বর্তমানে বাংলাদেশে বীমা খাতের জিডিপিতে অবদানের হার মাত্র দশমিক ৪ শতাংশের কাছাকাছি, যা বৈশ্বিক গড় তো বটেই, এমনকি প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায়ও অনেক কম। মোট বীমা প্রিমিয়াম আয়ের প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশই আসে জীবন বীমা থেকে, যা প্রমাণ করে এ খাতের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
এ মুহূর্তে লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাধারণ মানুষের অন্তর্ভুক্তির অভাব। যত বেশি মানুষকে জীবন বীমার আওতায় আনা যাবে, এ খাত তত বেশি অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে। এজন্য সবার আগে দরকার গ্রাহক, বীমা কর্মী এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।
এ লক্ষে্য জীবন বীমা খাতের জন্য আসন্ন বাজেটে নিচে তিনটি পরিবর্তন চিন্তা করা যেতে পারে। প্রথমত, মেয়াদপূর্তির পর যখন গ্রাহক তার টাকা তুলতে যান তখন তা থেকে উৎসে কর কেটে নেয়া হয়, যা গ্রাহকের আর্থিক পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটায়। এটা বীমার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমিয়ে দেয় এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের নিরুৎসাহিত করে। তাই পলিসির মেয়াদপূর্তির টাকায় যে উৎসে কর কাটা হয়, তা বর্তমানে ৫ শতাংশ থেকে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, দেশে বীমা খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি দারুণ জায়গা হতে পারে। নির্দিষ্ট সীমার নিচে বীমা এজেন্টদের কমিশনের ওপর উৎসে কর কাটা থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত। এ সীমিত আয়ের ওপর কর আরোপ করার ফলে নিম্ন আয়ের এজেন্টদের মাসিক আয় কমে যায়। ফলে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত খরচ ও পরিবারের ব্যয় মেটাতে সমস্যায় পড়েন। এ কর কমানো হলে বিপুলসংখ্যক এজেন্টের জন্য এটি একটি বাস্তবিক সহায়তা হবে। এর ফলে আরো অনেক মানুষ বীমা এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী হবেন।
তৃতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের জন্য জীবন বীমা খাতকে আরো আকর্ষণীয় করতে হবে। বর্তমানে বীমা কোম্পানির ওপর করপোরেট ট্যাক্স হার প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি, যা এ খাতের বিকাশে একটি বড় বাধা। এটি ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা উচিত।










