এ বাস্তবতা একদিকে যেমন বিশাল সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে নীতিগত ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার দিকটিও তুলে ধরে। এ প্রেক্ষাপটে একটি সমন্বিত ও বাস্তবমুখী নীতিসহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

এসএমই খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিদ্যমান সুবিধাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তারা সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারেন। একই সঙ্গে কর কাঠামো এমনভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন, যাতে ডিজিটাল লেনদেনের খরচ নগদের তুলনায় বেশি না হয়।

ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় ব্যাংক, এমএফএস, পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো আরো বেশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রবর্তনের মাধ্যমে জনগণের জন্য আরো উন্নত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে পারে।

একই সঙ্গে প্লাস্টিক কার্ড, পিওএস মেশিন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির ওপর বর্তমান উচ্চ করহার হ্রাস করলে অবকাঠামো বিস্তার সহজ হবে। বর্তমানে এইচএস কোড ৮৫২৩.৫২.০০ অনুযায়ী স্মার্ট কার্ডের ওপর শুল্ক ৭৬ শতাংশের বেশি এবং পিওএস মেশিনের ক্ষেত্রে ৩৮ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশের নিচে নির্ধারণ করা হলে এর সহজলভ্যতা বাড়বে, ডিজিটাল পেমেন্ট আরো সাশ্রয়ী হবে।

বিদেশ ভ্রমণ ও চিকিৎসা খাতে ডলার কোটার সীমা বর্তমান রিজার্ভের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিবেচনা করা হলে, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন আরো উৎসাহিত হবে। বিশেষ করে চিকিৎসা খাতে কোটার পরিমাণ যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করার বিষয়টি মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশের ওপর নির্ভরশীল না রেখে বিবেচনা করা যেতে পারে। একইভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্রাভেল কোটার বর্তমান সীমা ১২ হাজার ডলার থেকে ২৫ হাজার ডলারে উন্নীত করার বিষয়েও পর্যালোচনা করা যেতে পারে।