একই সঙ্গে বিদ্যমান ভ্যাট ও শুল্ক কাঠামোর অসামঞ্জস্যতা দেশীয় উৎপাদনকারীদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে দুর্বল করে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তাদের কাছে পণ্য তুলনামূলক উচ্চ মূল্যে পৌঁছতে বাধ্য হয়।

এছাড়া জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো চাপের মুখে ফেলছে। পাশাপাশি পরিচিত ব্র্যান্ডের নকল ও নিম্নমানের পণ্যের বিস্তার ভোক্তার আস্থা ক্ষুণ্ন করছে, দেশীয় শিল্পের ক্ষতি করছে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে উৎপাদন ব্যয় প্রতিযোগিতামূলক রাখতে দক্ষ ও স্থিতিশীল সাপ্লাই চেইন এবং ডিস্ট্রিবিউশন অবকাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য। ভ্যাট ও শুল্ক কাঠামোকে আরো যৌক্তিক এবং শিল্পবান্ধব করতে হবে। শুল্ক বৈষম্য কমিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় উৎপাদকরা অধিক প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবে, যা ভোক্তা ও সরকারের জন্যও দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে।

নকল ও নিম্নমানের পণ্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। বাজার নজরদারি জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

সার্বিকভাবে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতিসহায়তা শক্তিশালীকরণ ও বাজার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এফএমসিজি খাতের বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

Macro-Chart-FINAL-2-Bonik-Final

স্যানিটারি ন্যাপকিন ক্যাটাগরির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান করা হলেও দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী এখনো স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের বাইরে রয়েছেন এবং মাসিকের সময় অস্বাস্থ্যকর কাপড় ব্যবহার করতে বাধ্য হন, যা সংক্রমণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। এ প্রেক্ষাপটে নারীদের স্বাস্থ্য ও হাইজিন সুরক্ষার স্বার্থে আসন্ন বাজেটেও স্যানিটারি ন্যাপকিনে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।