বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ও সমৃদ্ধির যে ভাবনা বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মধ্যে বর্তমানে বিরাজ করছে, তার মূলে আছে মংলা আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরের সম্প্রসারণ ও এ বন্দরকে ঘিরে প্রবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতির ধারা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ। পদ্মা সেতু নির্মাণের মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও মংলা বন্দরের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ নিবিড় হলে অর্থনৈতিক ভুবনে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের আমূল পরিবর্তন হবে এবং খান জাহান আলী বিমানবন্দরের কাজ সমাপ্ত হলে অনুমান করা যায়, এ অঞ্চল হবে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে অবদানকারী এক বিশেষ অঞ্চল।
মংলা বন্দরের অবস্থান
১৯৫০ সালে চালনা বন্দর প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৪ সালের ১১ ডিসেম্বর এ বন্দরকে বাগেরহাট জেলার মংলা নদী ও পশুর নদীর সংযোগস্থলে মংলায় রূপান্তর করা হয়। যদিও মংলাকে সমুদ্রবন্দর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, কিন্তু বাস্তবে এটি হচ্ছে একটি নদীবন্দর। কারণ বঙ্গোপসাগরের মুখে গভীর সমুদ্রমুখ হীরন পয়েন্ট থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পাইলটিং করে জোয়ারের সময় কমপক্ষে ৫ ঘণ্টা অতিক্রম করে একটি জাহাজকে মংলা বন্দরে পৌঁছতে হয়। কিন্তু আক্রাম পয়েন্টে নদীর গভীরতা প্রায় ১৭ মিটার থাকায় এ স্থানে বড় জাহাজ নোঙর করতে পারে। তবে ফুলবাড়ী কয়লার জন্য আক্রাম পয়েন্টকে ব্যবহার করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে অনেক দিন থেকে। পুরো অঞ্চল হচ্ছে সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, যা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এ বন্দর প্রায় ৯৫০ হেক্টর জমির ওপর অবস্থিত ও মংলা নদীর ৯০ ভাগ জলসীমা এ বন্দর দখল করে আছে। বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর খুলনার সঙ্গে সড়কপথে এ বন্দরের সংযোগ ও দূরত্ব প্রায় ৪৮ কিলোমিটার। রূপসা নদীর ওপর পুল নির্মাণের ফলে এ পথে ফেরি সার্ভিসের বিড়ম্বনা থেকে চলাচলের পথ সুগম হয়েছে। কিন্তু রেললাইন না থাকার ফলে পণ্য পরিবহনে খরচ বেশি হচ্ছে। তবে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতুর সঙ্গে মংলা বন্দরের রেললাইন সংযোগ হলে ভবিষ্যতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাবে। এ লক্ষ্যে মাটির কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।
বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রায় ৪৬০ হেক্টর জমির ওপর ইপিজেড ও বিভিন্ন রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। এছাড়া আছে চারটি সিমেন্ট কারখানা (ক্লিংকার বিচূর্ণকরণ), দুটি এলপিজি বোতলজাতকরণ কারখানা, একটি পেট্রোলিয়াম টার্মিনাল কাজ করছে এবং প্রত্যেকের নিজস্ব জেটি ও কার্গো হ্যাডলিংয়ের সুবিধা আছে, তারা মংলা বন্দরের সুযোগ গ্রহণ করে না।
মংলা রফতানিমুখী একটি বন্দর
মংলা বন্দরকে প্রথম থেকেই বাল্ক কার্গো বা ভারী পণ্য পরিবহনের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয় এবং প্রধানত পাট রফতানিই ছিল বন্দরের প্রধান কাজ। বর্তমানে পাট রফতানি হ্রাসের ফলে বন্দরের কর্মপরিধি কিছুটা কমেছে, যেমন ২০০২ সালে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার টন পাট ও পাটজাত পণ্য এ বন্দর দিয়ে রফতানি হয়েছিল, যা ২০০৮ সালে কমে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন। তবে ২০০২ সাল থেকে এ বন্দর দিয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে চিংড়ি মাছ রফতানি। লক্ষ করা যায়, মংলা বন্দর মূলত একটি রফতানিনির্ভর বন্দর হিসেবে অত্মপ্রকাশ করেছে শুরু থেকে।
নেপাল ও ভুটানের মংলা বন্দর ব্যবহারের সম্ভাবনা
একসময় আশা করা হয়েছিল, মংলা বন্দর দিয়ে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য চলবে ব্যাপকভাবে। এ প্রত্যাশা ক্রমেই হতাশায় পরিণত হতে চলেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে কোনো স্টাডি হয়নি, কিন্তু আইআইএফসি ২০০২ সালে একটি সমীক্ষা করে বলেছিল, দুবার বর্ডার পারাপার হওয়ার কারণে এবং ভারতীয়দের সহযোগিতার অভাবে নেপালের সঙ্গে মংলা বন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা খুবই কম। ভুটানের সঙ্গেও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্র সীমিত। বর্তমানেও খুব একটা সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে, এমনটি আশা করা যায় না। তাই মনে হয়, এক্ষেত্রে অধিক বিচরণ না করে বর্তমানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দর পরিকল্পনাবিদদের ভাবনা হচ্ছে, প্রধানত কয়েকটি ক্ষেত্রকে প্রাধিকার দিয়ে বন্দরের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মংলা বন্দরের অবকাঠামোগত সুবিধাগুলোকে যথাযথভাবে সদ্ব্যবহার করে অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে অবদান রাখার উদ্যোগ গ্রহণ এবং এক্ষেত্রে অমূল্য অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করা।
মংলা বন্দরের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো
ভবিষ্যতে এ বন্দরকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে কয়েকটি ক্ষেত্রকে বিবেচনা করা হচ্ছে—
১. আন্তর্জাতিক মেরিটাইম আদালতের মামলায় বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমা প্রাপ্তির ফলে নীল অর্থনীতির যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার সদ্ব্যবহার করতে হলে মংলা বন্দরের কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করতে হবে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে গণচীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশে এসে ২৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রদানের যে ঋণ চুক্তি ও সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন, তাতে বিশাল বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে।
ক. সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর হলে তার সংযোগ ও সুফল পাবে মংলা বন্দর। এছাড়া পায়রা পাওয়ার প্লান্ট ও পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন স্থাপনের ফলে মংলা বন্দরের সঙ্গে কর্মকাণ্ড অবশ্যই বাড়বে এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার হবে, প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। এমন একটি ধারণা সমগ্র জনগণের মাঝে বিরাজ করছে এবং সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
১. তৈরি পোশাক শিল্পকে ভবিষ্যতে খুলনা ও মংলা বন্দর এলাকায় সম্প্রসারণ করতে পারলে ভিন্নমাত্রা যোগ হতে পারে। তবে এরই মধ্যে মুন্সীগঞ্জে তৈরি পোশাক শিল্পের নতুন অঞ্চল গড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং গণচীন এ ব্যাপারে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা করতে সম্মতি প্রকাশ করেছে। তবে এসব ছোট শিল্প-কারখানার জন্য কাপড় ও অন্যান্য সুযোগ বা ব্যাক টু ব্যাক এলসি করার যে প্রয়োজনীয়তা আছে, তা চট্টগ্রামে অনেক বেশি সুবিধা, খুলনা বা মংলায় সে সুযোগ সীমিত। এতদসত্ত্বেও নিতান্ত স্বল্পমূল্যে জমি পাওয়ার যে সম্ভাবনা মংলা বা খুলনায় বিরাজ করছে, তা শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনঃস্থাপন বা রি-লোকশেনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন।
২. পদ্মা সেতুর ওপর যে রেললাইন নির্মাণ করা হবে, তার ফলে মংলা বন্দরের ব্যবহার বৃদ্ধিসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্য ও পরিবহন চলাচলে অনেক বেশি অবদান রাখতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
বন্দরের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলো
প্রধানত চারটি ক্ষেত্রে মংলা বন্দরের কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে। যেমন—
ক. খুলনা ও রাজশাহীগামী পরিবহন ও যানবাহন মংলা বন্দর থেকে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যেতে পারে। যারা এখন চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে, এ পথ হবে তাদের জন্য অনেক সহজ এবং ভালো বিকল্প ব্যবস্থা,
খ) পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে ঢাকা থেকে ট্রাক/লরি সরাসরি চলে যাবে মংলা বন্দরে। তবে পদ্মা সেতু ব্যবহারে কতটা টোল দিতে হবে, তাও একটা বিবেচ্য বিষয় হবে। বর্তমানে ঢাকা ও মংলার মধ্যে যে সড়কপথ আছে, তার অবস্থা ভালো, কিন্তু ভারী যানবাহন চলা শুরু করলে অনেক বিনিয়োগ ও সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে,
গ) পদ্মা সেতু চালু হলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান মংলা ও খুলনা অঞ্চলে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত বা রি-লোকেশন হতে পারে, যারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মংলা বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে,
ঘ) সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিলে বা পোর্ট ডিউটি কমালে নেপাল ও ভুটান মংলা বন্দর ব্যবহারে উত্সাহী হতে পারে এবং পদ্মা সেতু ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবহনে দূরত্ব এবং ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। এছাড়া মংলা ও কলকাতার হলদিয়া বন্দরের মধ্যে জাহাজ চলাচল বাড়লে বা ট্রানজিট সম্প্রসারণ হলে মংলা বন্দর অনেক বেশি অবদান রাখতে পারবে।
চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রগুলো
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জলপথে ঢাকার পানগাঁও কনটেইনার আসা-যাওয়া ভালোভাবে শুরু হলে মংলা বন্দর পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে যে সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা অনুমান করা যাচ্ছে, তার সম্ভাবনা কমতে পারে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিঙ্গাপুর প্রতিদিন যে শিপিং সার্ভিস আছে এবং কলম্বো ও অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে যে সার্ভিস আছে, তা মংলা বন্দরে নেই।
মংলা বন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের কনটেইনার সার্ভিস আছে প্রতি ১৫ দিনে একবার। এছাড়া আইসিডির সুবিধা বাড়াতে হবে মংলা বন্দরকে। তবে মংলা বন্দরে কনটেইনার খালাসে গড়ে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। মংলা বন্দর ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে।
চট্টগ্রাম জেটি থেকে বঙ্গোপসাগর মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে, কিন্তু মংলা থেকে অনেক বেশি। চট্টগ্রামে নদীর গভীরতা বেশি, যা ৯ দশমিক ১৫ মিটার অবধি জাহাজকে বার্থিং সুবিধা দিতে পারে; কিন্তু মংলা মাত্র ছয় মিটার গভীরতাসম্পন্ন জাহাজকে বার্থিং সুবিধা দিতে পারে। ফলে ১ হাজার ২০০ টিইইউএসসম্পন্ন জাহাজকে বার্থিং দিতে মংলা বন্দর সক্ষম হয় না; প্রাকৃতিক কারণে তার এ অপারগতা।
এছাড়া মংলা বন্দরকে অর্থনৈতিকভাবে অধিকতর আকর্ষণীয় করতে হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ড্রেজিং বাবদ ব্যয় কমাতে হবে এবং পোর্টের সুবিধা বাড়াতে হবে। এখন প্রায় ৩৩টি জাহাজ একসঙ্গে বার্থিং বা খালাসের জন্য সুযোগ দিতে পারে এবং ২২৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজও ঢুকতে পারে। মোট ১১টি জেটি, আটটি ওয়্যারহাউজ ও ১২টি সুইং মুরিং এলাকায় জাহাজ অবস্থান নিতে পারে। কিন্তু সক্ষমতা আরো অনেক বাড়াতে না পারলে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রবন্দর হিসেবে চিহ্নিত হতে পারবে না।
গণচীন ও ভারতের সহযোগিতা
গত বছর ভারতের সঙ্গে লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় একটি পূর্ণাঙ্গ জেটি নির্মাণের চুক্তি হয়েছে এবং গণচীনও একটি আধুনিক জেটি নির্মাণে সব ধরনের সাহায্য প্রদানে সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। তবে বেসরকারি খাতে শিকদার গ্রুপ বিওটির মাধ্যমে একটি জেটি নির্মাণের লক্ষ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি লাভ করেছে।
বন্দরের সাফল্য
সাম্প্রতিক কালে মংলা বন্দরের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ বন্দরে ৬৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ আসে, আর ৭৫ লাখ ১৩ হাজার ৭২৭ টন কার্গো হ্যান্ডল করা হয়। এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৮২টি জাহাজ এ বন্দরে আসে এবং কার্গো হ্যান্ডলিং হয় ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার ৪২১ টন। এ হিসাবে পাঁচ বছরের ব্যবধানে বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এছাড়া নতুনভাবে ৩০টি ক্রেনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে সম্প্রতি। দীর্ঘদিনের পুরনো ক্রেন দিয়ে বন্দর তার কার্যক্রম পরিচালনা করছিল, যাতে বন্দরের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আসে। এছাড়া এবার বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি স্ট্যাডেল ক্যারিয়ার, ছয়টি ফর্কলিফট ট্রাক, দুটি টার্মিনাল ট্রাক্টর ও দুটি কনটেইনার ট্রেইলার সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে লক্ষণীয় যে, মংলা বন্দর এলাকায় কোনো উন্নত মানের আবাসিক তিনতারা হোটেল নেই, ভালো কোনো রেস্টুরেন্ট নেই, যা একটি বন্দরের ভাবমূর্তিকে একেবারে ম্লান করে দিয়েছে।
বর্তমানে মংলা বন্দরকে আধুনিক করার লক্ষ্যে অনেক উন্নয়ন ও বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধির কাজ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় হাতে নিয়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বন্দর এলাকাকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করতে হবে। বর্তমানে বিশ্বে রো রো ফেরি প্রতিস্থাপনসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে জাহাজের খালাসের সময় কমানোর প্রতিযোগিতা চলছে। হামবুর্গ অথবা রটারডাম কিংবা এডেন বন্দরে জাহাজ ঢোকে ও বেরিয়ে যায়।
প্রয়োজন আরো উদ্ভাবনীমূলক ভাবনা
সুইডেনের মালমোয় অবস্থিত মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের অনেকেই লেখাপড়া করেছেন এবং উচ্চতর ডিগ্রি পেয়েছেন। সোলাস অথবা মারপল এসব নিয়ে রীতিমতো গবেষণা চলছে বিশ্বব্যাপী। এ সম্পর্কে বাংলাদেশের শিপিং লাইনে নিয়োজিতরা ওয়াকিবহাল আছেন। বাংলাদেশে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বন্দর পরিচালনায় উত্কর্ষসাধনের ওপর গবেষণার কোনো কাজ করে কিনা সন্দেহ। তবে নিয়মমাফিক কাজের বাইরে উদ্ভাবনীমূলক কোনো পরিকল্পনা আছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের যারা মাস্টার মেরিনার বা চিফ ইঞ্জিনিয়ার, তাদের অনেকের সুনাম আছে, কিন্তু বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধিতে তাদের অবদানকে আরো কাজে লাগাতে হবে।
দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি
মংলা বন্দরকে ঘিরে বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের অগ্রগতি বহুলাংশে নির্ভর করছে। তাই খান জাহান আলী বিমানবন্দর, পদ্মা সেতুর ওপর রেললাইন মংলা বন্দরকে সংযোগ করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি সংগ্রহের মাধ্যমে মংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে পারলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক অঙ্গনে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। ফলে দেশের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন ও বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে রূপায়ণে সম্ভব হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের পথে সাফল্য আসবে।
লেখক: সাবেক সচিব






