বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হলো ডেল্টা ক্রসকাট। এটি হয়েছে মৃত্তিকা/মাটির বাঁধ বা আইল গড়ে তোলার কারণে। এ বাঁধগুলো তৈরি করা হয়েছে কৃষিজমিকে নদীর পানি থেকে রক্ষা করার জন্য। ‘পোল্ডার’ নামের এ বাঁধগুলোর তৈরি শুরু ১৯৬০ দশকে, বিপর্যয়কর বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য। এর পর থেকে এগুলোতে প্রায় নিয়মিত পুনর্বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। কেননা মৌসুমি ঝড়, বর্ষা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এ পোল্ডারগুলো প্রতি বছর ক্ষয়ে যায়। যার ফলে নদীর পানি এগুলো ডিঙিয়ে নিচু গ্রামগুলোকে ভাসিয়ে দেয়। এ অঞ্চলে দেশের বেশির ভাগ মানুষ বাস করে।

পানি হলো বারোমেসে উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও বৈশ্বিক নীতি তৈরিকারকদের মতে, বাংলাদেশের পরিবেশগত সমস্যাগুলোর পেছনে প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। কিন্তু এ ধারণার কারণে অস্থির/ অস্থিতিশীল বদ্বীপীয় ভূদৃশ্যে মানুষের হস্তক্ষেপের দীর্ঘতর ইতিহাস চাপা পড়ে যাচ্ছে। জাতিগত গবেষণা ও সংরক্ষিত উত্স ব্যবহার করে প্রস্তুত করা এ প্রবন্ধের লক্ষ্য অনিশ্চিত আবহাওয়া, অস্থিতিশীল ভূদৃশ্য এবং মানুষের বহুমাত্রিক সামাজিক ও পরিবেশগত পারস্পরিক ক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়ন কী হতে পারে। তবে মূলত, বদ্বীপীয় ভূমিকে মানুষ যে আকার দিচ্ছে, তার ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা।

স্থান ও দৃশ্য

শিবসা, কপোতাক্ষ, বুড়িভদ্র— এসব নদীই নিজেদের বিখ্যাত মূল অংশ; মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা নদীর দক্ষিণী শাখা। এ জলপথ প্রবাহের চূড়ান্ত পরিসীমা নির্দেশ করছে, যেটি উত্পন্ন হয়েছে হিমালয় ও তিব্বতের মালভূমিতে এবং এ প্রবাহ উপমহাদেশের দিয়ে যাত্রা করে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগরে গিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, নদীগুলোতে নিয়ম মেনে প্রতিদিন জোয়ার-ভাটা হয়। সব মৌসুমে এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। প্রতিটি মৌসুমের নিজস্ব সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।

অতি বর্ষা মৌসুমে, গর্তে ভরা নদীগর্ভ পানিতে স্ফীত হয়ে ওঠে, যার ফলে অস্থির হয় নদীগুলো। পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পানি মানুষ নির্মিত মাটির বাঁধ ডিঙিয়ে প্রবেশ করে। মানুষের উদ্দেশ্যপূর্ণ ডেল্টার পুনর্নির্মাণের চাক্ষুষ ও বাস্তব নিদর্শন এ বাঁধগুলো। মাঝে মাঝে বাঁধ বাধা দেয়, কিন্তু কখনো কখনো পারে না, তখন বিপুল পরিমাণ পানি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছে একাধিক গ্রাম, কৃষিজমি, বাজার এবং অন্যান্য স্থাপনা, যেখানে মানুস বাস করে, কাজ করে। এ ধরনের জলাবদ্ধতা সর্বনাশা হতে পারে। মাঝে মাঝে কয়েক মাস ধরে বাড়ি ও জমি ডুবিয়ে রাখে। যত দিন না বাঁধগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য সম্পদ জোগাড় না হয়, তত দিন এমন অবস্থা চলে। এমন একটি জায়গায় যেখানে একদিকে বদ্বীপীয় ভূদৃশ্যে মানুষের হস্তক্ষেপের ইতিহাস রয়েছে, আবার মৌসুমি আবহাওয়া বারোমেসে অনিশ্চয়তা তৈরিতে অবদান রাখছে, সেখানে টেকসইতার মানে কি?

২০১৫ সালের আগস্টের এক মেঘাচ্ছন্ন দিনে, আসিফ ভাই (ছদ্মনাম) এবং আমি দাঁড়িয়েছিলাম সম্প্রতি ক্ষয়প্রাপ্ত একটি বাঁধের উচ্চতম স্থানে, যেটি উচ্চ জোয়ার স্তরের ১৮ ফুট উপরে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও আঞ্চলিক এনজিও কর্মীদের সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করছিলাম। আমরা ছিলাম বাংলাদেশের ঝুমকিনদী উপজেলায়, যেখানে দুই সপ্তাহ আগে বুড়িভদ্র নদী মাটির বাঁধের দুর্বলতম অংশ ভেঙে প্রবেশ করেছে। ওই অংশটি মৌসুমি বৃষ্টির ফলে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। বন্যাঞ্চলের সবচেয়ে নিচু এলাকার গ্রামগুলোর বাসিন্দারা সংলগ্ন রাস্তার পাশে অস্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করেছিল। এ রাস্তাই একমাত্র উঁচু জায়গা। নিজেদের বাসার খাটের কাঠের কাঠামো ব্যবহার করেছিল রাস্তা পর্যন্ত প্লাটফর্ম হিসেবে। আশ্রয়ীরা ছাদ তৈরির জন্য প্লাস্টিক/পলিথিন শিট ব্যবহার করেছিল বৃষ্টির ও প্রায় কাছাকাছি চলে আসা নদীর পানির হাত থেকে নিজেকে এবং নিজেদের আসবাবপত্র রক্ষা করতে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিলাপ করছিলেন আসিফ ভাই। তিনি জানেন, যতক্ষণ না স্থানীয় নির্বাচিত চেয়ারম্যান বাঁধ পুনর্নির্মাণে সরকারের কাছ থেকে তহবিল জোগাড় করতে না পারছেন, ততক্ষণ এ অনিশ্চয়তা থাকবে। এ সময় আসিফ ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক, যাদের বেশির ভাগই আশপাশের গ্রামের যুবক থেকে মধ্যবয়সী লোক, নতুন করে একটি নিয়ন্ত্রণ দেয়াল তৈরি করছে, যা মূল ফাটল থেকে আধা মাইল দূরে।

এ ধরনের জলাবদ্ধতা এখানকার কারো অপরিচিত নয়। এখানে সবচেয়ে বড় বন্যা হয়েছে ১০ বছর আগে, কিন্তু ছোটখাটো বন্যা নিয়মিতই হয়। নদীবহুল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যা বিভিন্নভাবে পুরুষ, নারী ও শিশুদের জীবন ও জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়। কৃষিকার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়, হয়তো একটি পুরো মৌসুম স্থানীয় বাজারের জন্য চাল উৎপাদন ও পারিবারিক ভোগ বন্ধ রাখতে হয়, বিদ্যালয়গুলো সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে এবং দিনমজুররা নিজেদের স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না, ফলে তাদের নিজ ও নিজের পরিবারের জন্য দৈনন্দিন আয় বন্ধ হয়ে যায়।

ভূদৃশ্য পুনর্নির্মাণ

এ নিমজ্জিত এলাকাটিতে রয়েছে একাধিক গ্রাম ও স্থান এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের বাংলাদেশে এটি ১২৩টি এলাকার একটি যেগুলো ঘিরে রেখেছে মাটির বাঁধ, যেগুলোকে বলা হয় পোল্ডার। এগুলো হলো রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক দাতাদের দেয়া অর্থে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ভূদৃশ্যে অবকাঠামোগত হস্তক্ষেপের নিদর্শন।

১৯৫৪-৫৬ সালের মধ্যে হওয়া তিনটি বড় বন্যার প্রেক্ষিতে, তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ দলকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও অতিরিক্ত পানি সমস্যার সমাধান কি করা যেতে পারে, তার সুপারিশ করার জন্য নিয়োগ দেয়। এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন জাতিসংঘের সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জুলিয়াস এ কার্গ। এ দলটি ১৯৫৭ সালে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে বড় নদীপথ ও জমির মাঝখানে বাঁধ নির্মাণে উত্সাহিত করা হয়।

তবে সঙ্গে বাঁধ নির্মাণে সতর্কতা অবলম্বন করার কথাও উল্লেখ করা হয়। কেননা বাঁধ নদী দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে (যদি এর উচ্চতা অপর্যাপ্ত হয়) এবং এটি ছাপিয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে (কার্গ ১৯৫৭[২০১০]:২৫১)। ১৯৬০ দশকের শুরুতে পোল্ডার নির্মাণ শুরু হয়। এতে আংশিকভাবে অর্থায়ন করে ইউএসএআইডি ও বিশ্বব্যাংক। যদিও তখন কিছু প্রকৌশলী সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, এ প্রকল্পের ফলে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে (আদনান ২০০৯:১০৮)।

১৯৯০ সালের মধ্যে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের বেশিরভাগই, যেখানে তিন কোটি লোক বাস করত, ঘিরে দেয়া হলো ৭ হাজার ৫৫৫ কিলোমিটার বাঁধ দিয়ে (থম্পসন অ্যান্ড সুলতান ১৯৯৬:১)। এমনকি তৈরির সময়ও, বন্যায় নদীতীরের গ্রাম ও উপকূলবর্তী এলাকা ডুবতেই ছিল, যেখানে পোল্ডার তৈরি করা হচ্ছিল রক্ষা করার নিমিত্তে।

নদীর স্রোতে ভেসে যে বর্জ্য ও পলি আসত, যা স্লুইস গেটগুলোতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। পোল্ডারে ভেতর ও বাইরের পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে এ স্লুইস গেটগুলো তৈরি করা হয়। ক্ষয়সাধন ক্রমাগতভাবে ভূদৃশ্যে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আনার প্রচেষ্টাকে অকার্যকর করে এবং আরো বড় করে বললে সেখানে যারা বাস করে, তাদের জীবন তছনছ করে।

একটি আধুনিক প্রকল্প হিসেবে ১৯৬০ দশকে বাংলাদেশে পোল্ডার নির্মাণ শুরু হয়। ওই সময় রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার তহবিলকৃত অন্যান্য লোকদেখানো ঝুঁকি হ্রাসে চালানো পরীক্ষার মতোই এটি ছিল। যেমনটা ছিল গ্রিন রেভ্যুলুশনের পরীক্ষা, যেটি উচ্চফলনশীল বীজ ও রাসায়নিক প্রযুক্তি তৈরি করে, পরবর্তীতে যা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে (মুহাম্মদ ২০০৪:৩৪৪৭)। উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক, পরিবেশগত, রাজনৈতিক, কৃষি, বায়ুমণ্ডলীয় ও অর্থনৈতিক অনিশ্চিত পরিবেশে স্থিতিশীলতা আনা, কিন্তু পোল্ডারগুলো এমন এক সিস্টেম হয়ে দাঁড়াল, যেখানে প্রায় নিয়মিত সংরক্ষণ ও পুনঃবীকরণ বিনিয়োগ প্রয়োজন পড়ে।

বন্যায় আক্রান্ত আরো লাখো মানুষকে বাঁচাতে ১৯৮০ দশকের শেষ দিকে বিশ্বব্যাংক ‘ফ্ল্যাড অ্যাকশন প্ল্যান ফর বাংলাদেশ’ প্রকাশ করে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, বন্যার ক্ষতি হ্রাসের চেয়ে ভূমি ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর বন্যা নিয়ন্ত্রণে অর্থনৈতিক সমর্থন বেশি নিহিত রয়েছে (বিশ্বব্যাংক ১৯৯০:৪)। এ দাবি, যেখানে আর্থসামাজিক বিষয়গুলো ছাপিয়ে অর্থনৈতিক চিন্তাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং এ পরিকল্পনার অন্যান্য দিক, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নদীগুলোর তীরে বাঁধ নির্মাণ ওই সময় সমালোচনায় পড়েছিল (বয়েস ১৯৯০, কাস্টারস ১৯৯৩)। ১৯৯০ দশকের শেষ দিকে বৃহত্তর অবকাঠামো নির্মাণের পক্ষে সমর্থন কমতে থাকে এবং সরকারি কর্মকর্তারা জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় ছোট ছোট প্রকল্পের সুপারিশ করেন (ব্রামার ২০১০:১১৯)।

বেঙ্গল ডেল্টায় বন্যা একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। মোগল ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগে লোয়ার ডেল্টা স্থায়ী হওয়ার পর থেকে এ সমস্যা চলছে। এ সমস্যার বিস্তৃত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সরকারি প্রভাব এ অঞ্চলে পড়ছে। উৎপাদনশীল ভূমি এবং এর ওপর নির্ভরশীল বসবাসকারীদের রক্ষা করার জন্য এখন যে পদক্ষেপ নেয়া হবে, তাতে যারা ঋতু, আবহাওয়া, পানি ও ভূদৃশ্য খামখেয়ালির সঙ্গে লড়াই করে চলছে তাদের জীবন্ত অভিজ্ঞতা যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। কেননা এরাই বড়-ছোট প্রকল্প ও হস্তক্ষেপের তাত্ক্ষণিক ও দীর্ঘ উভয় মেয়াদি প্রভাব বুঝতে পারে।

বন্যা নিরাপত্তা পরিকল্পনার যারা সুবিধা পাবে বলে ধরে নেয়া হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বদ্বীপীয় পরিবেশে বাস ও কাজ করা এসব লোকের স্থানীয় ও আঞ্চলিক সমাধান প্রকল্পে সংযুক্ত করা হলে আরো বেশি ফল মিলবে ওই সমস্যাগুলো নিয়ে, যেগুলো অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্ম দেয়।

অনিশ্চয়তা দূরীকরণে ব্যবস্থাপনা

যখন ২১ শতকের বাংলাদেশের জন্য ধারণাকৃত পরিবেশগত ঝুঁকির প্রাথমিক দৃষ্টান্ত হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে ধরা হচ্ছে, তখন যারা দক্ষিণ-পশ্চিমে নদীর তীরে বাস করে, তাদের অন্যদের মধ্যে আন্তর্জাতিক দাতা, এনজিও কর্মী, জলবায়ু বিজ্ঞানী, নৃবিজ্ঞানী ও সাহায্য কর্মীদের দ্বারা উত্থাপিত টেকসইতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে।

সমসাময়িক সামাজিক পদক্ষেপের ধরাবাঁধা পরিকল্পনা যেগুলোর প্রতীক ‘অভিযোজন’ ‘প্রশমন’ এবং ‘ক্ষতি ও লোকসান’— কখনই এ এলাকার মানুষ যে বহুমুখী অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করে, তার সমাধান হতে পারে না: অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বর্তমানে পদক্ষেপ নেয়া, বিভিন্ন এজেন্সির কাছ থেকে সাহায্য চাওয়া, যারা এদের ভোটার ক্যাটাগরিতে ফেলতে চেষ্টা করে এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতেও দৈনন্দিন জীবনধারা বজায় রাখে।

বিভিন্ন ধরনের সংকট মোকাবেলায় দেখানো প্রতিক্রিয়া ও সক্ষমতাকে কখনো কখনো সামাজিক-পরিবেশগত স্থিতিস্থাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এটি বড় বিপর্যয়ের মুখে সম্প্রদায়, গ্রাম ও ব্যক্তির ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা তুলে ধরে। স্থিতিস্থাপকতা বলতে বোঝানো হয়েছে বিপর্যয় পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। কিন্তু যদি বিপর্যয়ের সম্ভাবনা নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক হয়, শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘটবে, এমনটা না হয় এবং ঋতুভেদে বিপর্যয় আরো বেড়ে যায়, তবে? পরিবর্তনশীল আবহাওয়া, গতিশীল পরিবেশ ও ভূমি (যা মানুষের হাতে ক্রমাগত চাষ ও পুনর্নিমিত হচ্ছে) এবং উদ্বিগ্ন সরকারের হস্তক্ষেপের (যেখানে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে স্থান ও পরিস্থিতির ইতিহাসভিত্তিক জ্ঞান) মাঝে আটকে রয়েছে টেকসইতা। ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আমরা দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশে দেখতে পাচ্ছি।

 

লেখক: পিএইচডি গবেষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়

সংক্ষেপে ভাষান্তর: আবু সাঈদ