অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন, এমনকি ক্যান্সার চিকিৎসার ওষুধও এখন দেশে উৎপাদন হচ্ছে। সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবার চাহিদা খাতটির প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে এবং একই সঙ্গে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ওষুধ শিল্পের বাজার অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল।
দেশের বৃহত্তম করদাতা শিল্পগুলোর অন্যতম হলো ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ। মোটা দাগে আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে উঠলেও বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্যের কিছু পেটেন্ট ওষুধ এখনো আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়ছে। বর্তমানে ১৬৬টি দেশে ওষুধ রফতানি হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ কোটি ডলারে, যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে এ অগ্রগতির পাশাপাশি খাতটি বেশকিছু কাঠামোগত সংকটে রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কাঁচামাল বা অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টের (এপিআই) উচ্চ আমদানিনির্ভরতা। এপিআইর মোট চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আসে। বছরে এপিআই আমদানি করতে হয় শতকোটি ডলারেরও অনেক বেশি। এছাড়া বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের যন্ত্রপাতিও আমদানি করা হয়। বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও ডলার সংকট উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা শিল্পের প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর ট্রিপস সুবিধা হারানোর ঝুঁকি। বর্তমানে বাংলাদেশ পেটেন্ট-সংক্রান্ত ছাড়ের সুবিধা নিয়ে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন ও রফতানি করছে। কিন্তু এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এ সুবিধা সীমিত হয়ে যাবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে দেশের কোম্পানিগুলোকে। আবার নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগও বাড়াতে হবে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়।
এছাড়া বাজার কাঠামোও তুলনামূলকভাবে কেন্দ্রীভূত। শীর্ষ ২০টি কোম্পানি প্রায় ৯২ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। এতে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের বায়োইকুইভ্যালেন্স ল্যাব, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সুবিধা ও উন্নত গবেষণা অবকাঠামোর ঘাটতি রফতানি সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, এপিআই উৎপাদনে কর অবকাশ, ভর্তুকি ও শিল্প পার্ক সুবিধা বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে কর ছাড় ও বিশেষ তহবিল সুবিধা পেলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্ভাবনী ও উচ্চমূল্যের ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম হবে। এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রফতানিতে প্রণোদনা ও বাণিজ্য কূটনীতি জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সুবিধা ও নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালে শুল্ক ও কর যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।










