ওয়াটারএইড দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে এ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। আগামী বাজেটে ওয়াশ খাতের টেকসই রূপান্তর নিশ্চিত করতে আমরা নিচের বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করছি:
১. মৌলিক সংকট: জলবায়ু ঝুঁকি ও ভৌগোলিক বৈষম্য
একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, উত্তরাঞ্চলে পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং আকস্মিক বন্যা বিদ্যমান অবকাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে বাজেটে চরম ভৌগোলিক বৈষম্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। বরাদ্দের সিংহভাগই ব্যয় হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার মতো বড় শহরগুলোয়। ফলে ছোট শহর, পৌরসভা ও গ্রামীণ জনপদগুলো ক্রমাগত অবহেলার শিকার হচ্ছে। এ বৈষম্য দূর করতে বাজেটে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জন্য সুনির্দিষ্ট গুরুত্ব প্রয়োজন।
২. সংকট উত্তরণে আমাদের প্রস্তাব
পৃথক বাজেট লাইন: ওয়াশ খাতের জন্য জাতীয় বাজেটে একটি সুনির্দিষ্ট ও পৃথক ‘বাজেট লাইন’ বরাদ্দ করা জরুরি।
জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো: বরাদ্দকৃত অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জলবায়ুবিপন্ন অঞ্চলের উপযোগী অবকাঠামো (যেমন রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ও লবণাক্ততা দূরীকরণ প্লান্ট) নির্মাণে সরাসরি অনুদান হিসেবে দিতে হবে।
পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ: গ্রামীণ জনপদে যতক্ষণ না পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে, ততক্ষণ প্রকৃত সমতা আসবে না।
নগর দরিদ্রদের জন্য সেবা: সিটি করপোরেশন ও ওয়াসাগুলোর বাজেটে বস্তিবাসী ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর জন্য নামমাত্র মূল্যে আইনি কাঠামোর আওতায় বৈধ পানি ও স্যানিটেশন সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
জেন্ডার-রেসপনসিভ বাজেট: পাবলিক টয়লেট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাসিক স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ জেন্ডার-রেসপনসিভ বাজেটিং এখন সময়ের দাবি।
৩. পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
স্যানিটেশন খাতকে কেবল ব্যয়ের খাত হিসেবে না দেখে একে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের খাত হিসেবে দেখা উচিত।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ: পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় পয়োবর্জ্য শোধন করে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ: স্যানিটেশন বাজারে জড়িত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কর ছাড় বা সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে এ বাজার আরো বিকশিত হবে, যা প্রকারান্তরে সরকারের ভ্যাট ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন কেবল অধিকার নয়, এটি দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মোক্ষম হাতিয়ার। বাজেটে ওয়াশ খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হলে তা ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি-৬ অর্জন এবং একটি সুস্থ বাংলাদেশের পথ সুগম করবে। আমরা আশা করি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট হবে একটি নিরাপদ পানি-সুরক্ষিত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।










