এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণও উল্লেখযোগ্য; যেখানে ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক মিলিয়ে সরকারি কোষাগারে বিপুল অর্থ প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এ খাতের উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ৯০ শতাংশের বেশি এসএমই উদ্যোক্তা কোনো না কোনোভাবে ব্যাংক ঋণ থেকে বঞ্চিত হন। অতিরিক্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, মোট সিএমএসএমই ইউনিটের একটি বড় অংশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত নয়। এছাড়া এ খাতের কর কাঠামো বিনিয়োগ ব্যয় বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে অগ্রিম আয়কর এবং ভ্যাটের চাপ অনেক বেশি, যা তাদের নগদ প্রবাহ সীমিত করে। ডিজিটাল রূপান্তরের অভাবও বড় একটি সমস্যা, ঋণ প্রক্রিয়া এখনো কাগজনির্ভর এবং শাখাভিত্তিক হওয়ার কারণে খরচ বেশি এবং কার্যক্রম ধীর। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের সঠিক তথ্যভাণ্ডর না থাকায় লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেয়া কঠিন হচ্ছে।
আবার রফতানিমুখী শিল্পের কথা বলা হলেও অধিকাংশ সিএমএসএমই উদ্যোক্তার জন্য রফতানির পথ এখনো দীর্ঘ ও জটিল। অন্যদিকে আমদানি প্রতিস্থাপনের সুযোগ আমাদের সামনে প্রজ্বলিত এবং এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও শিল্প বিকাশ সম্ভব। তাই এবারের বাজেটকে শুধু স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা মানে হবে কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ হাতছাড়া করা।
আমাদের দাবি, বাজেটে আমদানি প্রতিস্থাপনমুখী সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন উইন্ডো তৈরি করা হোক, যেখানে কম সুদ, দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতমুক্ত ঋণ দেয়া হবে। রফতানি ও আমদানি প্রতিস্থাপন দুটি ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেয়ার সময় এসেছে।
সিএমএসএমই উদ্যোক্তারা ভর্তুকি চান না, তারা চান সুযোগ। আর এ সুযোগের মধ্যে আমদানি প্রতিস্থাপনের বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেয়াই এবারের বাজেটের সবচেয়ে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে।










