সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে দুর্বল সমন্বয়ই এ অসামঞ্জস্যের প্রধান কারণ।

বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো গ্যাস পাইপলাইন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক অপর্যাপ্ত থাকায় স্থাপিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না এবং ভ্যালু চেইনে অদক্ষতা তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ক্রমেই ব্যয়বহুল উৎপাদন উৎসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যার মধ্যে তরল জ্বালানিনির্ভর ও কম দক্ষতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রও অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে গড় উৎপাদন ব্যয় গড় ট্যারিফের চেয়ে বেশি। ফলে ধারাবাহিক আর্থিক ক্ষতি ও বাড়তি রাজস্ব চাপ তৈরি হচ্ছে।

এ কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন সমন্বয় বোর্ড গঠন করা উচিত। এ বোর্ডে পেট্রোবাংলা, বিপিসি, বিপিডিবি, পিজিসিবি, জিটিসিএল, আরপিজিসিএল, এনবিআর, সব গ্যাস বিতরণ কোম্পানি ও বুয়েটের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ সংস্থাকে সমন্বিত পরিকল্পনা নিশ্চিত করা, অবকাঠামো উন্নয়নকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা ও খাতভিত্তিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে আর্থিক নীতিমালারও জরুরি পুনর্বিবেচনা দরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে এইচএফও ও কয়লার আমদানি শুল্ক যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করে এলএনজির সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশে গড় জ্বালানি কর পার্শ্ববর্তী তুলনামূলক দেশগুলোর তুলনায় বেশি। ফলে ব্যয়ের ওপর চাপ আরো বাড়ছে।

বিদ্যুতের দাম তুলনামূলকভাবে কম। ধাপে ধাপে এটি সমন্বয় করা প্রয়োজন। তবে এক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লক্ষ্যভিত্তিক ও স্তরভিত্তিক মূল্য কাঠামো গ্রহণ করা জরুরি।

সরকারকে জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা জোরদার, জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ, শোধনাগার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করার বিষয়েও অগ্রাধিকার দিতে হবে।

স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি টার্মিনাল ও সরবরাহ, গ্যাস সঞ্চালন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালাসহ কাঠামো প্রণয়ন প্রয়োজন।