এ বাজারে অন্তর্ভুক্ত প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যাকেটজাত খাদ্য এবং পানীয়, বিউটি ও ওয়েলবিয়িং (কসমেটিকস), পার্সোনাল কেয়ার (সোপ ও ওরাল কেয়ার) এবং হোম কেয়ার (ডিটারজেন্ট ও টয়লেট ক্লিনিং)।
২০২৫ সালে অধিকাংশ খাতে মূল্যভিত্তিক প্রবৃদ্ধি ছিল ১ শতাংশের মতো, তবে ভলিউম বা পরিমাণগত প্রবৃদ্ধি স্থির ছিল কিংবা সামান্য নেতিবাচক (প্রায় ১ শতাংশ ঋণাত্মক)। অর্থাৎ ভোগের পরিমাণ বাড়ার কারণে নয়, বরং বাজারের সম্প্রসারণ হয়েছে মূলত মূল্যবৃদ্ধি, প্রিমিয়ামাইজেশন ও পণ্যের মানোন্নয়নের (ভ্যালু আপগ্রেড) মাধ্যমে।
স্বল্পমেয়াদে ব্যয়চাপ ও অস্থিরতা ব্যবসায়িক পরিবেশকে প্রভাবিত করলেও এ খাত দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ভোক্তা সম্ভাবনার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। এটি দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা বাজারে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ বছরে গড়ে প্রায় ৮ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে এফএমসিজি খাতের আকার ১২-১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।
দেশে সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশে জেঁকে বসা উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হয়ে গেছে। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা বাড়তি ব্যয়ের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। যার প্রভাব পড়েছে এফএমসিজি খাতের ব্যবসায়। ভোক্তার কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে এফএমসিজি পণ্যে বিক্রি কমে গেছে। অন্যদিকে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও ব্যবসার ব্যয় বাড়ায় অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে কোম্পানিগুলোকে। মূল্যবৃদ্ধির কারণেও এফএমসিজি পণ্যের ভোগের ওপর প্রভাব ফেলেছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝেঁকে বসা উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসায়িকভাবে বেশ চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে এফএমসিজি খাত।
স্থানীয় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি দেশে বর্তমানে ২১টি বহুজাতিক কোম্পানি এফএমসিজি খাতে ব্যবসা করছে। একসময় এ খাতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এফএমসিজি খাতের বহুজাতিক কোম্পানি প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল গত বছর বাংলাদেশে তাদের দীর্ঘ তিন দশকের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একদিকে ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জের মুখে এফএমসিজি খাতের বহুজাতিক কোম্পানির বাংলাদেশ ছাড়ার নজির যেমন রয়েছে, তেমনি ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থানের কারণে সম্ভাবনাময় বাজারের তালিকায়ও রয়েছে বাংলাদেশ।
এফএমসিজি খাতসংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরেই কাঁচামাল আমদানিতে সরকারের কাছে নীতিগত সহায়তা চেয়ে আসছেন। বিশেষ করে এ শিল্পের অপরিহার্য কাঁচামাল আমদানির ব্যয় কমিয়ে পণ্যের মূল্য ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে চাইছেন তারা। কাঁচামালের আমদানি পর্যায়ে উচ্চ শুল্ক, ভ্যাট ও এলসি প্রক্রিয়ার জটিলতা কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে তুলছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে পণ্যের মূল্যের ওপর। ন্যূনতম করের কারণেও কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী বাজেটে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের কাছে ব্যবসা ও ভোক্তাবান্ধব নীতি প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।










