বর্তমানে চিকিৎসা যন্ত্রপাতির যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম কর ও অগ্রিম আয়কর মিলিয়ে মোট প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপিত হচ্ছে, যা সেবার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সব ধরনের চিকিৎসা যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক মাত্র ১ শতাংশে নির্ধারণ করা প্রয়োজন, এতে ব্যয় কমে সেবা আরো সহজলভ্য হবে।

একইভাবে জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রপাতি ও অ্যাকসেসরিজ বিশেষ করে এইচএস কোড ৯০১৮.৯০.৯০-এর আওতাভুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে বর্তমান ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশে নামানো এবং অগ্রিম আয়কর মওকুফ করা প্রয়োজন। পেশেন্ট মনিটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিতেও বর্তমানে মোট প্রায় ৩৪ শতাংশ কর আরোপিত থাকায় সেটিকে মূলধনি যন্ত্রপাতি হিসেবে বিবেচনা করে ১ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করলে চিকিৎসাসেবা আরো উন্নত হবে।

৫০ শয্যার বেশি হাসপাতাল আমদানীকৃত মূলধনি যন্ত্রপাতিতে শুল্ক সুবিধা পেলেও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকেও একই কর রেয়াত দেয়া উচিত।

স্বাস্থ্য খাতে নীতিগত সংস্কারের অংশ হিসেবে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস জরুরি। বর্তমানে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মতো প্রায় ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়, যা খাতটির সম্প্রসারণে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে করপোরেট করহার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর ওপর আরোপিত ভ্যাট ও উৎসে কর কমানো প্রয়োজন, যা নতুন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনকে সহজ করবে। এছাড়া মূলধনি যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক কমিয়ে যুক্তিসংগত পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি, যাতে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ হয় এবং সেবার গুণগত মান বাড়ানো যায়।