এ প্রেক্ষাপটে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য ২৭ হাজার ২২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন আর বিকল্প নয়, বাধ্যবাধকতা।

মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশেষায়িত এগ্রো প্রসেসিং অঞ্চল গড়ে তোলা প্রয়োজন। সরকারকে এজন্য উদ্যোগ নিতে হবে এবং আগামী বাজাটে সেজন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প খাত যেন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পায় সেই পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।

বর্তমানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। বাজেটে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা প্রত্যাশা করছি। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরোপিত ট্যাক্সের হার কমিয়ে ট্যাক্স নেটওয়ার্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থনীতি অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছে। তাদেরকে করের আওতায় আনতে হবে।

আগামী বাজাটে কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনীতির কথা চিন্তা করে ব্যবসাবান্ধব করনীতি প্রণয়ন করতে হবে। করহার যৌক্তিক রাখতে হবে। চলতি বাজেটে সরকার করহার ২৫ শতাংশ করবে বলে আশা করছি। এছাড়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে আগাম করের হার ১ শতাংশ করা কিংবা সেটি প্রত্যাহার করলে সেটি ব্যবসয়ীদের স্বস্তি দেবে।

ব্যবসার খরচ কমানোর জন্য বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শুল্ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, শিপিং ও পরিবহন ব্যয় হ্রাসের জন্য বাজেট সহায়তা দেয়া প্রয়োজন।

কৃষি প্রক্রিয়াজাত কারখানা করতে চাইলে সেখানে ট্যাক্স সুবিধা প্রদান করতে হবে। তাহলে নতুন নতুন উদ্যোক্তা উঠে আসবে ও দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট হতে হবে বাস্তবমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উৎপাদনমুখী।

Agriculture-Outline-Final