এ প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি শুধু জলবায়ুগত বিষয় নয়, বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও অপরিহার্য।

টেকসই অর্থায়নের মাধ্যমে এ সক্ষমতা অর্জনে ইডকল নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো খাতে প্রায় ২৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ফলে দেশে ৮০৬ দশমিক ৫ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সোলার হোম সিস্টেম ও সেচ পাম্প ব্যবস্থা বছরে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ লাখ টন গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস করছে। এছাড়া কার্বন ক্রেডিট বিক্রি ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে পুঁজি আহরণেও ইডকল সক্ষমতা দেখিয়েছে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। লক্ষ্যপূরণে বিদ্যুৎ খাতে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের স্বল্পমেয়াদি আমানতনির্ভর কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে অর্থায়ন চ্যালেঞ্জিং। এ সংকট উত্তরণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থায়ন কাঠামোয় বিশেষ পদক্ষেপ প্রয়োজন। গ্রিন ও সাসটেইনেবল বন্ডের কুপন আয়ের ওপর কর অব্যাহতি দেয়া হলে দেশীয় সঞ্চয় দীর্ঘমেয়াদি সম্পদে রূপান্তর হবে। বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর সহায়তায় ‘ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট মেকানিজম’ গঠন করলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কম খরচে প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি আকর্ষণ করা সম্ভব।

পরিচালনাগত ক্ষেত্রে রুফটপ ও বাণিজ্যিক সোলারের জন্য নেট-মিটারিং অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং সময়বদ্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউটেড সোলার ও ব্যাটারি স্টোরেজ প্রকল্পের জন্য ‘ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং’ সুবিধা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ই-মোবিলিটি উপকরণের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট সুবিধা অব্যাহত রাখলে বিনিয়োগ বাড়বে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও আমদানি ব্যয় কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসন্ন বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।