অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে শিল্প খাতকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যা করা প্রয়োজন, তাই করা উচিত। দেশে শিল্প গড়ে না উঠলে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত রফতানিকারক হয়ে ওঠা।

অনেক দিন ধরেই আমরা তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর করছি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধু তৈরি পোশাক দিয়ে আর কতদিন চলবে? তৈরি পোশাক খাত যখন শিল্প হিসেবে যাত্রা করেছিল, তখন সরকার একে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়েছে। সে সহায়তার মাধ্যমেই শিল্পটি আজ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে এবং এখন তারা দেশকে এর সুফলও দিচ্ছে। বাস্তবতা হলো, তৈরি পোশাক ছাড়া অন্য কোনো কিছু আমরা সেভাবে রফতানি করতে পারিনি।

কারণ আমরা মূলত একটি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবেই রয়ে গেছি। আমরা সেভাবে রফতানিমুখী দেশ হতে চাইনি বা এখানে নিজেদের শিল্প গড়ে তুলতে চাইনি। আমরা আমদানি করতেই বেশি পছন্দ করেছি। আর এ মানসিকতার কারণেই রফতানির দিকে এগোনো সম্ভব হয়নি।

তবে আমাদের আমদানিকারকদের কথাও মাথায় রাখতে হবে, তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সবার সঙ্গে মিলেমিশে কী করা যায়, সে পথই আমাদের খুঁজতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে দেশে রফতানিমুখী বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা শিল্প গড়ে তোলা, যা ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। শিল্প বেশি বেশি হলে আমরা রফতানি বাড়াতে পারব। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করা যাবে। আসন্ন বাজেটে আমরা এ ধরনের একটি সহায়ক পলিসি বা নীতিমালাই প্রত্যাশা করি।