বাংলাদেশে পাট শিল্পের প্রধান কেন্দ্রগুলোর একটি খুলনা। খালিশপুর ও দৌলতপুরের পাটকলগুলো এ পুরো অঞ্চলে পাট চাষ ও কারখানা এবং সেহেতু কর্মসংস্থানের অন্যতম ক্ষেত্র ছিল। খুলনাসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঞ্চলে পাটকলে শ্রমিকের সংখ্যা একসময় ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পুরো অঞ্চলে এখন অবশিষ্ট আছেন ২০ হাজারেরও কম শ্রমিক। তাও কাজের নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।
একে একে বড় পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে এসব অঞ্চল এখন প্রায় মরা প্রান্তর। ৮ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধান কয়েকটি দৈনিকে বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলের অবশিষ্ট কয়েকটি পাটকলের তিনটির খবর প্রকাশ হয়। এসব খবর থেকে জানা যায়, খুলনার স্টার, ক্রিসেন্ট ও প্লাটিনাম জুট মিলে কাজ করেন ১৪ হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক। প্রায়ই তাদের মজুরি বকেয়া থাকে। এবার কয়েক সপ্তাহ মজুরি বকেয়া থাকায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব কারখানা আগেও একাধিকবার লেঅফ করা হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে মিল চালু রাখার দাবিতে আন্দোলন করার অপরাধে নাম-ঠিকানাবিহীন হাজার হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করা হয়েছে। শ্রমিক মিলের কলোনিগুলোর প্রতিটিতে দাঙ্গা পুলিশ প্রবেশ করেছে, হার্ট ও ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শ্রমিক আর সেই সঙ্গে শিশু, কিশোরী, তরুণী, নারীদের রাইফেলের বাঁট, লাঠি দিয়ে নির্মম নিষ্ঠুর অমানবিক নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা থেকে বোঝাই যায়, সবসময় এমন একটি পরিস্থিতি তৈরিই তাদের লক্ষ্য থাকে, যাতে শ্রমিক-কর্মচারীরা মজুরি-বেতন পান বা না পান, এলাকা ত্যাগ করেন। তারপর একটা সুবিধাজনক সময়ে চিরতরে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এগুলো।
একদিকে পরিবেশবান্ধব পাট শিল্পের মরণদশায় প্রায় বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান বিনাশ, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের কথা বলে সুন্দরবনবিনাশী, নদীবিনাশী, মানুষবিনাশী রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র প্রতিষ্ঠা পুুরো দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র বাংলাদেশকেই এক বড় বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পাট শিল্পের এ দশা এবং উন্নয়নের এ গতিমুখ এমনি এমনি তৈরি হয়নি। কীভাবে রাষ্ট্রীয় নীতি দিয়েই বিশাল সম্ভাবনাময় পাট শিল্পের এ অবস্থা করা হয়েছে, সেটাই এ লেখায় সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।
পাট শিল্পের উত্থানকাল
বর্তমান বিশ্বে প্রধান পাট উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার। বৃহত্তম পাটকল, বৃহত্তম পাট রফতানিকারকের অবস্থান থেকে বাংলাদেশ নেমে এসেছে। তবে বাংলাদেশ এখনো উত্কৃষ্ট পাট উৎপাদনের ভূমি ও অন্যতম বৃহৎ কাঁচা পাট রফতানিকারক।
অষ্টাদশ শতাব্দীতেই হাতে বোনা পাটতন্তু বাংলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হতো। ডান্ডিকে কেন্দ্র করে পাট শিল্প গড়ে উঠতে শুরু করে ১৮৩৩ সালে। প্রথম ভারতীয় পাটকল নির্মাণ হয় ১৮৫৫ সালে হুগলি নদীর তীরে কলকাতায়। ১৯০০ সালের মধ্যে কলকাতাকেন্দ্রিক পাট শিল্প ইউরোপীয় পাট শিল্প ছাড়িয়ে যায়। এখানে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল প্রথম পাট ব্যবসায়ী কোম্পানি। একচেটিয়াভাবে তারাই দীর্ঘদিন এ ব্যবসা করে। ১৯৪৭-এর পর ভারতে প্রতিষ্ঠিত পাট শিল্প ব্রিটিশদের হাত থেকে সেখানকার মাড়োয়ারিদের হাতে আসে। তত্কালীন পাকিস্তানের অন্তর্গত পূর্ব বাংলা থেকে প্রথম দিকে কাঁচা পাট যেত। একপর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে গেলে ভারতে পাট উৎপাদন শুরু হয়। ভারত এখন বৃহত্তম পাট উৎপাদক। ভারতের বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান টাটা-বিড়লার ব্যবসাও শুরু হয় পাট দিয়ে। মিত্তাল গ্রুপেরও অন্যতম ব্যবসা ছিল পাট।
পঞ্চাশের দশকে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ও সমর্থনে পাট শিল্প প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (্ইপিআইডিসি) এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আদমজি, বাওয়ানিসহ বিভিন্ন বৃহৎ ব্যবসায়িক গ্রুপ অল্প ইকুইটি দিয়ে ক্রমে এসব শিল্পের মালিকানা লাভ করে। এর পরও এসব মিল-কারখানা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধা ও ভর্তুকি পাওয়ার কারণেই অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকে ও বিকশিত হয়। ষাটের দশকে বাংলাদেশের পাট ছিল বৈষম্য ও নিপীড়নবিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয়। পুরো পাকিস্তানের রফতানি আয়ের প্রধান উত্স ছিল পাট, কিন্তু এ বৈদেশিক মুদ্রার অধিকাংশ ব্যয় হতো তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানে। স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম স্বপ্ন ছিল এ পাটকে ঘিরেই। ভাবনা ছিল, এ পাট বাংলাদেশের মানুষেরই কাজে লাগবে এবং তা বাংলাদেশকে যথাযথ উন্নতির পথে নিয়ে যাবে। কিন্তু তা যে হয়নি, তা আজকের কোথাও নিশ্চিহ্ন কোথাও বিধ্বস্ত পাটকলগুলোর এলাকা আর ততোধিক বিধ্বস্ত মানুষদের দেখলে বুঝতে কারো সময় লাগে না।
যখন পাট শিল্প আরো বিকশিত হওয়ার কথা
বাংলাদেশে স্বাধীনতা লাভের পর ২৬ মার্চ ১৯৭২ এক অধ্যাদেশবলে পরিত্যক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। পাটকলগুলোর সামগ্রিক তত্ত্বাবধানের জন্য গঠন করা হয় বাংলাদেশ পাটকল সংস্থা (বিজেএমসি)। পাটকলসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রায়ত্তকরণ খুব সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত ছিল না। ব্যবস্থাপনা ছিল দুর্বল। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমে নতুন ধনিকশ্রেণী গড়ে ওঠার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হতে থাকে। এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এরপর পাট শিল্প সম্পর্কে সরকারি উত্তরোত্তর অবহেলা, বিকাশের কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা, সরকারি দলের প্রভাববলয় সৃষ্টির কাজে পাট শ্রমিকদের ব্যবহার, মিলগুলোয় ট্রেড ইউনিয়নের নামে সরকারি মাস্তান বাহিনী তৈরির মধ্যে।
বিজেএমসির অধীনে ৭৭টি জুট মিল ছিল। ১৯৮২-৮৩ থেকে বিরাষ্ট্রীয়করণ শুরু হয়, প্রথম দফায় ৩৫টি জুট মিল তাদের আগের মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া হয়। যাত্রাপথের ক্রমনিম্নমুখী রেখায় ২০০২ সালে বন্ধ হয় বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল আদমজি পাটকল। ২০০৭-০৮ সাল নাগাদ সব বড় পাটকল বন্ধ হয়ে যায়। সবই হয় লোকসানের যুক্তি দেখিয়ে। এরপর কয়েকটি পুনরায় চালু হয় চুক্তিভিত্তিক। সেগুলোরও এখন জীর্ণ দশা। বেসরকারি খাতের পাটকলগুলোও সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি।
পাটকলে লোকসানের কারণ
‘পাট খাতের সমস্যা’ হিসেবে ২০০৮ সালে ঘোষিত পাটনীতিতে যেগুলো বলা হয়েছে, সেগুলো নিম্নরূপ:
ক) বিশ্ববাজারে কৃত্রিম আঁশ ও পণ্যের সঙ্গে পাট ও পাটপণ্যের তীব্র প্রতিযোগিতা এবং বাল্ব হ্যান্ডলিং বিশ্ববাজারে প্রচলন বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রমেই পাট ও পাটপণ্যের চাহিদা ও মূল্য হ্রাস। খ) বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘাটতিজনিত কারণে প্রায় ১০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষতি। গ) পুরনো মেশিন ও যন্ত্রাংশ পরিবর্তন না করায় উৎপাদনশীলতা হ্রাস। ঘ) সরকারি পাটকলগুলোয় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শ্রমিক-কর্মচারী থাকায় এবং শ্রমিকরা কাজে অনুপস্থিত থাকায়, অবহেলা ও ফাঁকি দেয়ায় এবং শ্রমিক-কর্মচারী/কর্মকর্তাদের সময় সময় মজুরি/বেতন বৃদ্ধি করা। চ) ব্যাংকঋণের সুদহার বৃদ্ধি করায় পাটপণ্যের উৎপাদন ব্যয় ক্রমেই বৃদ্ধি। পাটকলগুলোর লোকসান দিন দিন বৃদ্ধি প্রাপ্তি।
লক্ষণীয় যে, এখানে শ্রমিকদের ওপর দায় চাপানোর আগ্রহটা বেশ, যার সমর্থনে কোথাও কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। এগুলো ক্রমান্বয়ে বলে আসল দায়দায়িত্ব যাদের, সেই নীতিনির্ধারকদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ পাট মন্ত্রণালয়েরই এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এক বছরের লোকসান ৪২১ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৩০ কোটি টাকা শ্রমিক আন্দোলন থেকে সৃষ্টি।
স্বাধীনতার পর থেকে পাটকলে যে লোকসান বাড়তেই থাকে, তার পেছনে বরং কয়েকটি কারণ সুনির্দিষ্ট করা যায় এভাবে:
ক) পাকিস্তান আমলে পাট শিল্পের জন্য যেসব সুবিধা ও ভর্তুকি ছিল, সেগুলো অব্যাহত না রাখা। খ) যথাসময়ে পাট ক্রয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় বিলম্বে দুই বা দিন গুণ দামে পাট ক্রয়। গ) মেশিনপত্র কোনো রকম নবায়ন না করা। উৎপাদিত পণ্যে বৈচিত্র্য না আনা। ঘ) বিদ্যুতের সংকট সমাধানে এমনকি বিকল্প জেনারেটর ব্যবহারেও উদ্যোগ না নেয়া। ঙ) দেশের মধ্যে পাটজাত দ্রব্য ব্যবহার বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ না নেয়া। চ) আন্তর্জাতিকভাবে পাটজাত দ্রব্যের নতুন চাহিদা তৈরি না করা। বিদ্যমান চাহিদার বাজার ধরার উদ্যোগ না নেয়া। ছ) ব্যাংকঋণ ও চক্রবৃদ্ধি সুদের চাপ বৃদ্ধি। জ) সরকারি দলের কাজে শ্রমিকদের কর্মসময় ব্যবহার করা। ঝ) সরকারি দলের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য শ্রমিক নেতার নামে সন্ত্রাসীদের লালন-পালন। ঙ) মন্ত্রণালয় থেকে বিজেএমসি ও মিল ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত দুর্নীতিবাজদের আধিপত্য।
স্বাধীনতার পর থেকে এর মধ্যে আমরা অনেক রকম সরকার দেখেছি, তাদের মধ্যে নানা বিষয়ে তুমুল বিরোধ থাকলেও যেসব বিষয়ে তাদের ভূমিকা অভিন্ন ছিল, তার মধ্যে এসব নীতিমালা অন্যতম। সে কারণে ক্রমবর্ধমান লোকসানের এ কারণগুলোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে লোকসানের অপরাধে পুরো শিল্প খাতের ওপর নতুনভাবে আক্রমণ শুরু হয় আশির দশকের প্রথম থেকে। তখন কাঠামোগত কর্মসূচির আওতায় পুরো বাংলাদেশ। পাট খাতকে রাহুর হাত থেকে রক্ষার জন্য ওপরের বিষয়গুলোয় কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক কৌশলের শিকারে পরিণত করা হয় পুরো খাতকে।
জনবৈরী উন্নয়ন দর্শনের শিকার
২০০১ সালে বণিক বার্তার বর্তমান সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সহযোগিতায় আমার হাতে আসে বিশ্বব্যাংকের একটি দলিল। এর শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশ: জুট সেক্টর অ্যাডজাস্টমেন্ট ক্রেডিট, রিপোর্ট অ্যান্ড অ্যাডজাস্টমেন্ট ১৯৯৭’। এর মূল রিপোর্ট ১৯৯৪ সালের। অন্য অনেক দলিলের মতো এটিতেও চিহ্ন দেয়া ছিল ‘কনফিডেন্সিয়াল’। বাংলাদেশের উন্নয়নের, বাংলাদেশের মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য যে সংস্থাগুলো এত ব্যস্ত বলে আমরা শুনি, তাদের গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র, চুক্তি পুরো বা আংশিক গোপন রাখা হয় বা তাতে প্রবেশাধিকার জটিল করা হয়। কেন? কারণ ঢোল পিটিয়ে যা বলা হয়, তার সঙ্গে আসল কাজের সম্পর্ক আকাশ-পাতাল। বাংলাদেশে আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখি, যখনই বিশ্বব্যাংক মার্কা কোনো সংস্থা কোনো খাতের উন্নয়নে এগিয়ে আসে বা সহযোগিতার হাত বাড়ায়, বুঝতে হবে এ খাতের সর্বনাশের বেশি বাকি নেই। তাদের দলিলপত্র তাই চিনি দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। জনগণকে অন্ধকারে রাখা ছাড়া সরকার বা এসব সংস্থার মুখ রক্ষার আর কোনো পথ নেই।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন দুর্নীতি, লুণ্ঠন আর সরকারের বৈরী নীতির কারণে পাট শিল্পের জীর্ণদশা, তখন বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে প্রবেশ করে যথারীতি ত্রাতা হিসেবে। পাট খাতে সংস্কার কর্মসূচির কথা বলে প্রথমে দুটো সমীক্ষা চালানো হয়। ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারি ও সেপ্টেম্বরে পরিচালিত এ সমীক্ষা দুটির একটি হলো ইইসির অর্থসংস্থানে ‘দ্য জুট ম্যানুফ্যাকচারিং স্টাডি’ এবং আরেকটি হলো বিশ্বব্যাংকের আইডিএর অর্থসংস্থানে সমীক্ষা ‘বাংলাদেশ-রিস্ট্রাকচারিং অপশনস ফর দ্য জুট ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি’।
বলা দরকার যে, এ রকম সমীক্ষা করে নিজেদের পছন্দসই পথ ও পদ্ধতিকে বৈধতা দেয়া যেকোনো খাতে এ গোষ্ঠীর রাহুগ্রাসের চেনাজানা পথ। তাই এসব সমীক্ষার ধারাবাহিকতায়ই ১৯৯৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জুট সেক্টর অ্যাডজাস্টমেন্ট ক্রেডিটের আওতায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়। এতে ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় ২৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময়কালেই প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড গঠন হয়। এর মধ্যদিয়েই শুরু হলো পাট খাতের ওপর সংগঠিত আক্রমণ। ট্রেড ইউনিয়নগুলো কবজা করারও নানা পথ নেয়া হয়। নেতাদের বিদেশ সফর ছিল এর অন্যতম।
২৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে যেসব কাজ করার চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকার আবদ্ধ হয়, সেগুলোর মধ্যে পাট শিল্প নবায়ন, বৈচিত্র্যকরণ বা সম্প্রসারণের কোনো কর্মসূচিই ছিল না। যা ছিল তা নিম্নরূপ:
১. নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত মিল বন্ধ ও দুটো সংকুচিত করে পুরো শিল্প সংকোচন করা; ২. ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করে ‘র্যাশনালাইজ’ করা; ৩. ১৯টি মিল বেসরকারীকরণ করা এবং ৪. মজুরি বাড়ানো বন্ধ রাখা এবং মজুরির অনুপাত কমানো।
১৯৯৬ সালের আগস্টে বিশ্বব্যাংক অবিলম্বে পাঁচটি মিল বন্ধ, একটি সংকুচিত ও ২ হাজার ৭০০ লুম বন্ধ করার জন্য জোর দেয়। বলা হয়, ১৯৯৬-এর শরতের মধ্যে অবশ্যই তিনটি মিল বন্ধ করতে হবে। বিভিন্ন কিস্তি পরিশোধের সময় কারখানা বন্ধ ও ছাঁটাইয়ের নতুন নতুন সীমা দেয়া হয়। প্রথম কিস্তি চারটি মিল বন্ধ, ১২ হাজার ছাঁটাই। দ্বিতীয় কিস্তি পাঁচটি মিল বন্ধ, নয়টি মিল বেসরকারীকরণ, আট হাজার ছাঁটাই, তৃতীয় কিস্তি নয়টি মিল বেসরকারীকরণ।
বিশ্বব্যাংকের সেই সংস্কার কর্মসূচিতে আশাবাদ প্রচার করা হয়েছিল যে, সংস্কার শেষ হতে হতেই পুরো খাত ব্যক্তিমালিকানাধীনে চলে যাবে। বলা হয়েছিল, এসবের মধ্যদিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং এ খাতের উন্নয়ন ঘটবে। পরিষ্কার দেখা গেল, অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, উৎপাদনশীলতা কমেছে, কর্মসংস্থান শতকরা ৮০ ভাগ কমে গেছে আর সব মিলিয়ে শিল্প প্রসারের বদলে গুরুতর সংকোচন ঘটেছে।
পাট শিল্পে লোকসানের সব কারণ অব্যাহত রেখে রুগ্ণ অবস্থা বাড়ানো হয়েছে। একপর্যায়ে মজুরি দেয়া বন্ধ, লেঅফ ঘোষণা, হুমকি ইত্যাদির মধ্যদিয়ে একের পর এক পাটকলগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এ ধারায়ই ২০০২ সালের ৩০ জুন আদমজি বন্ধ হয়েছে। খুলনা-যশোর অঞ্চলেও এ একই প্রক্রিয়া চলল। একদিকে যখন লাখো মানুষ কাজ থেকে ছিটকে পড়েছে, তখন প্রশংসার ঝরনা বইতে থাকল অন্যদিকে। ১৬ জুলাই ২০০২ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জন্য বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিকো নিশিমিজু বিদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে লিখে জানালেন, ‘যখন আমি আদমজি পাটকল বন্ধ করার ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্তের কথা জানলাম, তখন আমি সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য আপনার সাহস ও দৃঢ়তা দেখে অভিভূত হয়েছি।’ মার্কিন প্রশাসন থেকেও এল প্রশংসার বাণী। এত প্রশংসা এর আগে আর কোনো কাজ করে আর কোনো সরকার পায়নি। তত্কালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমদ, জামায়াতের নিজামী, জাতীয় পার্টির এরশাদ সবাই প্রশংসা করলেন। এই এরশাদের কালে তার জনসভায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ আসত না, যাদের ধরে নিয়ে আসা হতো, তাদের একটি বড় অংশ ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার শ্রমিক। তাদের বেতন যেত কারখানার তহবিল থেকে, কাজের সময় কাটত এরশাদের সেবায়। লোকসানের ভার সব পড়ত পাটকলের ঘাড়ে। বিশ্বব্যাংকওয়ালারা কখনো এগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি।
একই ধারায় আরো কারখানা বন্ধ হতে থাকে। ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই খুলনার খালিশপুরের পিপলস জুট মিল কর্তৃপক্ষ ‘মিল বন্ধের বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। এর আগে ১৮ জুলাই ডাকযোগে বিজেএমসির সচিব স্বাক্ষরিত (১৬/৭/০৭) যে চিঠিটি এসব মিলে পাঠানো হয়, সেটি হুবহু নিচে উপস্থিত করা হলো:
‘গত ০৩/০৬/০৭ ইং অনুষ্ঠিত বিজেএমসির পরিচালক মন্ডলীর ১৮৩,০৩/০৬-০৭ নং সভায় কর্ণফুলী জুট মিল লি: (D. P.F সহ) এফ কে সি এবং কওমী ও পিপলস্ জুট মিলস লিঃ এর অবস্থা, শ্রমিক পরিস্থিতি, কাঁচা পাটের অভাব, তীব্র অর্থ সংকট ও উৎপাদন ঘাটতি, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ ইত্যাদি কারণে পারফরমেন্স সন্তোষজনক পর্যায়ে আনা সম্ভব হবেনা মর্মে প্রতিয়মান হওয়ায় এই ৪টি মিল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
‘২। বিজেএমসির সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সাথে গত ১৪/০৭/০৭ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় বর্ণিত মিল ৪টির বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং আগামী ৩১ জুলাই ২০০৭ দিবসান্তে মিল ৪টি বন্ধ করার জন্য মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় সদয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
‘৩। এমতাবস্থায় উপরোক্ত র্বোড সিদ্ধান্ত ও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সদয় নির্দেশনার আলোকে কর্ণফুলী, (D.P.F সহ) এফকেসিএফ, কওমী ও পিপলস জুট মিল লিঃ ৩১/০৭/০৭ দিবসান্তে বন্ধ ঘোষণা করার সদয় অনুমতি প্রদানের জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ করা হইলো।’
পাট শিল্পের ওঠানামা: ভিন্নচিত্র
পাট শিল্পের এ দৃশ্যপট তো সর্বত্র নয়। ভারতে আমরা একই সময়ে দেখছি সর্বাত্মক উদ্যোগের মাধ্যমে পাট শিল্পের নতুন যাত্রা। ভারতে দুর্বল পাটকলগুলোকে চাঙ্গা করার জন্য দ্য জুট কোম্পানিজ (ন্যাশনালাইজেশন) অ্যাক্ট, ১৯৮০ প্রবর্তন করা হয়। শুধু পাট শিল্প নয়, শিল্প রক্ষা ও বিকাশের জন্য এখানে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ নীতিতেই ভারতের জাতীয় পাটনীতি ঘোষিত হয় ২০০৫ সালের শেষে। এ নীতিতে ৩৫ বছরের ভারতীয় পাট সংস্থার পুনর্বিন্যাস করা হয়। একই সালে সমগ্র বকেয়া ঋণ (১৯৫.৬৮ কোটি রুপি), সুদ (৩১৭.৯৭ কোটি রুপি) মওকুফ করা হয়। ভর্তুকি অব্যাহত থাকে।
বাংলাদেশে আদমজি পাটকল বন্ধের আটদিন পর ভারতীয় পাট শিল্প আধুনিকীকরণের নতুন যাত্রা শুরু হয়। এদিন থেকে নতুনভাবে কর্মসূচি নেয়া হয় পাটকলগুলো মেশিনপত্র নবায়নের, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি প্রদানের। ২০০৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের বস্ত্র মন্ত্রণালয় খাদ্যশস্য ও চিনির বস্তা হিসেবে যথাক্রমে শতকরা ১০০ ও ৯০ ভাগ পাট ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৭ সালে পাটজাত বস্তা ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি পাল্টে এভাবেই নতুন জীবন লাভ করে পাট শিল্প। ভারতের পূর্বাঞ্চলে এর গুরুত্ব বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এখানে ২.৭৬ লাখ পাট শ্রমিক (১ লাখ স্থায়ী), ৪০ লাখ কৃষক এবং সম্পর্কিত তত্পরতায় আরো ১.৪ লাখ মানুষ যুক্ত সেই বিবেচনায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভারতে এখন ৭৮টি পাটকল, এর মধ্যে ৬১টি পশ্চিমবঙ্গে। বিহার ও উত্তর প্রদেশে তিনটি করে, অন্ধ্র প্রদেশে সাতটি এবং আসাম, ওড়িশায়, ত্রিপুরা ও মধ্যপ্রদেশে একটি করে।
২০০৫-এর ভারতের পাটনীতি পাট গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন নির্দিষ্ট করে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় রফতানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি, থোক বরাদ্দ, রফতানি থেকে শুল্ক ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করা। উৎপাদন বৈচিত্র্যকরণের বিষয়েও দৃষ্টি দেয়া হয়। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বিকশিত করাটাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।
চিত্র ১: পাট শিল্পের ভিন্নযাত্রা

বাংলাদেশের পাট শিল্পের পতন
বাংলাদেশে পাট শিল্প খাতে যেভাবে সংকোচন নীতি বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা যদি চলতেই থাকে, তাহলে এ প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, বাংলাদেশ কি আবার কাঁচা পাট রফতানিকারকের পুরনো অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে? সেক্ষেত্রেও বাধাবিঘ্ন কম নয়। ভারতেই কাঁচা পাট রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছিল, ইদানীং ভারত বাংলাদেশের পাট রফতানির ওপর শুল্ক-অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা জারি করায় সেক্ষেত্রে সংকট দেখা দিয়েছে। পাট চাষের জমিও ক্রমে অকৃষি খাতে যাচ্ছে। চালের দাম বাড়ার অজুহাতে চালের বস্তা হিসেবে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের আইনি বাধ্যবাধকতা স্থগিত করা হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলোর জমি বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দেয়ার তত্পরতা চলছে। নিচের ছকে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের পাট শিল্পের উদ্ভব, বিকাশ ও সংকোচনের চিত্র তুলে ধরা হলো।
চিত্র ২: বাংলাদেশের পাট শিল্প: উত্থান ও পতন

তুলনামূলক সুবিধা ও সম্ভাবনা
পাট ও পাট শিল্পে বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধার ক্ষেত্র বহুবিধ। আবার এর গুরুত্ব এ দেশের অর্থনীতির একটি শক্ত মাজা দাঁড় করানোর জন্য অপরিহার্য। পাটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে এক বিশাল শিল্প বিপ্লব করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পাট ও পাট শিল্প এখন সংকটজীর্ণ অবস্থায়। তুলনামূলক সুবিধার দিকগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপে বলা যায়:
ক) উত্কৃষ্ট মানের পাট উৎপাদনের উপযোগী মাটি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ; খ) পাঁচ দশকে গড়ে ওঠা অভিজ্ঞ ও দক্ষ শ্রমশক্তি; গ) আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত দ্রব্যের প্রতি আগ্রহ, পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি। অভ্যন্তরীণ বাজারেও এর
বিস্তারের অসীম সম্ভাবনা; ঘ) পরিবেশ অনুকূল হওয়ায় বর্তমান বিশ্বে এর বিকাশের সামাজিক ব্যয়, পরিবেশগত ব্যয় শূন্য; ঙ) পাট রফতানিতে বিদেশী মুদ্রা শতকরা ১০০ ভাগ যেখানে গার্মেন্টসে তা ৫০-৬০ ভাগ; চিংড়ি মাছে যা পরিবেশ ও সামাজিক উচ্চক্ষতির কারণ; চ) পাট একসঙ্গে কৃষি ও শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকায় দুই খাতের বিকাশই এর ওপর নির্ভরশীল; ছ) পাট ও পাটজাত দ্রব্য দুই ক্ষেত্রেই বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ; জ) পাট বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
যেখানে পাট ও পাট শিল্প বিকাশে বাংলাদেশের অনেক অনুকূল উপাদান আছে, যেখানে পরিবেশ অনুকূল বলে পাটজাত দ্রব্যের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে শিল্পের বিকাশের কোনো সমন্বিত উদ্যোগ না নিয়ে ক্রমাগত কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কাজে বিভিন্ন সরকারের একনিষ্ঠ তত্পরতার এ পুরো অবিশ্বাস্য চিত্রটি বুঝতে গেলে আমাদের প্রতিষ্ঠিত উন্নয়ন দর্শন ও আঞ্চলিক উন্নয়ন কৌশলে বাংলাদেশের অবস্থানের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। পাট শিল্প বিনাশমুখী সরকারের এ সক্রিয়তা তৈরি হয়েছে প্রথমত. এ দেশের বিভিন্ন সময়ের শাসকগোষ্ঠীর লুটেরা ভূমিকা ও দ্বিতীয়ত. তার ওপর ভর করে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রথমে কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচি (কাসাক) ও পরে পাট শিল্পের জন্য বিশ্বব্যাংকের নির্দিষ্ট ধ্বংসাত্মক ‘উন্নয়ন’ কর্মসূচি থেকে। উন্নয়নের নামে বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠী বাংলাদেশের মতো দেশগুলোয় কীভাবে সর্বনাশা জাল বিস্তার করে এবং বৃহৎ রাজনৈতিক দল, কনসালট্যান্ট, আমলাসহযোগে তার নকশা বাস্তবায়ন করে, তার নির্মম দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের পাট শিল্প। এ চক্র থেকে বের হতে পারলে পাটকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশে পরিবেশসম্মত শিল্পায়নের উজ্জ্বল অধ্যায় নির্মাণ করতে সক্ষম হবে।
লেখক: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়






