একই সঙ্গে স্থানীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য কেনা হয়। এগুলো থেকেও মূসক ও কর আদায় হয়। কর্মসংস্থানের ফলে ব্যক্তিগত আয়কর ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর উভয় দিক থেকেই রাষ্ট্র উপকৃত হয়।

তবে খাতটি এখন একাধিক সংকটে রয়েছে। প্রথমত, সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমদানিনির্ভরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সরাসরি প্রভাব ফেলেছে সরবরাহ ব্যবস্থায়।

দ্বিতীয়ত, জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। যদি উদাহরণস্বরূপ আমাদের হাসপাতালের কথাই বলি, আমাদের ক্যাপটিভ পাওয়ার গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হয়। কিন্তু আমরা গ্যাসের সরবরাহ পাচ্ছি না। একেবারেই শূন্য। সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হচ্ছে ডেসকোর বিদ্যুতের ওপর, যা সবসময় নিরবচ্ছিন্ন নয়। এ অবস্থায় ডিজেলচালিত জেনারেটরই ভরসা। এ প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যসেবা একটি মানবিক খাত হলেও নীতিগত সুবিধার ক্ষেত্রে তা অন্য খাতের মতো সুযোগ পায় না। অন্যান্য খাত যে হারে কর দিয়ে থাকে, আমরাও সেই একই হারে কর দিয়ে থাকি। অন্যান্য খাতে যেমন ট্যাক্স হলিডে আছে, স্বাস্থ্য খাতে তা নেই।

এছাড়া জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রপাতি আমদানিতে উচ্চ শুল্কহার আরোপ করা হয়। রোগ নির্ণয়ে অপরিহার্য ল্যাব ও প্যাথলজি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর, যার ওপর ৩৪ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়। এগুলো বিলাসপণ্য নয়, বরং জীবন রক্ষাকারী উপাদান। শুল্কহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা গেলে রোগীরা কম খরচে সেবা পেতে পারেন।

প্রযুক্তিগত উন্নয়নও একটি বড় বিষয়। সরকার চাইলে উন্নত প্রযুক্তি আমদানি সহজ করতে পারে ও সরকারি-বেসরকারি খাতে তা ব্যবহারের পথ সুগম করতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা বা বিদেশী বিশেষজ্ঞ এনে স্থানীয় জনবলকে প্রশিক্ষণ দেয়াও সম্ভব।