তবে এ বকেয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি আমদানি, ব্যাংকের ঋণ, কেন্দ্রের পরিচালন ব্যয়ের বিষয়টি রয়েছে। এসব কিছুর সঙ্গে বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এরই মধ্যে বেসরকারি উদ্যোক্তারা বকেয়ার অর্থ পর্যাপ্ত না পাওয়ায় ঋণখেলাপি হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। অনেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নেয়া ঋণখেলাপির ঝুঁকি এড়াতে পুনরায় অন্য ব্যাংকের ঋণের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র মালিকরা একাধিক ব্যাংকের ঋণের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে বেসরকারি বিদ্যুৎ খাতে অচলাবস্থা তৈরি হবে। সরকারের পক্ষে একবারে এ ঋণ পরিশোধ যেহেতু করা সম্ভব হচ্ছে না, সেহেতু আগের মতো যদি বিশেষ বন্ড ছেড়ে পরিশোধের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া হয়, তাহলেও অন্তত এ খাতের উদ্যোক্তারা ঋণখেলাপির ঝুঁকি এড়াতে পারবেন।

দেশে বিদ্যুতের চাহিদার প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এরই মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। বেসরকারি কেন্দ্রগুলো বিদ্যুতের চাহিদায় বড় অংশ সরবরাহ করছে। বিশেষ করে পিক মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো সরবরাহ দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তেলভিত্তিক আইপিপিগুলো ২ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বিপিডিবি যদি বকেয়া ৬০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে, তাহলে এসব কেন্দ্র থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া সম্ভব। দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পর্যাপ্ত উৎপাদন না থাকার প্রধান কারণ জ্বালানি সংকট। এ সংকট বহু আগে থেকে চলছে। সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা না পাওয়ায় বেসরকারি উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত জ্বালানি আমদানি করতে পারেনি। ফলে যার কাছে যতটুকু জ্বালানি ছিল তা দিয়ে মালিকরা কেন্দ্র চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি উত্তরণ বকেয়ার অর্থ যত দ্রুত কমিয়ে আনা যায় ততটাই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য মঙ্গল হবে।