হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মাসিউটিক্যালস সাপোর্ট ও মেডিকেল শিক্ষা—সব মিলিয়ে খাতটি সরকারের জন্য বছরে প্রায় ৮-১০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব অবদান রাখছে।
এ অগ্রযাত্রার মধ্যেও কিছু মৌলিক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, যা বাজেট প্রণয়নের সময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির ওপর বিদ্যমান শুল্ক এবং করের হার অনেক ক্ষেত্রে ২৫-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা আধুনিক চিকিৎসাসেবার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট যৌক্তিকীকরণ করা হলে চিকিৎসাসেবার ব্যয় ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবে—বিশেষ করে মেডিকেল, নার্সিং ও টেকনিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে কর সুবিধা ও প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই আউট-অব-পকেট, যা কমাতে ইন্স্যুরেন্সভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জোরদার করা জরুরি।
নীতিগত স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়াগত সহজীকরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। লাইসেন্সিং ও রেগুলেটরি অনুমোদনের জন্য সমন্বিত ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা গেলে উদ্যোক্তাদের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, টেলিমেডিসিন ও আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে কর প্রণোদনা দিলে দেশের গ্রামীণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছানো সহজ হবে।










