খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের বালিয়াখালী সেতুর ওপর দিয়ে হু হু বেগে গাড়ি ছুটে চলে। আর সেতুর নিচে মানুষ বসবাস করে, ধান-সবজি-মাছের চাষ করে। একসময় প্রমত্তা হামকুড়া নদীর ঢেউয়ে যেখানে নদীতীরবাসীর বুকে কাঁপন ধরত, এখন সেখানে প্রবাহের লেশমাত্র নেই। পুরো নদীই উবে গেছে। খুলনার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ রকম চারটি নদ-নদী একেবারে শুকিয়ে মরেছে। সাতটি প্রায় মরে গেছে এবং অনেকগুলো মরতে বসেছে। এর ফল হিসেবে প্রাকৃতিক নিষ্কাষণ ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে, বৃষ্টি হলেই দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। ভবদহ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একেবারে মরে যাওয়া নদ-নদী চারটি হচ্ছে: হামকুড়া, শালিখা, লাবণ্যবতী ও সাপমারা। আর প্রায় মরতে বসা সাতটি নদী হচ্ছে হরি, আপারভদ্রা, ঘ্যাংরাইল, কপোতাক্ষ, শালতা, বেতনা ও মরিচ্চাপ। এ অঞ্চলের বড় নদ ভৈরবের উত্তরাংশ শুকিয়ে গেছে, নিচের দিকে টিকে আছে; যার সঙ্গে এখানকার কপোতাক্ষ, বেতনা, মুক্তেশ্বরী, চিত্রা নদী ও ভবদহ এলাকার নদ-নদীর প্রবাহের বিষয়টি জড়িত। আবার কপোতাক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে উল্লিখিত ১১টি নদী। এ নদ-নদীগুলো পলি জমে মরছে। ভদ্রা-হরি-শ্রী নদীর সংযোগটি যা ভবদহ স্লুইস গেটে মিশেছে, তাও প্রায় শুকিয়ে গেছে। আর আঠারোবেঁকী নদীতে শ্রোত নেই, শিবসার গভীরতা কমেছে, মধুমতি-গড়াই নিভু নিভু করছে। চিত্রা-নবগঙ্গার অবস্থাও তথৈবচ। মাথাভাঙ্গায়ও সেই প্রবাহ নেই।
ইতিহাস বলছে, শত শত বছর ধরে হাজার হাজার কোটি কণা পলি সঞ্চিত হয়ে খুলনা উপকূলের ভূমি গড়ে উঠেছে। নদীতীরবর্তী ভূমিতে মানুষ বসতি গড়ে তুলেছে। ১৯৭০ সালের দিকেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অনেকগুলো নদ-নদী ছিল। নদীই ছিল পরিচিতি। নদীই ছিল যোগাযোগ ও বসতির উত্সস্থল। নদীই ছিল সীমানা। নদীকেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থাই ছিল প্রধান ধারা। অঞ্চলটি গাঙ্গেয় বদ্বীপ নামে পরিচিত। হিমালয়ের গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গা নদীর উত্পত্তি। ভারতের বিশাল জায়গা ঘুরেফিরে নদীটি পদ্মা নামে রাজশাহীর কাছে কুষ্টিয়ার উত্তর সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে। তারপর গোয়ালন্দের কাছে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলেছে, যা পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। খুলনা-যশোর অঞ্চল পদ্মা ও এর শাখা নদী এবং ভৈরব, কপোতাক্ষ ও মধুমতি এবং এর শাখা-উপনদীতে সিক্ত। মাকড়শার জালের মতো ছড়িয়ে ছিল এ নদ-নদীগুলো।
খুলনাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীগুলো হচ্ছে— মাথাভাঙ্গা, ভৈরব ও গড়াই। ভৈরব, মাথাভাঙ্গা ও এদের শাখানদীগুলো বর্তমানে মৃতপ্রায়। গড়াই নদী পদ্মার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এর মুখে (উত্পত্তিস্থল) পলি জমা হওয়ায় শুকনো মৌসুমে এটি পদ্মার প্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে বর্ষা মৌসুমে প্রচুর পানি পদ্মা হয়ে গড়াই দিয়ে প্রবাহিত হয়। দক্ষিণাংশের জোয়ার-ভাটার নদ-নদীগুলো এখনো প্রবহমান। নদীগুলোয় ২৪ ঘণ্টায় দুবার জোয়ার ও দুবার ভাটা হয়। জোয়ারে নদীগুলো বিপুল পরিমাণে পলি নিয়ে আসে।
খুলনার ডুমুরিয়ার হামকুড়া ও আপার শোলমারী নদীটি ভবদহ এলাকার শ্রী নদী থেকে উত্পত্তি। পোল্ডার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আপার শোলমারীর ওপরের অংশে নদী বেঁধে ডুমুরিয়া উপজেলার শলুুয়ায় ১০ ভেন্ট (কপাট) ও হামকুড়া নদীতে আমভিটায় ৮ ভেন্ট এবং থুকড়ার ৩ ভেন্ট স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয় (২৫ নং পোল্ডার)। আমভিটার স্লুইস গেট থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে হামকুড়া নদীটি ভদ্রা নদীতে মিশেছে। বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে এলাকাবাসী দৌলতপুর-সাহাপুর সড়কের সন্ধ্যার খাল এলাকা কেটে হামকুড়ার সঙ্গে বিল ডাকাতিয়ার সংযোগ ঘটায়। এতে হামকুড়ার প্রবাহ বাড়ে এবং জোয়ারের পানিতে বয়ে আনা পলি সঞ্চিত হয়ে ভূমি উঁচু হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনা-যশোর ড্রেনেজ রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট (কে-জেডিআরপি) বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এ কাটা অংশ বন্ধ করে দেয়। আর দুই বছরের মধ্যেই প্রবাহ বিচ্ছিন্ন হামকুড়া নদীর বুকে পলি জমে শুকিয়ে একচিলতে হয়ে যায়, যা এখন সম্পূর্ণ ভূমি। দেখে বোঝারই উপায় নেই যে, এখানে একসময় নদী ছিল।
একইভাবে বাংলাদেশ-ভারত সীমানা বিভাজনকারী ইছামতি নদী থেকে ওঠা সাতক্ষীরার লাবণ্যবতী ও সাপমারা নদীর মুখে স্লুইস গেট করার প্রতিক্রিয়ায় পুবমুখো প্রবাহিত এ নদী দুটোর প্রবাহ কমেছে। পানি না পেয়ে এ নদী দুটো মরেই গেছে। যশোর-খুলনা রেলপথ তৈরি করতে গিয়ে মাথাভাঙ্গার সঙ্গে ভৈরবের বিচ্ছিন্নতা ঘটানো হয়। এতে মাথাভাঙ্গার মূল শ্রোত ভৈরবের পরিবর্তে কপোতাক্ষ দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। আর মাথাভাঙ্গার পানি না পেয়ে ভৈরব নদ যশোরের চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর থেকে যশোর শহরের বুক চিরে বাঘারপাড়া ও অভয়নগর যাওয়ার পথে শুকিয়ে যায়। ভৈরবের নিচের অংশটি, যা সাগর থেকে আসা জোয়ারের পানিতে টিকে আছে, অভয়নগর-মজুদখালী হয়ে খুলনা শহর থেকে পুবমুখো আঠারোবেঁকী নামে বাগেরহাটের দড়াটানায় মিশেছে। পরে তা বলেশ্বর হয়ে সাগরে পড়েছে। রূপচাঁদ সাহা খাল কাটলে ভৈরব নদের এ প্রবাহ প্রবল বেগে দক্ষিণমুখো রূপসা-কাজিবাছা (কাচিপাতা)-পশুর হয়ে সাগরে মেশে। ফল হিসেবে আঠারোবেঁকি শুকিয়ে একচিলতে হয়ে কোনো রকমে টিকে আছে। আর উত্তরের চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা থেকে যশোরের চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটারের মাথাভাঙ্গা নদীটিও ভরাট হয়ে গেছে।
কাসিমপুর ও রানাই খেয়াঘাটের মোহনা থেকে ভবদহ স্লুইস গেট পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার নদী অববাহিকাকে সাধারণত হরি অববাহিকা নামে অভিহিত করা হয়। স্থানীয় ভাষায় এ নদীকে শ্রী নদী বলে। এটি একটি জেলা বিভাজনকারী নদী। এর পূর্ব পাশে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা এবং পশ্চিম পাশে যশোর জেলার কেশবপুর, মণিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলা। ভবদহ স্লুইস গেটের ওপর থেকে শুরু করে যশোর ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার মৃত নদীর নাম টেকা-মুক্তেশ্বরী। টেকা-মুক্তেশ্বরী নদী যশোর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ভৈরব নদ থেকে শুরু হয়ে যশোর সদর, মণিরামপুর-অভয়নগর উপজেলার মধ্য দিয়ে ভবদহে এসে হরি বা শ্রী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ১৯৬৫ সালে ভবদহ স্লুইস গেট নির্মাণ করলে এ নদী মরে যায়।
ভববদহ একটি ত্রিমোহিনী। এখান থেকে শ্রী বা হরি নদী ফুলতলা উপজেলার জামিরার মধ্য দিয়ে বিল ডাকাতিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। টেকা-মুক্তেশ্বরী অববাহিকার পানিও বিল ডাকাতিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্কাশন হতো। ভবদহ এলাকায় বিল ডাকাতিয়ামুখী প্রবাহ পোল্ডার করার সময় বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন টেকা-মুক্তেশ্বরী এলাকার পুরো পানিই হরি নদী দিয়ে নিষ্কাশন হয়।
আপারভদ্রা-হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদী তিনটির সংযোগস্থর হলো বড়েঙ্গার ত্রিমোহিনী হড়হড়িয়ার মুখ। হড়হড়িয়া থেকে উত্তরমুখী হরিহর নদ প্রায় ঝিকরগাছা পর্যন্ত বিস্তৃত। ঝিকরগাছার কপোতাক্ষ নদ থেকে হরিহর নদের শুরু। বর্তমান কপোতাক্ষ নদ থেকে এ নদী সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, উত্সমুখের তিন-চার কিলোমিটার মৃত নদীর ওপর বিভিন্ন রকম অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। ধারণা করা হয়, প্রায় ১৫০ বছর আগে এ নদী কপোতাক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উত্সমুখের ঝিকরগাছা থেকে মণিরামপুর সদর ও কেশবপুর সদরের পাশ দিয়ে বড়েঙ্গায় এসে ভদ্রা নদীর সঙ্গে হরিহর নদ মিশেছে।
অন্যদিকে বুড়িভদ্রা নদীর উত্পত্তি কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহিনী থেকে। এটিও হরিহর নদের মতো প্রায় ১৫০ বছর আগে কপোতাক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বুড়িভদ্রা কপোতাক্ষের অন্যতম শাখা নদী। ত্রিমোহিনী থেকে কেশবপুর সদরের পাশ দিয়ে এসে বড়েঙ্গায় যে স্থানে হরিহর নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে, ওই পর্যন্ত নদীকে বুড়িভদ্রা নদী বলে। বড়েঙ্গা থেকে ত্রিমোহিনী পর্যন্ত নদীর দৈর্ঘ্য ২২ কিলোমিটার। বড়েঙ্গার সংযোগস্থল থেকে কাসিমপুর ত্রিমোহিনী পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার নদীর নাম আপারভদ্রা নদী। আপারভদ্রা-হরিহর অববাহিকার প্রশাসনিক এলাকা হলো যশোরের কেশবপুর ও মণিরামপুর উপজেলা, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলা।
প্রকৃতপক্ষে আমরা নদী শাসন করতে গিয়ে নদী মেরে ফেলেছি। নদীকে শাসনে-নিয়ন্ত্রণে এনে আমরা আমাদের মতো চলতে বাধ্য করেছি। প্রকৃতি বিরুদ্ধ এ চেষ্টার প্রতিক্রিয়া হয়েছে খুবই মারাত্মক। এ অঞ্চলে জালের মতো নদ-নদীগুলো এখন প্রবাহ ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি আটকে যায়, নিষ্কাশন হতে পারে না; জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
বলাই বাহুল্য, নদী শাসনসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে আমরা এ এলাকার ভূপরিবেশগত পরিস্থিতি বিবেচনায় এনেছি, তা বলা যাবে না। এখানকার ভূমি গঠন সম্পূর্ণ না হওয়ার আগেই আমরা স্থায়ীভাবে বাঁধ (পোল্ডার) ব্যবস্থা গড়ে তুলি এবং জোয়ারে আসা বিপুল পরিমাণ পলি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি একেবারেই এড়িয়ে যাই। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, অর্ধশতকের পরও আমরা বিষয়টি যথাযথভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি না। উপরন্তু আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, এ অঞ্চলে প্রতি ১০-১১ বছরের ব্যবধানে একাধিক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত হয়, যাতে বন্যা দেখা দেয়। আবার ৬০-৭০ বছরের ব্যবধানে একটি ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। ১৯৩০ ও ১৯৯৯ সালে খুলনাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। আর ২০০৬ সালে ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতা; ২০০৯ ও ২০১১ সালে তালা এলাকায় জলাবদ্ধতা ও ২০১৬ সালে আবারো ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রভৃতি এক-দুদিনের বৃষ্টির প্রতিক্রিয়া। এ এলাকায় বাঁধ ব্যবস্থার আগে যেখানে অতিবৃষ্টিতে বন্যা দেখা দিত, এখন সেখানে নদী না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে, এটাই তো স্বাভাবিক। পাউবোর প্রতিবেদন অনুসারে গত তিন দশকে দেশের ১৭টি নদ-নদী মানচিত্র থেকে পুরোপুরি হারিয়ে গেছে, যার মধ্যে খুলনার হামকুড়া, সাতক্ষীরার মরিচ্চাপ ও যশোর অংশের ভৈরব অন্যতম। এছাড়া এ প্রতিবেদনে মৃতপ্রায় আটটি নদ-নদীর মধ্যে রয়েছে নড়াইল-পিরোজপুরের কালীগঙ্গা ও যশোর-খুলনার ভদ্রা নদী। সারা দেশেই নদীর তলদেশে পলি পড়ে শেষ হয়ে গেছে নৌপথ-নৌবন্দরগুলো। বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে খুলনা বিভাগের ছয়টি নদী শুষ্ক মৌসুমে সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। খরিফ শস্য উৎপাদনে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নদী মরে যাওয়ার কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোর কৃষি ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এসব নদ-নদীর সঙ্গে জড়িত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চিরায়ত জীবনযাত্রাও বিলীন হতে চলেছে। ফলে নদীর সঙ্গে সম্পৃক্ত লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা এখন হুমকির সম্মুখীন।
বাংলাদেশ অভন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের নদীপথের দৈর্ঘ্য ছিল ২৪ হাজার কিলোমিটার, যা ১৯৮৪ সালের শুষ্ক মৌসুমে ৫ হাজার ২০০ কিলোমিটার ও বর্ষা মৌসুমে ৮ হাজার ৪০০ কিলোমিটারে এসে দাঁড়ায়। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে নদীপথ আছে ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার ও বর্ষা মৌসুমে ছয় হাজার কিলোমিটার। বাংলাদেশে মোট নদ-নদীর সংখ্যা কত, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। পাউবোর মতে, নদী, উপনদী ও শাখানদী মিলিয়ে বাংলাদেশে নদ-নদীর সংখ্যা ২৩০। তবে স্থানীয় ক্ষেত্রে ৪২০টি নদ-নদীর নাম পাওয়া যায়। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সেন্টারের (সিইজিআইএস) তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে মোট ১ হাজার ২০০ নদ-নদী আছে।
যাই হোক, নদী আমাদের বাঁচাতে হবে। নদী না বাঁচলে আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশ কিছুই টিকবে না। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষ রোববার দিনটি নদী দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৮০ সালে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় মার্ক এঞ্জেলোর নেতৃত্বে নদী বাঁচাও আন্দোলনের সূচনার মধ্য দিয়ে দিবসটির শুরু। ২০০৫ সালে দিবসটি জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়। আসুন, আমরাও নদীকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার করি। নদীকে বাঁচিয়ে রেখেই যেন সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড রূপায়ন করতে পারি— এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক: সাংবাদিক






