প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার ওপর তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেয়াও সামগ্রিক সেবার ভারসাম্য নষ্ট করছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী আমদানির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে সেবার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। দেশে এখনো কার্যকর চিকিৎসা বীমা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে, ফলে স্বাস্থ্যব্যয়ের বড় অংশই জনগণকে নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়। পাশাপাশি রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সেবার অপ্রতুলতা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি এবং অপরিকল্পিততা ও অদক্ষতার কারণে বরাদ্দকৃত বাজেট যথাযথভাবে ব্যয় না হওয়াও এ খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
আসন্ন বাজেটে জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কয়েকটি নীতিগত পদক্ষেপ বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। প্রথমত, সামগ্রিক বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় ন্যূনতম ৩-৪ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করে পরিকল্পিত উপায়ে বাজেট বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি হাসপাতালগুলোয় শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা জোরদার করাও জরুরি। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার ওপর আরো বেশি গুরুত্ব আরোপ করলে বড় হাসপাতালের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে। বেসরকারি খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক কমানোর পাশাপাশি ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল এবং চিকিৎসা সহায়ক ডিভাইস আমদানিতেও শুল্ক হ্রাস করা প্রয়োজন, যাতে সেবার ব্যয় কমানো যায়।
এছাড়া চিকিৎসা ব্যয় বহনে সহায়তা দিতে সারা দেশে চিকিৎসা বীমা চালু করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে টেকসই ও কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়।










