যদিও সুদীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত সম্ভাবনাময় এ খাত এখনো নীতিগত নানা সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে আটকে আছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, দেশে প্লাস্টিক শিল্পের বাজারের আকার প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। ছয় হাজারের বেশি কারখানায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান রয়েছে ১২-১৫ লাখ। সরাসরি রফতানি আয় ২০ কোটি এবং তৈরি পোশাক খাতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যের মাধ্যমে পরোক্ষ রফতানি আয় ছাড়িয়েছে ৯০ কোটি ডলার। এত বড় একটি খাত থেকে সরকার ভ্যাট, শুল্ক ও আয়করের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেলেও এর পূর্ণ সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো যায়নি।
প্লাস্টিক খাতের কাঁচামাল আমদানিনির্ভর। বৈদেশিক মুদ্রার যেকোনো অস্থিরতা এ খাতের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। এ খাতের কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং স্থানীয় পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প গড়ে তুলতে প্রণোদনা দেয়া প্রয়োজন। উচ্চ সুদহার ও সহজ অর্থায়নের অভাবও এ খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এজন্য এ খাতে স্বল্পসুদে ঋণ ও পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর রেয়াত দেয়া যেতে পারে। জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণের বাড়তি ব্যয়ও এ খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া রফতানি বাড়াতে তৈরি পোশাক খাতের মতো বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা, নগদ সহায়তা এবং সহজ কাস্টমস প্রক্রিয়া চালুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও রিসাইক্লিং খাতে কর ছাড় দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও আরো বাড়বে।










