দেশে এলপিজি খাতের সাসটেইনেবল অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বর্তমান মূল্য কাঠামো ও নীতিমালায় সময়োপযোগী পরিবর্তন জরুরি। ২০২১ সাল থেকে বিইআরসি মাসভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে এলপিজির মূল্যনির্ধারণ করলেও ডিস্ট্রিবিউশন পর্যায়ের ব্যয় বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমানে ডিস্ট্রিবিউটরের জন্য প্রতি ১২ কেজিতে ৫০ টাকা এবং রিটেইলারের জন্য ৪৫ টাকা কমিশন নির্ধারিত, যা বাজার বাস্তবতার তুলনায় অপ্রতুল। একটি ভারসাম্যপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ডিস্ট্রিবিউটরের জন্য অন্তত ১০০ টাকা এবং রিটেইলারের জন্য ১২০ টাকা কমিশন নির্ধারণ প্রয়োজন।
অপারেটরদের সার্বিক ওভারহেড ব্যয়—যেমন মজুদকরণ, সিলিন্ডার ফিলিং, টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও ডিস্ট্রিবিউশনে বর্তমানে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা ধরা হলেও তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা প্রয়োজন। দেশের এলপিজি বাজার বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতনির্ভর। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে ছয় মাসে (১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি সর্বোচ্চ পরিমাণ এলপিজি আমদানির মাধ্যমে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
তবে বাজার সম্প্রসারণে অপারেটরদের এলপিজি সিলিন্ডারে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। একটি ১২ কেজি সিলিন্ডারের উৎপাদন খরচ প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা হলেও বাজার সম্প্রসারণ ও ভোক্তা গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে এটি ৮০০-১,০০০ টাকা এবং বর্তমানে প্রায় ১,২০০-১,৫০০ টাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ভর্তুকির সম্পূর্ণ চাপ অপারেটরদের ওপরই বর্তাচ্ছে।
সিলিন্ডার উৎপাদনের বিভিন্ন কম্পোনেন্টের কাঁচামাল আমদানিতে ২৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ শুল্ক কাঠামো ব্যয় বাড়াচ্ছে। তাই শুধু ৫ শতাংশ কাস্টম ডিউটি রেখে সমুদয় ভ্যাট প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এলপিজি বিক্রয়ে উৎস কর দশমিক ৬ শতাংশ নির্ধারণ করলে কর কাঠামো আরো স্বচ্ছ হবে।










