দেশে সব কোম্পানি মিলিয়ে দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২ হাজার টন, যা বছরে প্রায় ৭ লাখ টনের কাছাকাছি। এ উৎপাদন সক্ষমতার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদার শতভাগ পূরণের পাশাপাশি রফতানির সক্ষমতাও এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে।

এ খাতে সরাসরি প্রায় ১২ হাজার এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের শিল্প খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি সরকার এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব অর্জন করছে, যা সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

বর্তমানে কাচ শিল্প কয়েকটি মৌলিক সমস্যার সম্মুখীন।

প্রথমত, নীতিগত বৈষম্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কাচ উৎপাদন সত্ত্বেও হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও ইলেকট্রনিকস খাতে আমদানীকৃত কাচ বা যন্ত্রাংশে শুল্ক সুবিধা থাকায় বিদেশী পণ্য তুলনামূলকভাবে কম দামে বাজারে প্রবেশ করছে।

দ্বিতীয়ত, কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে উচ্চ শুল্ক ও কর কাঠামো উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে দেশীয় পণ্যমূল্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

তৃতীয়ত, গ্যাস ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এ শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। কাচ শিল্প একটি কন্টিনিউয়াস প্রসেস হওয়ায় উৎপাদন একবার শুরু হলে তা বন্ধ রাখা সম্ভব নয়, ফলে জ্বালানি সংকটে বিকল্প ব্যয়বহুল জ্বালানির ওপর নির্ভর করতেই হয়।

এ সংকটগুলো সমাধানে কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

প্রথমত, কাচ শিল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোতে দেশীয় কাচ ব্যবহারে নীতিগত উৎসাহ বা আংশিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ও কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা উচিত, যাতে উৎপাদন খরচ কমে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

তৃতীয়ত, শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কাচ শিল্পকে আরো এগিয়ে নিতে কিছু প্রণোদনামূলক সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে।

প্রথমত, রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে ডিউটি ড্র-ব্যাক, নগদ সহায়তা এবং ট্যাক্স রিবেট চালু করা হলে রফতানি বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

দ্বিতীয়ত, আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর ছাড় দিলে উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সহজ হবে।

তৃতীয়ত, আমদানীকৃত কাচের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং দেশীয় উৎপাদকদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করলে বাজারে ভারসাম্য তৈরি হবে।

এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে একদিকে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।