বাজারের আকার ৯-১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছার পথে থাকলেও এ প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আমদানিনির্ভর; বিশেষ করে হার্ডওয়্যার ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম। ফলে খাতটি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তার প্রকৃত মূল্য সংযোজন দেশের ভেতরে ততটা তৈরি হচ্ছে না। সফটওয়্যার ও আউটসোর্সিংয়ে স্থানীয় সক্ষমতা তৈরি হলেও হার্ডওয়্যার খাতে আমরা এখনো পিছিয়ে। সরঞ্জামের প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ডলার সংকট, এলসি জটিলতা, উচ্চ শুল্ক ও দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে খাতটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে সীমিত করে দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সাইবার নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা ভবিষ্যতের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আইসিটি খাত এখন রূপান্তরকালীন পর্যায়ে রয়েছে। দেশীয় বাজারনির্ভরতা থেকে রফতানিমুখী অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ পরিবর্তনকে টেকসই করতে হলে নীতিগত স্থিতিশীলতা, গবেষণা-উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি।

এজন্য সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার। বিশেষ করে কর কাঠামো সহজ করা, সফটওয়্যার সেবায় ভ্যাট কমানো, হার্ডওয়্যার কম্পোনেন্ট আমদানিতে শুল্ক হ্রাস এবং দেশীয় উৎপাদনে প্রণোদনা দেয়া। বর্তমানে সফটওয়্যার ও আইটি সার্ভিসের ওপর প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ ভ্যাটকে কমিয়ে এক অংকের মধ্যে নিয়ে আসা জরুরি। সবচেয়ে ভালো হয় ৫ শতাংশে নামিয়ে আনলে। সেই সঙ্গে রফতানিমুখী সেবার ক্ষেত্রে এটি শূন্য ভ্যাটে নিয়ে আসা দরকার। আইটি খাতের জন্য বিদ্যমান কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সাল নাগাদ বা তার পরেও বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ পরিকল্পনা করতে পারেন। হার্ডওয়্যার শিল্পের ক্ষেত্রে কাঁচামাল ও কম্পোনেন্ট আমদানিতে শুল্ক ১-৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং প্রস্তুত পণ্যে ১০-১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন। এতে দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি ‘‌মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।