের
তদন্ত
করার
বিষয়ে
নিরুৎসাহী
ছিল।
আর আপনি বলেছেন, এর খুব
কম সময়ের
ব্যবধানে নির্বাচন হয়?
নির্বাচন
পূর্বনির্ধারিত
ছিল,
কিন্তু
ঘূর্ণিঝড়ের
কারণে
তা
স্থগিত
ঘোষণা
করা
হয়।
এরপর
ডিসেম্বরে
নির্বাচন
অনুষ্ঠিত
হয়।
অনেকে
বিশ্বাস
করেন
যে
আওয়ামী
লীগের
বিপুল
ভোটে
বিজয়ের
কারণ
অনেকাংশেই
ছিল
ত্রাণ
সরবরাহকাজে
পশ্চিম
পাকিস্তান
সরকারের
দ্বিধায়
বাঙালিদের
ক্ষোভ।
আপনার মতে
আওয়ামী লীগ
কী ছিল?
ডানপন্থী, বামপন্থী নাকি কোনো
উপদল?
আওয়ামী
লীগ
ছিল
বাঙালি
জাতীয়তাবাদী
পার্টি,
যা
পূর্ব
পাকিস্তানে
স্বায়ত্তশাসন
দাবি
করেছিল
আর
ভারতের
সঙ্গে
সম্পর্কোন্নয়নের
দাবি
করেছিল।
পন্থা
বিবেচনায়
আমি
বলব,
সেটি
ছিল
মধ্য
বাম।
দুই অংশে
বিভক্ত পাকিস্তানের ভিন্ন নীতির
কারণে উপমহাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কী
রকম হতো
বলে আপনি
মনে করেন?
ভালো
প্রশ্ন।
এ
বিষয়ে
আমাদের
নিজেদের
মধ্যেও
বিতর্ক
হয়েছিল।
১৯৭১
সালের
জানুয়ারিতে
দূতাবাসে
আমাদের
একটি
মিটিং
অনুষ্ঠিত
হয়।
সেখানে
পেশোয়ার,
লাহোর,
করাচি,
ঢাকার
কর্মকর্তারা
ও
মার্কিন
দূতাবাসের
মধ্যে
তুমুল
আলোচনা
হয়
এ
বিষয়ে।
২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনটা কেন হয়?
আসলে
ভুট্টো
ও
ইয়াহিয়া
দুজনই
মুজিবের
সঙ্গে
কথা
বলতে
ঢাকা
আসেন
সমস্যা
সমাধান
করতে।
সে
সময়
পাকিস্তানি
কর্মকর্তাদের
সঙ্গে
আমাদের
কোনো
যোগাযোগ
ছিল
না।
কেন?
আমাদের
পরিচিত
যারা
ছিলেন,
গভর্নর
ও
জেনারেল
অফিসার
কমান্ডিং
তাদের
প্রত্যাহার
করা
হয়।
পরে
আমরা
জানতে
পারি,
এর
মূল
কারণ
ছিল
তারা
সামরিক
ক্র্যাকডাউনের
বিরোধিতা
করেছিল।
ক্র্যাকডাউন আসলে
কী ছিল?
রাস্তায় ব্যারিকেড...আর কী?
একদম
না।
প্রথমেই
তারা
সামরিক
শক্তি
থাকতে
পারে
ঢাকার
এমন
সব
ইউনিট
ভেঙে
দেয়।
যেমন
ইস্ট
পাকিস্তান
রাইফেলস,
যা
পশ্চিম
পাকিস্তানি
অফিসারদের
অধীনে
থাকলেও
সৈনিকরা
ছিল
বাঙালি।
তারা
মূলত
আধা
সামরিক
বাহিনী
ছিল,
যারা
সীমান্ত
রক্ষা
ও
পুলিশের
সঙ্গে
মিলে
কাজ
করত।
ফলে
এদের
আক্রমণ
করে
যতজনকে
সম্ভব
হত্যা
করা
হয়।
কোনো ইন্ধন
ছাড়াই এ
আক্রমণ করা
হয়?
হ্যাঁ
তাই।
কোনো
ইন্ধন
ছাড়াই
আক্রমণ
করা
হয়েছিল।
তারা
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়েও
আক্রমণ
করে।
কেননা
ছাত্ররা
এ
সময়ে
সক্রিয়
ছিল।
ছাত্রদের
ওপর
মেশিনগান,
মর্টার
ব্যবহার
করা
হয়।
অসংখ্য
ছাত্র
মারা
যায়।
তারা
আওয়ামীপন্থী
সবচেয়ে
বড়
পত্রিকার
অফিস
ট্যাংক
দিয়ে
উরিয়ে
দেয়।
আওয়ামী লীগের
কী অবস্থা ছিল?
(ব্লাড
আগের
প্রশ্নের
উত্তর
দিতে
থাকেন)
যেসব
বাজার
সেনাবাহিনীকে
খাদ্য
সরবরাহ
করতে
অস্বীকৃত
ছিল,
সেসব
আক্রমণ
করে
ধ্বংস
করা
হয়।
তারা
বিশ্ববিদ্যালয়ে
গিয়ে
হিন্দু
প্রফেসরদের
হত্যা
করে।
তাদের
মধ্যে
একজনকে
আমি
চিনি,
দর্শনের
বৃদ্ধ
প্রফেসর,
যার
মধ্যে
রাজনীতির
ছিটেফোঁটাও
ছিল
না।
আমার
মনে
হয়,
তিনি
কেবল
হিন্দু
বলেই
তাকে
হত্যা
করা
হয়েছে।
আওয়ামী লীগের
নেতৃত্বের কী
হয়েছিল?
যাদের
খুঁজে
পেয়েছে
তাদের
গ্রেফতার
করেছে।
যেমন
মুজিব।
বাকিরা
লুকিয়ে
ছিল।
অনেকে
পালিয়েও
গিয়েছিল।
দূতাবাসের কার্যক্রম কী ছিল?
আপনাকে কি
সামরিক কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে
রেখেছিল? আপনাকে কি তারা
ঘরে থাকতে
নির্দেশ দিয়েছিল?
হ্যাঁ।
কারফিউ
জারি
ছিল।
টানা
৩৬
ঘণ্টা
আমাদের
কোথাও
যেতে
দেয়া
হয়নি।
তবু
আমরা
ছাদে
গিয়ে
অবস্থা
দেখার
চেষ্টা
করি।
সব
টেলিফোন
লাইন
কেটে
দেয়া
হয়েছিল।
আমরা
জানতে
পারি,
কাজটা
পাকিস্তানিরা
করেছিল,
কিন্তু
তারা
আওয়ামী
লীগকে
এজন্য
দোষারোপ
করছিল।
টেলিফোন
না
থাকলেও
আমরা
রেডিওর
মাধ্যমে
ঘর
ও
অফিসে
যোগাযোগ
করতে
পারছিলাম।
অন্তত
তিন
সপ্তাহ
পর্যন্ত
আমরা
নিজেদের
দূতাবাসের
সঙ্গে
যোগাযোগ
করতে
পারিনি।
তারা
দূতাবাস
থেকে
কাউকে
আসতেও
দেয়নি।
তিন
সপ্তাহ
পর
তারা
একটি
মিলিটারি
ফোন
দিয়ে
আমার
রাষ্ট্রদূতের
সঙ্গে
কথা
বলার
অনুমতি
দেয়।
আমরা
যোগাযোগ
করতে
পেরেছিলাম,
কিন্তু
সেখানে
যাওয়ার
অনুমতি
ছিল
না।
সৌভাগ্যজনকভাবে
আমরা
এয়ার
অ্যাটাশেকে
পেয়েছিলাম,
যিনি
ক্র্যাকডাউনের
আগ
থেকেই
এখানে
ছিলেন।
আমি
তাকে
দেখা
করতে
বলি।
তিনি
যথেষ্ট
সাহায্য
করেছিলেন।
তিনি
সেখানে
একমাত্র
আমেরিকান
সামরিক
সদস্য
ছিলেন।
ব্রিটিশরাও
একজনকে
রাখতে
চেয়েছিল,
যেন
আমরা
সামরিক
সংকটের
কিছু
প্রতিবেদন
তৈরি
করতে
পারি।
দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
তারা
অবিশ্বাস
করেছিল।
পাকিস্তান
সরকার
তাদের
বলেছিল
যে
তেমন
কিছু
হয়নি।
তাদের
বার্তায়
সে
অবিশ্বাস
ধরা
পড়ে।
বিষয়টি
আমাদের
জন্য
বেদনাদায়ক
ছিল।
ওয়াশিংটনের মনোভাব কী ছিল?
আপনারা কী
করবেন বলে
তারা চাইত?
রাষ্ট্রদূত
তখন
চিকিৎসার
জন্য
থাইল্যান্ডে
ছিলেন।
তিনি
আমাকে
একটি
বার্তায়
বলেন,
‘সতর্কতার
দিকে
থাকো,
এটিই
একমাত্র
উপদেশ।’
আমি
জানি
না
তিনি
কী
বোঝাতে
চেয়েছিলেন।
কিন্তু
ক্র্যাকডাউনের
পর
পরিস্থিতি
ভীষণভাবে
বদলে
যায়।
ওয়াশিংটন
মানতেই
চায়নি
যে
পাকিস্তানি
সেনাবাহিনী
ক্ষমতায়
থাকতে
আমেরিকানদের
কোনো
সংকটে
পড়তে
হতে
পারে।
কিন্তু
বাস্তবতা
ছিল
যে
ততদিনে
সংকট
শুরু
হয়ে
গিয়েছিল।
কাদের কারণে
সংকট?
পাকিস্তানি
মিলিটারি।
এ
রকম
কয়েকটি
ঘটনা
আছে...আমার
একটা
বিষয়
বলে
রাখা
দরকার
এখানে।
পূর্ব
পাকিস্তানে
পাঠানো
সামরিক
বাহিনীর
মধ্যে
এমন
বাহিনীও
ছিল,
যারা
প্রকৃতপক্ষে
কোনো
নিয়মিত
সৈনিক
না।
সেখানে
ছিল
উত্তর-পশ্চিম
সীমান্ত
প্রদেশের
সীমান্ত
লেভি,
যারা
সামনের
সারির
সৈন্যদল
না।
এমন
ঘটনাও
আছে,
যেখানে
সৈনিকদের
বন্দুকের
নলের
মুখে
আমেরিকানরা
ছিল।
আর
তাদের
মেরে
ফেলার
হুমকি
দেয়া
হয়।
এমন
উদাহরণ
আছে
যেখানে
সৈনিকরা
তাদের।
আমরা সামরিক উচ্ছেদের প্রসঙ্গে ছিলাম।
হ্যাঁ।
আমি
বলছিলাম
যে
আমাদের
মানুষ
আধাশৃঙ্খল
বাহিনীর
দ্বারা
সংকটে
পড়েছিল।
কোনো
কোনো
সময়
পাকিস্তানি
সেনারা
সন্ধ্যাবেলা
ব্যারাক
থেকে
এসে
আমেরিকানদের
বাড়িঘর
লুট
করত।
কখনো
তারা
কোনো
আমেরিকানের
স্ত্রীর
ঘড়ি
ছিনতাই
করত।
একবার
এক
আমেরিকান
আমাকে
বলেছিলেন,
এক
পাকিস্তানি
সেনা
তাকে
খুন
করার
চেষ্টা
করলে
তিনি
প্রতিরক্ষা
করতে
সেই
সেনাকে
হত্যা
করে
তার
মরদেহ
দাফন
করেন।
সেটা
মাত্র
শুরুর
কথা...
আমরা
সবাই
আশ্রয়
খুঁজছিলাম।
বাঙালি,
বিশেষত
হিন্দু
বাঙালিরা
আমাদের
কর্মচারীদের
সঙ্গে
পালানোর
চেষ্টা
করছিল।
আমাদের
কর্মচারীরা
তাদের
আশ্রয়
দিত।
আমরা
সবাই
দিতাম।
ওয়াশিংটন
থেকে
এ
বিষয়ে
আমার
কাছে
বার্তা
আসে।
তারা
শুনেছেন
যে
আমরা
আশ্রয়
দিচ্ছিলাম
বাঙালিদের
আর
তা
বন্ধ
করার
নির্দেশ
দেন।
আমি
প্রত্যুত্তরে
বললাম,
আমরা
এমনটাই
করছি
আর
এটাই
করব।
ওরা
কোনো
রাজনৈতিক
অভিবাসী
না।
ওরা
দরিদ্র,
একেবারেই
নিম্নবিত্ত
শ্রেণীর
মানুষ,
অধিকাংশই
হিন্দু,
যাদের
ভয়
শুধু
ধর্মীয়
পরিচয়ের
কারণে
তাদের
হত্যা
করা
হবে।
আপনাদের কি
কোনো হিন্দু কর্মচারী ছিল?
কয়েকজন
ছিল।
হিন্দু-মুসলিম
উভয়
ধর্মাবলম্বী
কর্মচারীই
ছিল।
তারা
একসঙ্গে
কাজ
করত
সবাই
মিলে।
সুতরাং
এটা
আরেক
বিপদ
ছিল।
আমার
মনে
হয়
না
যে
আমি
যদি
বাঙালিদের
আশ্রয়
দিতে
তাদের
নিষেধ
করতাম,
তারা
তা
শুনত।
এটা
মানবিক
সৌজন্যতা।
আমার
বাড়ির
উঠানের
সামনে
বাঙালি
পুলিশের
একটি
স্কোয়াড
ছিল,
যারা
সেখানে
তাঁবু
গেড়েছিল।
কারণ
আমি
হত্যার
হুমকি
পাই
কিছু
বামপন্থীদের
থেকে।
পূর্ব
পাকিস্তান
পুলিশ
তাই
আমার
বাড়ির
সুরক্ষার
জন্য
এ
ইউনিট
পাঠায়।
যুদ্ধ
শুরু
হলে
স্বাভাবিকভাবেই
তারা
নিজেদের
জীবন
নিয়ে
শঙ্কায়
ছিল।
তাই
তারা
নিজেদের
ইউনিফর্ম
খুলে
নেয়
আর
বাড়ির
পেছনের
উঠানে
নিজেদের
অস্ত্র
পুঁতে
রাখে।
এরপর
এনসিও
ইনচার্জ
আমার
সঙ্গে
দেখা
করেন
আর
বলেন,
যুদ্ধের
সময়
তিনি
কিছুই
করেননি।
তাই
তিনি
পাকিস্তানি
আর্মিদের
রাইফেলগুলো
ফেরত
দিতে
চান,
কিন্তু
এর
জন্য
আমি
কি
তাদের
সঙ্গে
যাব
কিনা।
তাই
আমিও
তাকে
ও
তার
রাইফেলগুলো
নিয়ে
নিকটস্থ
পাকিস্তানি
মিলিটারি
কোয়ার্টারে
গেলাম
আর
প্রতিজ্ঞা
করলাম
যে
এ
ভদ্রলোক
কী
করেছিলেন
এবং
তার
রাইফেলগুলো
কেন
আমার
উঠানে
ছিল
এবং
তিনি
কোনো
অংশ
নেননি
লড়াইয়ে।
আশা
করি
তিনি
নিরাপদে
পালিয়ে
যেতে
পেরেছেন।
যা
হোক,
আমরা
ওয়াশিংটনকে
সুপারিশ
করলাম
আমাদের
প্রস্থানের
বিষয়ে।
সময়টা ছিল...
সেটা
ছিল
সম্ভবত
এপ্রিলের
মাঝামাঝি।
ওয়াশিংটনের
সুর
বদলে
গেল।
আগে
যেটা
ছিল,
‘যেকোনো
কিছু
প্রয়োজন
হলে,
শুধু
বলো’,
হঠাৎ
করে
তা
বদলে
গেল—‘একটু
অপেক্ষা
করো।
ভেবে
বলছি।
তোমরা
কি
নিশ্চিত?’ আমি
অবশ্য
এটা
বলেছিলাম
যে
আমরা
জানি
যে
এ
মুহূর্তে
পাকিস্তান
সরকার,
যার
দাবি
পরিস্থিতি
শান্তিপূর্ণ,
এর
সমর্থন
করবে
না।
আমেরিকানরা
চলে
যাওয়ার
অর্থ
নিশ্চিতভাবেই
পরিস্থিতি
শান্তিপূর্ণ
না।
কিন্তু
আমি
বললাম,
আমার
মনে
হয়
আমেরিকানদের
নিরাপত্তা
এ
বিবেচনার
ঊর্ধ্বে।
অবশেষে
তারা
আমাদের
প্রস্তাবে
সম্মতি
দিল,
কিন্তু
পাকিস্তান
সরকার
পিআইএ
বিমানে
করে
ঢাকা
থেকে
করাচি
যাওয়ার
জন্য
জোরাজুরি
করে।
একই
বিমান
যেগুলো
চড়ে
সামরিক
বাহিনী
আসে
তখন
সেগুলো
করে
আমাদের
মানুষের
যাতায়াতের
সুযোগ
ছিল।
এটা
খুবই
দুঃখজনক
ছিল,
কারণ
এ
প্রস্থানের
পরিকল্পনা
অনুযায়ী
থাইল্যান্ড
থেকে
মার্কিন
বিমান
বাহিনীর
বিমান
ব্যবহার
করে
আমাদের
ব্যাংকক
যাওয়ার
কথা,
যার
ব্যবধান
মাত্র
২
ঘণ্টার।
আর
সেখানে
প্রায়
একই
ধরনের
আবহাওয়া
আর
এমন
এক
জায়গা,
যেখান
থেকে
খুব
সহজেই
আমরা
আমাদের
পরিবারের
সদস্যদের
সঙ্গে
দেখা
করতে
পারি।
ওয়াশিংটন
পাকিস্তানের
প্রস্তাবে
সম্মত
হয়।
তাই
আমাদের
স্ত্রী,
সন্তান
ও
অনাবশ্যক
কর্মীদের
ঢাকা
থেকে
শ্রীলংকা,
সেখান
থেকে
করাচি
যেতে
হয়,
যা
নিউইয়র্ক
থেকে
লন্ডন
যাওয়ার
সমান।
বিমানের
ক্রু
ভীষণ
ক্লান্ত
ছিল।
কারণ
তারা
অনবরত
সেনাসদস্যদের
নিয়ে
আসা-যাওয়া
করছিল।
পাকিস্তান
সরকার
আমার
মনে
হয়
খুব
উদ্বিগ্ন
ছিল
যে
শ্রীলংকায়
অবতরণের
পর
আমাদের
কয়েকজন
আর
বিমানে
চড়তে
চাইবেন
না।
তাই
তারা
তাদের
থেকে
পাসপোর্ট
নিয়ে
নেয়।
আপনাদের মানুষকে পশ্চিম পাকিস্তানে নেয়ার বিষয়ে
তারা এত
বেশি উদ্বিগ্ন ছিল কেন?
তাদের
সেখান
থেকে
তেহরান
যাওয়ার
কথা।
কোথায় যাবেন
তা নিয়ে
তাদের মাথাব্যথা কেন?
প্রথমত,
ওয়াশিংটন
আমাদের
এভাবে
বলতে
বলে,
যেন
তা
পালিয়ে
যাওয়ার
মতো
মনে
না
হয়।
অবশ্যই
আমরা
চলে
যাচ্ছিলাম।
যদি
পিআইএ
তথাকথিত
বাণিজ্যিক
ফ্লাইটে
যাই,
তবে
সেটা
কোনো
গুরুতর
ঘটনা
হবে
না,
যতটা
মার্কিন
বিমান
বাহিনী
এসে
আমাদের
নিয়ে
গেলে
হতো।
আমি
আসলে
নিশ্চিত
নই
কেন
তারা
চাইছিল...আর
পিআইএ
এমনিও
করাচিতেই
যাচ্ছিল।
তাই
তারা
করাচিতে
এক
রাত
কাটিয়ে
পরদিন
তেহরান
যায়।
কিন্তু
এর
ফলে
আমেরিকানদের
এক
বড়
অংশ
ক্ষুব্ধ
হয়।
অনেকেই—
মূলত কারা
প্রস্থানের পথ
বেছে নেয়?
পারিবারিক সদস্য,
কর্মচারী?
পারিবারিক
সদস্য,
অনাবশ্যক
কর্মচারী,
সাধারণ
আমেরিকান।
এর
মধ্যে
আমরা
কয়েকজন
আমেরিকান
নাগরিকদের
স্ত্রী
বা
স্বামীদেরও
পাচার
করি।
এটা সম্ভবত একটা কারণ,
পাকিস্তানিরা প্রস্থান পর্ব নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছিল। তারা চাইছিল না যে
যাদের—
কিন্তু
তারা
তাদের
কোনোভাবে
আটকে
রাখেনি।
যে
কেউ
পাসপোর্ট
হাতে
করে
স্ত্রীর
সঙ্গে
চলে
যেতে
পারতেন।
তবে
ওয়াশিংটনের
প্রতিক্রিয়া
থেকে
আমি
বুঝতে
পারছিলাম,
তারা
এ
সিদ্ধান্তে
খুশি
না।
আর
কোনো
কিছু
হলে
তার
জন্য
আমাকেই
দায়ী
করা
হতো,
যে
বলেছিল
প্রস্থানের
কথা।
আমাদের
মানুষ
যেতে
চাইছিল।
মূলত
তারা
যেতে
চাইছিল
কারণ
তারা
ক্রুদ্ধ
ছিল।
তারা
ক্রুদ্ধ
ছিল
আমাদের
সরকারের
ওপর
যে
দেখুন,
ওয়াশিংটনের
মনোভাব
এমন
ছিল
যেন
সেখানে
কিছুই
হচ্ছে
না।
তারা
সবাই
দেখতে
পাচ্ছিল
কী
হচ্ছে।
তারা
ক্রুদ্ধ
ছিল
মার্কিন
সরকারের
এ
নৃশংসতার
নিন্দা
জানাতে
অপারগতার
ওপর।
আমি
বেশ
খোলাখুলিই
বলছি।
আমি
জানি
যে
তাদের
কয়েকজন
ফিরে
গিয়ে
কংগ্রেস
ও
গণমাধ্যমে
অভিযোগ
করবে
এ
বিষয়ে।
সেটা
থামানো
যাবে
না।
তাদের
এখানেও
রাখা
যাবে
না।
আমেরিকান প্রেসের দৃষ্টিভঙ্গি কী
ছিল? তারা
ঘটনাগুলো কভার
করছিল?
হুম,
বিদেশীদের
ঢাকা
থেকে
সরিয়ে
নেয়ার
সঙ্গে
সঙ্গেই
বিদেশী
সংবাদমাধ্যমের
সব
কার্যক্রম
বন্ধ
হয়ে
যায়।
তাহলে কি
কোনো আমেরিকান প্রেস ছিল
না?
না,
কয়েকটি
ছিল।
এর
মধ্যে
একটি
লুকিয়ে
সীমান্ত
পার
হয়।
আমরা
তাদের
আমাদের
বাড়িতে
আশ্রয়
দিই,
যেন
তারা
রিপোর্ট
করে
যেতে
পারেন।
আপনিও কি
তাদের রিপোর্ট পাঠাতেন?
হ্যাঁ,
এছাড়া
আমরা,
আসলে
আমি
খুব
বেশি
মানুষের
মেইল
কখনো
পড়তাম
না
সে
সময়।
কারণ
সে
সময়
বাণিজ্যিক
বেতার
সংযোগও
কেটে
দেয়া
হয়।
তাই
আমাদের
নিজস্ব
যোগাযোগ
ব্যবস্থা
ছিল
স্বাভাবিকভাবেই
কনসাল
জেনারেল।
আমরা
পাকিস্তানি
পরিবারের
ওপর
ভরসা
করছিলাম
না।
কিন্তু
অন্যান্য
নিম্নপদস্থ
অফিসার
তা
করত
না।
তাই
জাপানি,
নেপালি
ও
অন্যরা
তাদের
নিজস্ব
প্রস্থান
অভিযানের
প্রস্তুতি
নিলে
সেটা
আমাদের
মাধ্যমেই
করত।
আমরা
কখনো
কাঠমান্ডুতে
আমাদের
দূতাবাসে
বার্তা
দিতাম,
যা
পরবর্তী
সময়ে
নেপাল
সরকাররের
কাছে
পৌঁছায়।
এর
প্রত্যুত্তর
আবার
আমাদের
কাছে
আসত।
আমি
নেপালি
কনসাল
জেনারেলকে
বার্তা
দিতাম।
জাপানিদের
ক্ষেত্রেও
একই।
আমরা জানি,
আপনি ও
আপনার সহকর্মীরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে
সমস্যাসংকুল পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন। আপনার কী
মনে হয়,
আপনি কীভাবে ভালো ও
খারাপ সম্পর্ককে আলাদা করবেন?
আপনাকে
মনে
রাখতে
হবে
যে
মূলত
কিসিঞ্জার
ও
নিক্সন
এবং
আমলাতন্ত্রে
তাদের
দিকের
লোকজন
বিরোধিতা
করেছিল।
এটা
আমরা
পরে
জানতে
পারি।
আমরা
যখন
ওয়াশিংটনে
ফিরে
যাই
তখন
আমাদের
পাশাপাশি
সবাই
বিষয়টি
এভাবে
আবিষ্কার
করেছিল।
আপনার কি
মনে হয়
আপনাদের অপসারণ, পাঠানো রিপোর্ট বা কোনো
কিছু থেকে
ওয়াশিংটন যুক্তরাজ্যের স্বার্থের সঙ্গে
মিলিয়ে বিষয়টি দেখতে পারত?
চিহ্নিত
করা
কঠিন
হবে।
তবে
আমরা
২৫
তারিখে
ক্র্যাকডাউনের
পর
যখন
খবর
পাঠাতে
শুরু
করি
তখন
থেকেই
বিষয়টির
সূত্রপাত।
আমি
স্বীকার
করি,
আমরা
খুবই
কাঁচাভাবে
কাজটা
করেছিলাম।
আমরা
কূটনৈতিক
মোড়কে
কাজটি
করিনি।
আমরা
এ
বিষয়ে
কথা
বলেছিলাম
যে
অন্তত
পাঁচ
হাজার
মানুষকে
হত্যা
করা
হয়েছে।
আমাদের
কাছে
প্রমাণ
ছিল।
আমি
নিজের
চোখে
কাউকে
খুন
হতে
দেখিনি,
কিন্তু
গ্রামের
দিকে
ক্যাথলিক
যাজকরা
ছিলেন।
হিন্দু
অধ্যুষিত
কোনো
গ্রামে
পাকিস্তানি
বাহিনী
মেশিনগান
চালালে
সেখানকার
আহত
মানুষ
ক্যাথলিক
চার্চে
আশ্রয়
গ্রহণ
করত।
আমরা
তাদের
চিকিৎসার
জন্য
সেখানে
আমেরিকান
ডাক্তারদের
পাঠাতাম।
আসলে
আমরাও
পাঠাইনি,
তারা
নিজ
উদ্যোগে
সেখানে
যেতেন।
অর্থাৎ
এরা
ছিলেন
চাক্ষুষ
আমেরিকান
সাক্ষী।
আপনি কবে
আপনার এ
ভিন্নমত নথিবদ্ধ করেন?
আমার
নির্দিষ্ট
কোনো
তারিখ
মনে
নেই।
আপনাদের সরিয়ে
নেয়ার পরে?
সরিয়ে
নেয়ার
আগে।
এপ্রিলে
সরিয়ে
নেয়ার
আগে।
মধ্য
এপ্রিলের
আগে
আগে।
আসলে
আমার
এ
ভিন্নমতের
বিস্তারিত
নথিটি
আমার
স্টাফের
১২-১৩
জন
মিলে
খসড়া
করেছিল।
আমি
করিনি।
তারা
আমার
কাছে
এসে
বলল,
আমরা
এ
বিবৃতি
পাঠাতে
চাই।
যুক্তরাষ্ট্র
এ
নৃশংসতার
নিন্দা
জানায়নি
বলে
আমরা
ক্ষুব্ধ।
এরা
সবাই
ইউএসএআইডি,
ইউএসআইএর
গুরুত্বপূর্ণ
সদস্য।
আমার
নিজের
ডেপুটি
এ
বিষয়ে
একমত
ছিল
না।
তিনি
বাদে
আমি
যাদের
মতকে
সম্মান
করতাম
তারা
সবাই
অংশগ্রহণ
করেছিল।
আমি
এটা
পাঠানোর
সিদ্ধান্ত
নিই
এবং
ট্রান্সমিট
করি।
এর
সঙ্গে
একটি
বিবৃতিও
যোগ
করা
হয়েছিল।
লিখেছিলাম,
‘আমি
ব্যক্তিগতভাবে
এটি
লিখিনি।
আমার
কাছে
এটি
উপস্থাপন
করা
হয়েছিল।
কিন্তু
তারা
আমার
সেরা
কর্মকর্তা।
তাদের
বক্তব্যে
আমার
দৃঢ়
বিশ্বাস
রয়েছে।
আমি
তাদের
আবেগের
সঙ্গে
একাত্ম
হয়ে
তা
প্রকাশ
করি।’
এরপর
এটি
পাঠানো
হয়।
আমরা
গোপনীয়তার
সঙ্গে
এটি
পাঠিয়েছিলাম।
হেনরি কিসিঞ্জার বলেছেন, রিপোর্টটি পাঠানোর ক্ষেত্রে আপনি যথেষ্ট গোপনীয়তা অবলম্বন করেননি। এটি
ফাঁস হয়ে
যেতে পারত।
কথাটি
সত্য
নয়।
আমি
এটা
ঠিকমতোই
পাঠাতাম।
গোপনীয়তা
আমাদের
স্বাভাবিক
একটি
প্রবৃত্তি
ছিল।
আমরা
এভাবেই
কাজ
করতাম।
কিন্তু
এখানে
এক্সক্লুসিভ
ডিস্ট্রিবিউশনের
একটা
ব্যাপার
ছিল।
আমার
সে
অনুসারে
কাজ
করা
উচিত
ছিল।
এখন
সেটা
বুঝতে
পারি,
কিন্তু
তখন
আমরা
যতখানি
গোপনীয়তার
রক্ষায়
অভ্যস্ত
ছিলাম
আমি
ততটাই
করেছি।
গোপনীয়তা
রক্ষার
ইচ্ছা
আমার
ছিল
না,
এ
কথাটি
সঠিক
নয়।
ওটা
তার
নিজস্ব
ধারণা।
আমি
আপনাকে
নিশ্চিত
করে
বলতে
পারি,
আমার
তরফ
থেকে
চেষ্টা
ছিল।
আমরা
এটি
দূতাবাসে,
ওয়াশিংটনে
ও
পাকিস্তানের
অন্যান্য
পোস্টে
পাঠিয়েছিলাম
এবং
দূতাবাস
নিশ্চিতভাবে
অন্যান্য
পোস্ট
থেকে
এটি
হাতিয়ে
নেয়।
দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
তারা কি
এ বিষয়ে
কোনো মন্তব্য করেছিল?
তাদের
প্রতিক্রিয়া
হিসেবে
তারা
অন্যান্য
পোস্ট
থেকে
এটি
সরিয়ে
নেয়।
আমার
মনে
নেই,
তবে
রাষ্ট্রদূতের
সঙ্গে
এ
বিষয়ে
আমার
কোনো
রূঢ়
বাক্যবিনিময়
হয়নি।
রাষ্ট্রদূত সে
রকম ব্যক্তি ছিলেন না,
যার সঙ্গে
এমন বাক্যবিনিময় হতে পারে।
ফারল্যান্ড ছিলেন
তো?
হ্যাঁ,
একদম।
তারা বললেন
আপনাকে ট্রান্সফার চাইতে?
হ্যাঁ।
আর
আমার
ছুটিও
বাকি
ছিল।
আমি
এথেন্স
থেকে
সরাসরি
চলে
এসেছিলাম।
দীর্ঘদিন
ধরে
আমি
বাড়ি
যাওয়ার
ছুটি
পাইনি।
তাই
আমি
ছুটি
চাইলাম
আর
ট্রান্সফার।
বিষয়গুলো
বেশ
মজার
ছিল
সেখানে।
আমার
যাওয়ার
কোনো
তাড়া
ছিল
না।
তাই
আমি
জুনের
মাঝামাঝি
পর্যন্ত
থেকে
যাই।
আমার
মনে
হয়,
আমি
সিডের
থেকে
ইঙ্গিত
পেয়েছিলাম।
সে
বলল,
‘কখন
যাচ্ছ?’
সৌজন্যতা
শেষ।
তবে
তারা
আশা
করছিল,
আমি
শিগগিরই
সেখান
থেকে
চলে
যাব।
কিন্তু
আমি
যাওয়ার
কোনো
তাড়ায়
ছিলাম
না।
মানে
আমি
জানতাম,
আমার
যেতে
হবে,
কিন্তু
আমি
কিছুটা
উপভোগও
করছিলাম...
পরিস্থিতিটা
খুব
মজার
ছিল।
আমাদের
১৩
জন
অফিসার
ছিল।
বাকি
দেশগুলোর
অফিসের
কর্মীও
কয়েকজন
ছিল।
ঘটনাক্রমে
একই
দিনে
ব্রিটিশ
ডেপুটি
হাইকমিশনারও
আমি
যে
কারণে
যাচ্ছি
সে
কারণেই
চলে
যায়।
তবে
ইরানিকে
আটকে
ফেলে
পাাকস্তানিরা।
কারণ
তিনি
ভারতীয়
ডেপুটি
হাইকমিশনারের
কাছে
গিয়েছিলেন,
যিনি
গৃহবন্দি
ছিলেন।
পাকিস্তানিরা
সেটা
পছন্দ
করেনি।
তারা
এ
বিষয়ে
শাহ
সরকারের
দৃষ্টি
আকর্ষণ
করে।
আমি
ভারতীয়
ডেপুটি
হাইকমিশনারের
কাছে
যাই
দুবার,
কিন্তু
সেটা
নির্দেশ
অনুযায়ী।
কলকাতার
পাকিস্তানি
ডেপুটি
হাইকমিশনারও
সেখানে
একইভাবে
গৃহবন্দি
ছিলেন।
সেখানে
আমাদের
কনসাল
জেনারেল
বা
তার
কর্মীদের
কেউ
তার
সঙ্গে
দেখা
করেন
আর
পানীয়
বা
পড়ার
কিছু
তুলে
নেন।
তার
সঙ্গে
যোগাযোগ
রাখেন
আর
তার
হয়ে
নয়াদিল্লিতে
বার্তা
পাঠান।
এটা
ছিল
অনুগ্রহের
বদলে
অনুগ্রহ।
তাই
দুবার
আমি
ভারতীয়র
সঙ্গে
যোগাযোগ
করি,
যে
আমার
খুব
ভালো
বন্ধু
ছিল।
আর
সেটার
অনুমতি
আমাকে
পাকিস্তান
আর্মিই
দিয়েছিল।
তারা
তাকে
গৃহবন্দি
করে
রাখে।
তা
সত্ত্বেও
আমি
তার
সঙ্গে
দেখা
করেছি।
আর
এটা
পাকিস্তান
আর্মির
জ্ঞাতসারে
হয়।
কারণ
কলকাতায়
একই
পরিস্থিতিতে
একই
ধরনের
পরিষেবা
পাকিস্তানি
কর্মকর্তাদের
ক্ষেত্রেও
আমরা
দিয়ে
আসছিলাম।
ভিন্নমত বহন
করা আপনার
এ বার্তা ফাঁস হওয়ার
পর ঢাকায়
কাজ করার
ক্ষেত্রে কী
প্রভাব ফেলেছিল? আপনি বাঙালি রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে কথা
বলতে পারছিলেন?
না। তারা কেউ মারা গিয়েছিলেন, বাকিরা ছিলেন আত্মগোপনে। অন্যদিকে পাকিস্তানি মিলিটারি অফিসাররা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে ভীত ছিল। জেনারেল টিক্কা খানকে গভর্নর করে এখানে পাঠানো হয়। তিনি আর্মিতে একজন লে. জেনারেল ছিলেন এবং কঠোর জেনারেল হিসেবে পরিচিতি ছিল তার। তার শপথ গ্রহণে আমি যেতে রাজি হইনি। একজন জুনিয়র অফিসারকে পাঠিয়েছিলাম। আমি জানি তিনি চাইতেন আমি যোগাযোগ করি। আমি একদিন কাজ শেষ করে বের হচ্ছিলাম, এমন সময় পাকিস্তান আর্মির একজন ক্যাপ্টেন রিভলভার হাতে এসে আমাকে বললেন, ‘গভর্নর আপনাকে তার অফিসে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন।’ আমি সেখানে গেলাম। বেশ হূদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে কথা হলো। পরদিন পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল, ‘আমেরিকান কনসাল জেনারেলকে গভর্নরের আমন্ত্রণ।’ কিন্তু আসলে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে কাজটা করা হয়েছিল। [অট্টহাসি]





