দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকটের প্রভাবে খাতটি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কাঁচামাল আমদানিতে এলসি জটিলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং উচ্চ সুদের হার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। বন্দরে পণ্য খালাসে বিলম্ব ও লজিস্টিক খরচ বাড়াতে চাপে পড়ছে এ খাত। পাশাপাশি ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা ও সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নীতিগত হঠাৎ পরিবর্তনও খাতটির জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এ খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক কাঁচামালের জন্য এলসি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ডলার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে রাখা, কর ও শুল্কনীতিতে ধারাবাহিকতা এবং লজিস্টিক ব্যয় কমাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রয়োজন। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও এগ্রো প্রসেসিং শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এগ্রো প্রসেসিং খাতে কর সুবিধা প্রদান, রফতানিতে নগদ সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হলে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়বে। কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা খাতটির দক্ষতা বাড়াবে। পাশাপাশি খাদ্যশস্যের জন্য উন্নতমানের স্টোরেজ ও ড্রাইং ব্যবস্থা করতে পারলে বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। অন্যদিকে কাঁচামালের ওপর শুল্ক হ্রাস, বন্দর ও কাস্টমস জটিলতা কমানো এবং ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ ব্যবসার ব্যয় কমাবে। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে খাতটির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

Macro-Chart-FINAL-2-Bonik-Final

সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তা, স্থিতিশীল ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় প্রণোদনা নিশ্চিত করা গেলে এগ্রো প্রসেসিং, খাদ্য আমদানি ও বিতরণ খাত শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ নয়, বরং রফতানি বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।