মোবাইল বা
কম্পিউটারের এ
যুগে টেলিভিশনের আবেদন কতটুকু?
বিশ্বায়নের এ
যুগে মোবাইল
বা ইলেকট্রনিক
ডিভাইসগুলো প্রতিনিয়তই
আধুনিক হচ্ছে।
সেখানে টেলিভিশন
আসলেই প্রতিযোগিতার
মধ্য দিয়ে
দিন পার
করছে। মোবাইলসহ
ছোট ডিভাইসগুলোতে
বিনোদনের ক্ষেত্রটা
ব্যক্তিকেন্দ্রিক। কিন্তু
একটু বড়
পরিসরে বিনোদনের
জন্য সবচেয়ে
উপযোগী গণমাধ্যম
টেলিভিশন। পরিবারের
সবাই বা
অনেক মানুষ
একত্রে কোনো
অনুষ্ঠান, সিনেমা
বা খেলা
দেখার জন্য
টেলিভিশনের বিকল্প
নেই। বিশেষ
করে যেকোনো
খেলা বা
বিশ্বকাপের মতো
আসর অনেকে
একত্রে উপভোগ
করতে চান।
এসব বিবেচনায়
টেলিভিশনের চাহিদা
কখনো কমতে
পারে না।
বর্তমানে টেলিভিশন
বিলাসী পণ্য
নয়, এটি
দৈনন্দিন জীবনের
অংশ হয়ে
গেছে। একটি
বাসার সৌন্দর্য
বৃদ্ধিতেও সমাদর
পাচ্ছে টেলিভিশন।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভিশন গ্রাহকদের জন্য কী
কী সুবিধা রাখছেন?
বিশ্বকাপ উপলক্ষে
আমরা উন্নত
প্রযুক্তির টেলিভিশন
বাজারে এনেছি।
আমরা গ্রাহকের
জন্য কাতার
ভ্রমণের সুযোগসহ
প্রিয় দলের
জার্সি, ফুটবল
ও নগদ
ক্যাশব্যাকের ব্যবস্থা
রেখেছি। পাশাপাশি
ভোক্তারা যেন
আরো সহজে
পণ্য হাতের
নাগালে পেতে
পারে, সেজন্য
আমরা ইএমআই
সুবিধা রেখেছি।
এ সুবিধার
অধীনে ১০
থেকে ৪০
শতাংশ পর্যন্ত
ডিসকাউন্ট অপার
রেখেছি। আমাদের
টিভিতে ওটিটি
প্লাটফর্মগুলো সহজেই
অ্যাকসেস পাবে।
বর্তমানে ওটিটি
প্লাটফর্ম চরকি
১৮ মাসের
জন্য ফ্রি
পাচ্ছেন। পাশাপাশি
আমরা পণ্যের
গুণগত মানও
নিশ্চিত করছি।
যাতে ক্রেতারা
বিদেশী নামিদামি
ব্র্যান্ডের বিকল্প
হিসেবে ভিশন
টিভি পছন্দ
করতে পারেন।
বাংলাদেশের বাজারে দেশী ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান কী?
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী
অর্থনৈতিক মন্দা
চলছে। এ
সময়ে বাংলাদেশেও
নানা সমস্যা
হচ্ছে। এলসি
আগের মতো
খোলা যাচ্ছে
না। আগের
চেয়ে এলসি
খোলার হার
সামগ্রিকভাবেই প্রায়
২০ শতাংশ
কার্যক্রম ব্যাহত
হচ্ছে। অচিরেই
এটি স্বাভাবিক
হয়ে যাবে
বলে আমরা
মনে করি।
ফুটবল বিশ্বকাপ
চলাকালে টেলিভিশনের
বিক্রি অন্য
সময়ের তুলনায়
অনেক বেড়ে
যায়। ২০১৮
সালের বিশ্বকাপেও
অনেক ভালো
বিক্রি হয়েছিল।
তবে চলতি
বিশ্বকাপে মন্দার
কারণে আমাদের
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে
হয়তো কিছুটা
কম বিক্রি
হবে। আমরা
এই সময়টাতে
৪০ থেকে
৪৫ শতাংশ
বিক্রি বৃদ্ধির
আশা করেছিলাম।
কিন্তু বৈশ্বিক
মন্দার কারণে
২০-২৫
শতাংশ বৃদ্ধি
পাবে বলে
মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশে একটা
সময় টেলিভিশনের
বাজার ৯৫
শতাংশই বিদেশী
কোম্পানির দখলে
ছিল। বর্তমানে
এ চিত্র
ভিন্ন। এখন
৬০-৭০
শতাংশ বাজার
দেশী ব্র্যান্ডের।
আগামী ৫-১০
বছরের মধ্যে
বাংলাদেশী ব্র্যান্ডের
টেলিভিশন ৯০
শতাংশ পর্যন্ত
নিয়ে যেতে
চাই। এছাড়া
দেশের চাহিদা
মিটিয়ে আমরা
বিদেশে রফতানি
করতে চাই।
এরই মধ্যে
আমরা নেপাল
ও ফিজিতে
ভিশন টেলিভিশন
রফতানি করছি।
ভবিষ্যতে আফ্রিকার
বাজারেও আমরা
প্রবেশের চেষ্টা
করছি।
আধুনিক প্রযুক্তির এ যুগে
দেশী ব্র্যান্ড হিসেবে ভিশন
কতটুকু এগিয়েছে?
বাংলাদেশের বাজারে
দেশী-বিদেশী
অনেক ব্র্যান্ডের
টেলিভিশন রয়েছে।
এ প্রতিযোগিতায়
নিজেদের এগিয়ে
রাখতে আমরা
সবসময় সর্বশেষ
প্রযুক্তি সংযোজনকে
গুরুত্ব দিচ্ছি।
আমরাই বাংলাদেশী
ব্র্যান্ড হিসেবে
প্রথম গুগল
সার্টিফায়েড অ্যান্ড্রয়েড
টেলিভিশন নিয়ে আসি। সম্প্রতি
আমরা ভিশন
টেলিভিশনে অর্গানিক
লাইট এমিটিং
ডায়োড (ওএলইডি)
প্রযুক্তি সংযোজন
করেছি। পাশাপাশি
আমরা ওয়েবওএস
সিস্টেম অল্প
সময়ের মধ্যেই
সংযোজন করতে
যাচ্ছি। বর্তমানে
যে ব্যাপক
জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড
টেলিভিশনের ১১
ভার্সন, সেটি
সংযোজন করছি।
ভিশন টেলিভিশনের
গুণগত মান
উন্নয়নে দেশী-বিদেশী
বড় বড়
ব্র্যান্ডের সঙ্গে
তাল মিলিয়ে
হার্ডওয়্যার ও
সফটওয়্যারের উন্নয়ন
করছি। যারা
একটু গেমস
খেলতে পছন্দ
করেন, তাদের
কথা বিবেচনায়
উন্নত প্রসেসর
দিচ্ছি, বাড়তি
র্যাম দিচ্ছি।
৪৩ ইঞ্চি
জি.থ্রি.এস
গ্যালাক্সি প্রো
অ্যান্ড্রয়েড টেলিভিশনে
দুই জিবি
র্যাম এবং
১৬ জিবি
স্টোরেজ সংযোজন
করছি। অনেক
সময় টেলিভিশন
স্ক্রিনের কোয়ালিটি
খারাপ হলে
মানুষের চোখের
সমস্যা হয়।
সে জায়গা
থেকে আমরা
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়
এ প্লাস
প্যানেল দিয়ে
থাকি। যাতে
স্ক্রিন রেডিয়েশনে
মানুষের চোখের
সমস্যা না
হয়। বিশেষ
করে যারা
অনেক সময়
ধরে টেলিভিশন
দেখবেন, ৯০
মিনিটের খেলা
বা ৩
ঘণ্টার কোনো
সিনেমা, তাদের
যাতে সমস্যা
না হয়।
দেশে টেলিভিশন উৎপাদনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল পুরোটাই আমদানিনির্ভর, নাকি
দেশেও পাওয়া
যাচ্ছে?
কিছুদিন আগেও টেলিভিশন উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রায় সব কাঁচামালই বিদেশ থেকে আমদানি করা লাগত। বর্তমানে আমরা কিছু জিনিস উৎপাদন করছি। এখনো বেশির ভাগই আমদানি করতে হয়। সে ক্ষেত্রে যদি সরকারি সহযোগিতা বা বড় ধরনের বিনিয়োগ, ঋণসহায়তা পাওয়া যায়; তাহলে আমরা দেশেই নিজেদের কারখানায় সব চিপসেট উৎপাদন করতে চাই। আমাদের দেশী কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সরকার যদি বিদেশী ব্র্যান্ডগুলোর পর ট্যাক্স-ভ্যাট বৃদ্ধি করে এবং দেশী উৎপাদনকে উৎসাহ দেয় তাহলে আমাদের জন্য বাজার ধরা আরো সহজ হবে। আমাদের এখানে দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে। শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউশনগুলোকে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। এটা শুধু এই খাতের জন্য না, অন্য সব খাতের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য।





