অথচ দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো ৮ শতাংশের নিচে, যেখানে ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোয় তা যথাক্রমে প্রায় ১৭ ও ১৯ শতাংশ। দেশে এক কোটির বেশি টিআইএন নিবন্ধন আছে। নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন অর্ধেকেরও কম করদাতা। এটি কর ব্যবস্থার একটি মৌলিক কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন।

এ প্রেক্ষাপটে করজাল সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ নীতিগত অগ্রাধিকার দিতে হবে। এক্ষেত্রে এনআইডি ও টিআইএন ডেটাবেজের পূর্ণাঙ্গ একীভূতকরণ একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। ব্যাংকিং, সম্পত্তি নিবন্ধন, গাড়ি ক্রয় কিংবা ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণের মতো সেবার সঙ্গে এ ডেটাবেজ সংযুক্ত করলে সম্ভাব্য করদাতাদের সহজে শনাক্ত করা যাবে, যা স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং কর ফাঁকি কমাবে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্বনিযুক্ত ব্যক্তি ও ফ্রিল্যান্সারদের অন্তর্ভুক্ত করতে প্রতীকী ন্যূনতম কর (যেমন বার্ষিক ১০০-১ হাজার টাকা) চালু করা যেতে পারে। এটি করভীতি দূর ও স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এক পৃষ্ঠার সরল ডিজিটাল রিটার্ন, মোবাইল অ্যাপভিত্তিক নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা চালু করলে কর ব্যবস্থা আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ব্যবহারবান্ধব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ উদ্যোগ ডিজিটাল লেনদেনকে একটি নতুন উচ্চতায় নিতে পারে। যদি বাংলা কিউআরকে আয়কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা যায়, তবে প্রতিটি লেনদেনের একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ট্রেইল তৈরি হবে, যা স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট আদায়, সঠিক আয় নির্ধারণ এবং কর ফাঁকি প্রতিরোধে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারের ফলে এমএফএস (এমএফএস) ও অন্যান্য প্লাটফর্মে যে বিপুল লেনদেন ডেটা তৈরি হচ্ছে, তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে করের বাইরে থাকা সম্ভাব্য করদাতাদের চিহ্নিত করা সম্ভব। একটি সহায়তামূলক, প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রবৃদ্ধিমুখী কর ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য।