বর্তমানে দেশের প্রায় ২০-২৫টি ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক পর্যায়ে চলে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বর্তমানে মাত্র ৬ শতাংশের ঘরে, যা ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন। ব্যাংক খাতের স্থবিরতার মধ্যেও মাইক্রোফাইন্যান্স খাত প্রায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো বড় শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ ও অবকাঠামো তৈরিতে দীর্ঘ সময় লাগে। বিপরীতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে বিনিয়োগের সুফল ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই আসতে শুরু করে। প্রান্তিক উদ্যোক্তারা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঊর্ধ্বে থেকে প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ খাতে ঋণ আদায়ের হার অত্যন্ত সন্তোষজনক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাইক্রোফাইন্যান্সের টাকা বিদেশে পাচার হয় না; এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেই আবর্তিত হয়।
জিডিপিতে কৃষির অবদান ১১ শতাংশের মতো মনে হলেও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানে এ খাতের অবদান প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ। কৃষির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও পরিবহন খাতের মতো অকৃষি কার্যক্রম গ্রামীণ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখে। মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এ অবস্থায় বর্তমান স্থবিরতা কাটাতে ক্ষুদ্র ঋণ খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যে ৩৯ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল রয়েছে যেটির ৭০ শতাংশ অর্থ আগে ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হতো, যা এখন ৩০ শতাংশে নেমেছে। এটি পুনরায় বাড়ানো জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার এসএমই তহবিলটি বর্তমানে পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না। এ অর্থ ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে দ্রুত প্রাণ সঞ্চার হবে।










