সরকার কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করবে এবং সেটা যেন বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ায় এমন লক্ষ্য নেয়া। বাজেটে সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত; প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কী করতে চাচ্ছি সে বিষয়গুলোয়। বাজেট আকারে বড় হবে এটাই স্বাভাবিক। সরকার ঋণ করবে সেটাও অস্বাভাবিক না। কিন্তু ঋণ করে আমরা যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাই। ঋণ করে আমরা যেন বিনিয়োগনির্ভর মূলধনি সম্পদ তৈরি করি এবং সেটা যদি দুর্নীতিমুক্ত হয় তাহলে সেটাই কৌশল হওয়া উচিত। তাতে আমাদের উন্নয়ন বাজেটে ব্যয়ের ক্ষেত্রে যেটা অতিরিক্ত ব্যয় হয় বা চার গুণ হয়ে যায়, সেটা যেন না হয়, সেখানে দৃষ্টি দেয়া উচিত।

বর্তমান বৈশ্বিক ক্ষেত্রে আমি মনে করি যে আগামী মৌসুমে, অর্থাৎ পরবর্তী চাষের মৌসুমে যেন আমরা কৃষি উৎপাদন ঠিক রাখতে পারি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ মাসেও জ্বালানি তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সারা পৃথিবীতেই চাষাবাদের ব্যয় বেড়েছে। সুতরাং আগামী মৌসুমে কৃষিপণ্যের দাম বাড়বে। সেটাকে লক্ষ রেখে কৃষি সহায়তা যেন ঠিক থাকে। সেখানেও যেন অপব্যবহার না হয়, সেটা লক্ষ রাখতে হবে। কিন্তু কৃষি সহায়তা লাগবে। কারণ তা না হলে সব খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাবে। আমরা প্রচুর ভোগ্যপণ্য আমদানি করি। সুতরাং আমাদের আমদানিযোগ্য পণ্যকে লক্ষ করে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর কৃষি উৎপাদনে সহায়তা ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে হবে। কারণ মূল্যস্ফীতি বাড়বে। আগামী এক বছরেও জ্বালানি তেলের দাম কমার সুযোগ আমি দেখছি না। কারণ অনেক রিফাইনারি নষ্ট হয়ে গেছে। পরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ব্যয় বাড়বে। আগামী এক বছরের জন্য তৈরি থাকতে হবে সরকারকে। বিশেষ করে দরিদ্র লোকজনের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা রাখা উচিত।