২০০৪ সালের ৩
সেপ্টেম্বর
আর্চার
ব্লাড
মারা
যান।
১৯৭১
সালে
বাংলাদেশের
মুক্তিযুদ্ধের
সময়
তিনি
ঢাকায়
মার্কিন
কনসাল
জেনারেল
হিসেবে
দায়িত্ব
পালন
করেন।
বাংলাদেশী
জনগণ
তাকে
একজন
প্রিয়
বন্ধু
হিসেবে
বিবেচনা
করে
এক
অনন্য
বীরত্বপূর্ণ
আসনে
বসিয়েছে।
১৯৭১
ও
এর
পরবর্তী
সময়ে
স্টেট
ডিপার্টমেন্ট
তার
সঙ্গে
যে
আচরণ
করেছিল
তাকে
তার
দুর্ভাগ্যই
বলতে
হবে।
১৯৯৬
সালে
স্বাধীনতার
২৫
বছর
পূর্তি
অনুষ্ঠানে
অংশগ্রহণের
জন্য
তাকে
বাংলাদেশে
আসার
আমন্ত্রণ
জানানো
হয়।
ব্লাড
ও
তার
বাংলাদেশী
বন্ধুদের
জন্য
১৯৯৬
সালের
সফরটি
ছিল
এক
অনন্য
পুনর্মিলন।
পূর্ব বাংলায়
পাকিস্তান
সরকারের
চাপিয়ে
দেয়া
সামরিক
আগ্রাসনের
সময়
আর্চার
ব্লাড
ব্যক্তিগত
সততা
ও
নৈতিক
সাহসের
জন্য
স্মরণীয়
হয়ে
থাকবেন।
সে
সময়
ভিন্নমত
পোষণ
করে
পাঠানো
একটি
তারবার্তায়
জ্যেষ্ঠ
স্বাক্ষরকারী
হিসেবে
তিনি
খ্যাতিমান
হয়ে
আছেন।
ফরেন
সার্ভিস
অফিসারদের
জন্য
ব্লাডের
কৌশল
ভিন্নমত
প্রকাশে
একটি
গুরুত্বপূর্ণ
মানদণ্ড
হয়ে
দাঁড়িয়েছে।
ফরেন
অফিসার
হিসেবে
তার
অনন্য
উদ্যোগ,
সততা,
বুদ্ধিবৃত্তিক
সাহস
এবং
গঠনমূলক
মতামতের
জন্য
আমেরিকান
ফরেন
সার্ভিস
অ্যাসোসিয়েশন
তাকে
Christian
A. Herter Award-এ
ভূষিত
করে।
তিন দশক
পরে
ব্লাড
তার
বই
দ্য ক্রুয়েল বার্থ অব
বাংলাদেশ: মেমোরিস অব আমেরিকান ডিপ্লোম্যাটে (ইউনিভার্সিটি প্রেস
লিমিটেড,
২০০২) ব্যক্তিগত
জীবন
ও
পেশাগত
জীবনের
বিভিন্ন
অভিজ্ঞতা
বর্ণনা
করেছেন।
ব্লাডের
চিন্তা
ও
বিশ্লেষণী
ক্ষমতা
বইটিকে
অনন্য
উচ্চতায়
নিয়ে
গেছে।
পাকিস্তানি
স্বৈরশাসক
ইয়াহিয়া
খানের
নিষ্ঠুরতার
বয়ান
দিতে
গিয়ে
তিনি
‘সিলেক্টিভ
জেনোসাইড’
টার্মটি
ব্যবহার
করেছেন,
যা
ওয়াশিংটনের
কাছে
নিষ্ঠুরতাকে
পরিমাপ
করতে
সাহায্য
করেছে।
তিনি
ও
তার
দল
এই
চাপিয়ে
দেয়া
নিষ্ঠুরতা
বন্ধের
জন্য
সর্বাত্মক
প্রচেষ্টা
চালিয়েছেন।
পাকিস্তানের সামরিক আগ্রাসন
১৯৭১
সালের
মার্চে
নির্বাচন-পরবর্তী
উদ্ভূত
রাজনৈতিক
বিরোধ
একটি
আলোচনার
মাধ্যমে
মীমাংসা
করতে
ব্যর্থ
হওয়ার
পর
পাকিস্তান
সরকার
পূর্বনির্ধারিতভাবে
ঢাকা
থেকে
বিদেশী
সংবাদমাধ্যমকে
সরিয়ে
দেয়
এবং
তার
পরে
বাংলাদেশে
একটি
ভয়াবহ
সামরিক
আগ্রাসন
শুরু
করে।
আওয়ামী
লীগ
নেতা
শেখ
মুজিবুর
রহমানকে
গ্রেফতার
করা
হয়
এবং
পাকিস্তান
সেনাবাহিনী
তার
সমর্থকদের
হত্যা
করতে
শুরু
করে।
উগ্র
ও
হিন্দুত্ববাদী
বিরোধিতার
কেন্দ্রবিন্দু
হিসেবে
চিহ্নিত
করে
তারা
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসে
বর্বরতা
চালায়।
ব্লাড
নিজেই
স্টেট
ডিপার্টমেন্ট
ও
হেনরি
কিসিঞ্জারের
ন্যাশনাল
সিকিউরিটি
কাউন্সিলের
কাছে
সরাসরি
রিপোর্টে
পাকিস্তানি
সেনাবাহিনীর
বর্বরতার
চিত্র
তুলে
ধরেন।
ক্যাম্পাসে
ছাত্রী
হলে
হামলা,
অগ্নিসংযোগ
করে
তারা
আগ্রাসনের
সব
মাত্রা
ছাড়িয়ে
গেছে।
হিন্দু
শিক্ষিত
শ্রেণীর
একটি
প্রজন্মকে
পরিকল্পিতভাবে
একের
পর
এক
হত্যা
করা
হয়।
গ্রামীণ
এলাকায়
পাকিস্তানি
হানাদাররা
হিন্দু
কিনা
নিশ্চিত
হওয়ার
জন্য
লুঙ্গি
পর্যন্ত
যাচাই
করত।
সন্দেহ
হলে
তত্ক্ষণাৎ
তাকে
মৃত্যুর
মুখোমুখি
হতে
হতো।
ক্রিস্টোফার হিচেনস
তার
বই
দ্য ট্রায়াল অব হেনরি
কিসিঞ্জারে
উল্লেখ
করেছেন,
‘ধর্ষণ,
খুন
ও
শিশুহত্যাকে
নিপীড়ন
ও
ভীতি
প্রদর্শনের
উপায়
হিসেবে
ব্যবহার
করা
হয়েছে।
প্রথম
তিনদিনে
অন্তত
১০
হাজার
বেসামরিক
নাগরিককে
হত্যা
করা
হয়।
সব
মিলিয়ে
বেসামরিক
মৃত্যুর
সংখ্যা
কখনই
পাঁচ
লাখের
কম
নয়,
সর্বোচ্চ
৩০
লাখ
পর্যন্ত
হতে
পারে।’
নৃশংসতার চরম
পর্যায়ে
১৯৭১
সালের
মার্চ-এপ্রিলে
ঢাকার
সঙ্গে
বৈশ্বিক
যোগাযোগ
প্রায়
সম্পূর্ণ
বিচ্ছিন্ন
হয়ে
পড়ে।
কিন্তু
ব্লাড
বুদ্ধিমত্তার
সঙ্গে
পাকিস্তানি
কর্তৃপক্ষের
কাছ
থেকে
একটি
ওয়্যারলেস
যোগাযোগ
ব্যবস্থা
রাখার
অনুমতি
পেয়েছিলেন
এবং
এই
দুর্বল
থ্রেডের
মাধ্যমেই
তিনি
ওয়াশিংটনে
তার
যোগাযোগ
অব্যাহত
রাখেন।
সে
সময়
একটি
কৌতুক
লোকমুখে
প্রচলিত
ছিল
‘blood,
butcher and kill.’ ব্লাড
ছিলেন
কনসাল
জেনারেল,
স্কট
বুচার
ঢাকার
রাজনৈতিক
কর্মকর্তা;
অ্যান্ডি
কিলগোর
সবে
ওয়াশিংটনে
ব্যুরোতে
চাকরি
করতে
বাংলাদেশ
ছেড়েছিলেন।
রাজনৈতিক সংকট
ঘনীভূত
হওয়ার
সঙ্গে
সঙ্গে
ইসলামাবাদ
দূতাবাস
ও
হোয়াইট
হাউজ
থেকে
ছড়ানো
বিভ্রান্তি
এবং
অস্থিরতার
মাঝেও
ব্লাড
তার
কণ্ঠস্বর
সমুন্নত
রেখেছেন।
মালার
ছড়িয়ে
পড়ার
মুক্তার
দানাগুলোকে
তিনি
যেন
পরম
মমতায়
এক
সুতায়
গাঁথার
চেষ্টা
করছিলেন।
উডওয়ার্ড
ও
বার্নস্টেইনের
সেই
মাথাব্যথার
যুগে
ওয়াশিংটন
প্রেস
ঢাকা
থেকে
সংবাদপ্রবাহের
মাত্রা
ধরতে
পেরেছিল।
তাই
প্রেসিডেন্ট
নিক্সনের
হোয়াইট
হাউজ
ও
হেনরি
কিসিঞ্জারের
নিরাপত্তা
কাউন্সিলের
গোপনীয়তা
সত্ত্বেও
তাদের
প্রশ্নের
সন্তোষজনক
জবাব
দেয়ার
চেষ্টা
করে
যাচ্ছিল।
ব্লাডের টেলিগ্রাম
আর্চার
ব্লাডের
তারবার্তাগুলোকে
ব্যঙ্গাত্মকভাবে
Blood
Telegram নামে
ডাকা
হতো।
সাংবাদিকদের
ঘন
ঘন
অমীমাংসিত
হত্যা
এবং
সন্দেহজনক
পরিস্থিতিতে
এটি
ঢাকার
সমসাময়িক
ঘটনার
পরিপ্রেক্ষিতে
বিশেষভাবে
প্রাসঙ্গিক
হয়ে
দাঁড়ায়।
ব্লাড টেলিগ্রামে
বলা
হয়েছে,
‘আমাদের
সরকার
গণতন্ত্রের
দমনপীড়নকে
সমালোচনা
করতে
ব্যর্থ
হয়েছে।
তারা
নৃশংসতার
নিন্দা
করতে
ব্যর্থ
হয়েছে।
আমাদের
সরকার
তার
নাগরিকদের
সুরক্ষার
জন্য
জোরদার
ব্যবস্থা
নিতে
ব্যর্থ
হয়েছে।
একই
সঙ্গে
পশ্চিম
পাকিস্তানের
আধিপত্যবাদী
সরকারকে
শান্ত
করা
এবং
তার
বিরুদ্ধে
আন্তর্জাতিক
অঙ্গনে
নেতিবাচক
প্রভাব
কমানোর
জন্য
কাজ
করছে।
দ্বিমুখী
নীতি
অবলম্বন
করে
সরকার
নৈতিক
দেউলিয়াত্বের
সর্বোচ্চ
প্রমাণ
দিয়েছে।’
‘আওয়ামী
সংঘাতের
এ
সময়ে
গণহত্যা
শব্দটি
দুর্ভাগ্যজনকভাবে
অতিমাত্রায়
ব্যবহূত
হচ্ছে।
কিন্তু
নৈতিকভাবে
আমরা
একটি
সার্বভৌম
রাষ্ট্রের
অভ্যন্তরীণ
বিষয়ে
হস্তক্ষেপ
না
করার
সিদ্ধান্ত
নিয়েছি।
আমেরিকার
সাধারণ
জনগণ
সরকারের
প্রতি
অনাস্থা
প্রকাশ
করেছে।
আমরা,
বেসামরিক
কর্মচারী
হিসেবে
বর্তমান
নীতির
সঙ্গে
ভিন্নমত
পোষণ
করি।
আমরা
আন্তরিকভাবে
আশা
করি
যে
এখানে
আমাদের
প্রকৃত
এবং
দীর্ঘস্থায়ী
স্বার্থ
নতুন
করে
সংজ্ঞায়িত
করা
যেতে
পারে
এবং
আমাদের
বৈদেশিক
নীতি
পুনরায়
ঢেলে
সাজানো
যেতে
পারে।’
এ তারবার্তায়
ঢাকাস্থ
মার্কিন
কনস্যুলেটের
২০
জন
সদস্য
এবং
ওয়াশিংটনের
Near
Eastern Affairs Bureau’র
নয়জন
কর্মকর্তা
স্বাক্ষর
করেছেন।
ব্লাডের বইটি
সে
সময়ের
ঘটনাবলি
পর্যালোচনায়
তাত্পর্যপূর্ণ
ভূমিকা
রেখেছে।
তিনি
যথেষ্ট
সততার
সঙ্গে
‘যেমন
দেখেছি
তেমন
বলেছি’
নীতি
অনুসরণ
করেছেন।
তার
বইতে
টেলিগ্রাম
নিয়ে
আলোচনা
করতে
গিয়ে
৩১
বছর
পর
ব্লাড
দুটি
বিষয়ে
আত্মসমালোচনা
করেছেন।
প্রথমত,
তিনি
নিয়মানুসারে
আদেশ
অনুসরণ
করেননি।
দ্বিতীয়ত,
‘আমাদের
সরকার
তার
নিজের
নাগরিকদের
সুরক্ষা
দিতে
ব্যর্থ
হয়েছে’—এ
দাবিটি
তিনি
যদি
জোরগলায়
না
বলতেন।
ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ
ব্লাডের
ভাষ্যমতে,
তারবার্তার
প্রতিক্রিয়া
ছিল
এরূপ,
‘ক্ষয়ক্ষতি
নিয়ন্ত্রণের একটি দুর্দান্ত
প্রদর্শনী।’
ইসলামাবাদে
রাষ্ট্রদূত
জোসেফ
ফারল্যান্ড
অবিলম্বে
সব
কপি
ধ্বংস
করার
নির্দেশ
দেন।
ওয়াশিংটনে
Near
Eastern Affairs-এর
সহকারী
সেক্রেটারি
জো
সিসকো
হেনরি
কিসিঞ্জারকে
ফোন
করে
মন্তব্য
করেছিলেন,
‘আমার
লোকেরা
রিজারভেশন
ছেড়ে
যাচ্ছে
বলে
মনে
হচ্ছে।’
এ অপবাদের
জবাবে
নয়াদিল্লিতে
মার্কিন
রাষ্ট্রদূত
কেনেথ
কিটিং
দ্বারা
করা
সমর্থনমূলক
মন্তব্যের
জন্য
প্রেসিডেন্ট
নিক্সন
লিখেছিলেন,
‘কিটিং
ভারতীয়দের
দ্বারা
প্রভাবিত’
হয়েছে।
আর্চার ব্লাডকে
১৯৭১
সালের
জুনে
ঢাকা
থেকে
প্রত্যাহার
করা
হয়।
পরবর্তী
কয়েক
বছরের
জন্য
পার্সোনাল
ব্যুরোতে
পাঠিয়ে
দেয়া
হয়।
১৯৮২
সালের
একটি
সাক্ষাত্কারে
তিনি
বলেছিলেন,
‘আমাকে
আমার
ভিন্নমতের
জন্য
মূল্য
দিতে
হয়েছে।
কিন্তু
এছাড়া
আমার
আর
কোনো
উপায়
ছিল
না।
কারণ
সত্য
ও
মিথ্যার
মধ্যে
পার্থক্যগুলো
ভীষণ
স্পষ্ট
ছিল।’
ডগলাস কার: ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের সহকারী পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার ভাষান্তর: নোমান বিন হারুন





