নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এ শিল্পের প্রয়োজনীয়তা ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার অভাবও এর বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অন্যান্য শিল্পের মতো সমান হারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আরোপ করা হচ্ছে, যা এ খাতের জন্য অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক।

বর্তমানে প্যাকেটজাত কাঁচা মাছ ও মাংসের ওপর মূসক আরোপ এবং পুনঃপ্রক্রিয়াজাত মোড়কজাত মাংসপণ্যে ১৫ শতাংশ মূসক নির্ধারণ নিরাপদ খাদ্য ব্যবহারে ভোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। অথচ একই ধরনের প্রক্রিয়াজাত পণ্যে তুলনামূলক কম করহার বিদ্যমান। তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় প্যাকেটজাত কাঁচা মাংস ও মাছের ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসপণ্যের মূসক হার কমানো সময়ের দাবি।

অন্যদিকে, এ খাতের কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রায় ৯৯ শতাংশই প্রান্তিক কৃষক, যাদের আয় করযোগ্য সীমার নিচে। ফলে তাদের কাছ থেকে উৎসে কর কর্তন বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে তারা আনুষ্ঠানিক বাজার এড়িয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতে ঝুঁকছেন। এতে করে পুরো খাতটিকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এছাড়া উচ্চ লেনদেনের বিপরীতে কম মুনাফার কারণে টার্নওভারের ওপর ১ শতাংশ ন্যূনতম কর এবং ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ আয়কর হার এ শিল্পের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে। কৃষিভিত্তিক শিল্প হওয়া সত্ত্বেও এ খাতটি প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা এর টেকসই উন্নয়নের পথে অন্তরায়। তাই আসন্ন জাতীয় বাজেটে করহার হ্রাস, মূসক অব্যাহতি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান এ খাতের টেকসই উন্নয়ন ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।