বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এ শিল্পের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকট, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুতের ঘাটতি উৎপাদন ব্যয়কে বাড়িয়ে দিয়েছে। সিরামিক শিল্প একটি শক্তিনির্ভর খাত হওয়ায় এ ব্যয় বৃদ্ধি সরাসরি প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলে। এছাড়া ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্ক একটি বড় বাধা।
এ শিল্পের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আমদানীকৃত কাঁচামালের ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাট পুনর্বিন্যাস করতে হবে। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানীকৃত টাইলসের ওপর ন্যূনতম আমদানি মূল্য ও সম্পূরক শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা দরকার যাতে স্থানীয় উৎপাদনকারীরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা ও সহজ ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার, যাতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়। পাশাপাশি স্থানীয় কাঁচামাল উন্নয়নে গবেষণা ও সহায়তা বাড়ানো হলে আমদানিনির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব।
সিরামিক খাতকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষ নীতিগত সহায়তা দেয়া হলে এটি দ্রুতই আরো বড় অবদান রাখতে পারবে। পাশাপাশি কাঁচামালের কাস্টমস ডিউটি হ্রাস এবং অত্যাধুনিক মেশিনারিজ আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতি দিলে উৎপাদন খরচ কমবে। আমাদের পণ্যের চাহিদা আমরা দেখি ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে। যদি রফতানির ক্ষেত্রে বিশেষ নগদ সহায়তা বা প্রণোদনা পাওয়া যায়, এটি তৈরি পোশাক শিল্পের মতো একটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত হবে।
সিরামিক শিল্প সঠিক নীতি সহায়তা এবং অনুকূল পরিবেশ পেলে এ শিল্প শুধু দেশের চাহিদা মেটাবে না বরং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আরো বড় অবদান রাখবে।










