দেশীয় টেলিভিশন কোম্পানিগুলোর মার্কেট শেয়ার সম্পর্কে ধারণা চাচ্ছি।
দেশীয় মার্কেটের
প্রায় ৪০
শতাংশ বর্তমানে
ওয়ালটনের দখলে,
আর বাকি
দেশী-বিদেশী
ব্র্যান্ডের দখলে
রয়েছে।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে টেলিভিশনের চাহিদা কেমন বেড়েছে? বিগত বিশ্বকাপ মৌসুমের সঙ্গে
তুলনা করলে
পার্থক্য কত?
হ্যাঁ, এবার
নভেল করোনাভাইরাসজনিত
মহামারী এবং
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক
মন্দার পরও
আমাদের দেশে
টেলিভিশনের চাহিদা
বিশ্বকাপ উপলক্ষে
ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি
পেয়েছে। বর্তমানে
বাজারে ফোর
কে স্মার্ট
টিভির ব্যাপক
চাহিদা রয়েছে।
এতে গ্রাহক
টিভির মাধ্যমেই
সব ধরনের
স্মার্ট সুবিধা
উপভোগ করতে
পারবেন। আর
তাই বিগত
বিশ্বকাপের তুলনায়
এবার এ
টিভির চাহিদা
২০ শতাংশ
বেড়েছে।
মোবাইল, কম্পিউটারসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইসের যুগে টেলিভিশনের আবেদন কতটুকু?
এটা অস্বীকার
করার উপায়
নেই যে
মোবাইল, কম্পিউটারসহ
ইলেকট্রনিক ডিভাইস
টেলিভিশনের জন্য
বড় প্রতিযোগী।
কিন্তু আপনি
যদি টেলিভিশনের
কথা চিন্তা
করেন তাহলে
দেখবেন টেলিভিশন
এমন একটি
ডিভাইস যেটা
পরিবার ও
কাছের মানুষদের
যুক্ত করে।
যেমন আমরা
চাইলেই মোবাইল
ফোন কিংবা
কম্পিউটারে বিশ্বকাপ
ফুটবল বা
সিনেমা দেখতে
পারি। কিন্তু
এর পরও
আমরা পরিবার,
বন্ধুবান্ধব সবাইকে
নিয়ে খেলা
কিংবা ভালো
কন্টেন্ট দেখতে
পছন্দ করি।
এটা আসলে
আবেগ এবং
অভ্যাসের সঙ্গে
জড়িত, তাই
আমি মনে
করি টেলিভিশনের
যে আবেদন
সেটা সবসময়ই
থাকবে।
বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে দেশীয়
কোম্পানির প্রতিযোগিতার চিত্রটি বর্তমানে কেমন?
বিদেশী কোম্পানির
সঙ্গে দেশী
কোম্পানির অবশ্যই
কিছু ক্ষেত্রে
প্রতিযোগিতা রয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশের
গ্রাহক এবং
তাদের চাহিদার
প্রতি ওয়ালটন
বরাবরই শ্রদ্ধাশীল।
তাদের কথা
মাথায় রেখে
আমরা আমাদের
নিজস্ব গবেষণা
ও উন্নয়নের
মাধ্যমে টেলিভিশন
তৈরি করে
থাকি। তাই
আমরা ফিচার,
নির্ভরযোগ্যতা, বিক্রয়-পরবর্তী
সেবাসহ সব
ক্ষেত্রেই বিদেশী
কোম্পানির সঙ্গে
প্রতিযোগিতায় এগিয়ে।
বরং কিছু
কিছু ক্ষেত্রে
বিদেশী কোম্পানির
চেয়ে আমাদের
দেশীয় প্রকৌশলীদের
ডেভেলপ করা
ফিচার অনেক
বেশি মানসম্মত
হয় বলে
আমি মনে
করি। যেমন
আমরা টিভির
বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির
জন্য সিলেন্ট
ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার
করে থাকি।
এছাড়া আমাদের
টিভিতে রয়েছে
স্পেশাল থান্ডার
প্রটেকশন, যা
১৫ কেভি
পর্যন্ত বজ
পাতে টিভিকে
সুরক্ষিত রাখবে।
এছাড়া আর্টিফিশিয়াল
ইন্টেলিজেন্স ইন
বিল্ট ক্যামেরাযুক্ত
ভিডিও কলিং
সিস্টেম সংবলিত
এক্সক্লুসিভ ফিচার
রয়েছে আমাদের
টিভিতে।
টেলিভিশন শিল্পে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ কতটা
জরুরি? এ
জায়গায় দেশীয়
কোম্পানিগুলো কতটুকু এগিয়েছে?
টেলিভিশন শিল্পে
টিকে থাকতে
হলে প্রথম
যে শর্ত
আপনাকে অবশ্যই
পূরণ করতে
হবে সেটি
হলো বর্তমান
বিশ্বের প্রযুক্তির
সঙ্গে নিজেকে
প্রস্তুত করা
এবং নিজেদের
পক্ষ থেকে
নতুন নতুন
প্রযুক্তির উদ্ভাবন
করা। বিপুলসংখ্যক
দেশীয় দক্ষ
প্রকৌশলীসহ আমাদের
রয়েছে বাংলাদেশের
সবচেয়ে বড়
রিসার্চ ও
ইনোভেশন সেন্টার,
বিশ্বমানের টেস্টিং
ল্যাব, সূক্ষ্ম
মান নিয়ন্ত্রণ
সংবলিত টিভি
প্রডাকশন লাইন।
এছাড়া পণ্যের
ডাইভারসিটি বা
বহুমুখীকরণের বিষয়
নিয়ে যদি
বলতে চাই
তাহলে বলতে
হবে বাংলাদেশে
ওয়ালটনই একমাত্র
টিভি ব্র্যান্ড
যাদের স্মার্ট
ফিচারে অ্যান্ড্রয়েড
ও ওয়েবওএসের
মতো এত
বেশি অপারেটিং
সিস্টেম সংবলিত
টেলিভিশন রয়েছে।
এছাড়া ওয়ালটনই
বাংলাদেশে ডলবির
প্রথম এবং
একমাত্র লাইসেন্সড
পার্টনার। আপনারা
আরো জেনে
খুশি হবেন
যে ওয়ালটনই
বিশ্বে প্রথম
অগ্নিনির্বাপক ফায়ার
এক্সটিংগুইশার মিনি
ডিভাইস সংবলিত
টিভি তৈরি
করতে সক্ষম
হয়েছে। এজন্য
আমরা বিশ্বখ্যাত
জার্মান ফায়ার
সেফটি ডিভাইস
ম্যানুফ্যাচারিং প্রতিষ্ঠান
জেওবি গ্রুপ
থেকে সার্টিফিকেটও
পেয়েছি।
এছাড়া ওয়ালটনই
একমাত্র বাংলাদেশী
ব্র্যান্ড যার
টিভি অ্যাডভান্স
ফিচার ও
রিলায়েবিলিটির জন্য
দেশের বাজার
জয় করে
বিদেশেও ব্যাপক
সাড়া ফেলতে
সক্ষম হয়েছে।
এরই মধ্যে
৩০টিরও বেশি
দেশে আমরা
টেলিভিশন রফতানি
করছি। যার
মধ্যে ইউরোপেরই
রয়েছে ১২টি
দেশ। ইউরোপের
বিভিন্ন নামি
সুপার শপ
ও অনলাইন
মার্কেটে আমাদের
টিভি ডিসপ্লে
হচ্ছে। এটা
নিঃসন্দেহে ওয়ালটনসহ
বাংলাদেশের শিল্পসংশ্লিষ্টদের
জন্য বড়
অর্জন বলে
আমি মনে
করি।
টেলিভিশন শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদন পর্যায়ে কোনো
প্রতিবন্ধকতা রয়েছে
কিনা।
পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যথাযথ সুবিধা পেলেও বাংলাদেশী ইলেকট্রনিক পণ্য রফতানিকারক ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছি। তাই এ শিল্পকে গার্মেন্টস ও অন্য রফতানিমুখী শিল্পের মতো রফতানিবান্ধব বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে তৈরি পোশাকের মতো এ শিল্পও দেশের বৈদেশিক রফতানি খাতে বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তাই ২০ শতাংশ নগদ প্রণোদনার মতো সরকারি সহায়তা যদি এ শিল্পে দেয়া হয় তাহলে আমরা আশা করি রফতানি আয়ে পোশাকপণ্যের পাশাপাশি এ শিল্পও খুব দ্রুত সরকারের রাজস্ব খাতকে আরো শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।





