কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং আমদানিনীতিতে কিছু কার্যকর সংস্কার আনা গেলে তা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ব্যাংক ঋণের সুদের ক্ষেত্রে কর হিসাবের পদ্ধতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন ব্যবসায়িক হিসাব ব্যবস্থায় অসামঞ্জস্য তৈরি করছে। বর্তমানে সুদকে পরিশোধের ভিত্তিতে Allowable Expense হিসেবে গণ্য করা হলেও আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুযায়ী (IAS) এটি Accrual basis-এ গণনা করা হয়। এর ফলে Tax Base এবং Accounting Base-এর মধ্যে পার্থক্য তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কর পরিকল্পনা ও আর্থিক প্রতিবেদনকে জটিল করে তুলছে। এক্ষেত্রে একটি সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্যও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো বা শূন্যে নামিয়ে আনা হলে এবং মেডিকেল কলেজের ক্ষেত্রে শূন্য কর করা হলে চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের রোগীরা উপকৃত হবেন।
এছাড়া Refurbished চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ আমদানির অনুমোদন দেয়া একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে। উন্নত ও প্রতিবেশী অনেক দেশে এ ধরনের যন্ত্রপাতি সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবাকে আরো সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করেছে। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এ ধরনের সরঞ্জাম আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে চিকিৎসা খরচ কমবে, একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পুনর্ব্যবহারও উৎসাহিত হবে।
সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেটে কর ব্যবস্থার সরলীকরণ, অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবমুখী সহায়তা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী বাজেটই পারে দেশের অর্থনীতি ও জনকল্যাণকে আরো এগিয়ে নিতে।










