২০২৪ সালে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ১১ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে, যা এ খাতের সম্ভাবনার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। তবে খাতটির বিকাশের পথে দীর্ঘদিন ধরে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আস্থার ঘাটতি। অর্থনৈতিকভাবে সচেতন এ রকম অনেক গ্রাহকের মধ্যেও এখনো জীবন বীমা নিয়ে দ্বিধা কাজ করে, বিশেষ করে বীমাদাবি পরিশোধ নিয়ে। এর পাশাপাশি দক্ষ জনবলের ঘাটতি অনেক বেশি। জীবনবীমা একটি বিশেষায়িত খাত, এখানে সঠিক জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেটা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো ডিজিটাল দিক থেকে পিছিয়ে থাকা। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো পুরোপুরি ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল, যার কারণে গ্রাহকের সেবা গ্রহণে সময় অনেক বেড়ে যায় এবং কার্যক্ষেত্রে ভুলের আশঙ্কাও বাড়ে। বর্তমানে বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার জন্য নতুন বীমা কোম্পানিদের ফার্স্ট-ইয়ার সেলসের ওপর অনেকটা নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে, যা পুরো বীমা খাতেই প্রভাব ফেলেছে।

এ প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হওয়া উচিত আস্থা পুনর্গঠন করা। গ্রাহককে নিশ্চিত করতে হবে যে তার বীমাদাবি সময়মতো এবং স্বচ্ছভাবে পরিশোধ হবে। যেসব কোম্পানির বকেয়া বীমাদাবি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।

সরকারকে প্রয়োজনে নীতিগতভাবে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে প্রথমেই হবে বীমা খাতে যে বীমাদাবি নিষ্পত্তিতে ঘাটতি রয়েছে সেটিকে কঠোর ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে দূর করার ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি সব বীমা কোম্পানি নিয়মিত তদারকি ও নিরীক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা।

দ্বিতীয়ত, পুরো খাতকে দ্রুত ডিজিটাল করতে হবে। পলিসি ইস্যু থেকে শুরু করে দাবি নিষ্পত্তি—সবকিছু যদি ডিজিটাল হয়, তাহলে সময় কমবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং গ্রাহকের আস্থা স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসবে। সর্বোপরি প্রয়োজন মানুষের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি।