আপনার খাতের বাজারের আকার কত, কর্মসংস্থান কেমন, সরকার কত টাকার রাজস্ব পায়?
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাত এখন একটি বড় অর্থনৈতিক খাত। সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক, ফার্মেসি, ওষুধশিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম—সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যখাতের অর্থনৈতিক আকার আনুমানিক লক্ষাধিক কোটি টাকারও বেশি। শুধু বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৬,৯৭৯ টির বেশি—যার মধ্যে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। অনুমোদন বিহীন আরও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাহা সরকারের খাতায় নেই এই খাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কয়েক মিলিয়ন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রায় ৭০ হাজারের বেশি ডাক্তার, কয়েক লক্ষের বেশি সেবা কর্মী, নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, ওয়ার্ডবয়, অ্যাম্বুলেন্স, প্রশাসনিক কর্মী—সবমিলিয়ে বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং আরও সম্ভাবনা রয়েছে।
আমাদের (আলোক হাসপাতাল) বর্তমান বাজারের আকার বছরে আনুমানিক শত কোটি টাকা। আমাদের আলোক হেলথ কেয়ার এন্ড হাসপাতালে দুই শতাধিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, শতাধিক মেডিকেল অফিসার, শতাধিক নার্স ও অন্যান্য কর্মী রয়েছে এক হাজার পাঁচশত জনের অধিক। আমরা বৎসরে লক্ষাধিক রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করছি এবং আকার দিন দিন বাড়ছে, বাড়ছে কর প্রদানের আকার-যেমন কর, ভ্যাট, শুল্ক ও লাইসেন্স ফি মিলিয়ে সরকার বছরে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পায়। বাংলাদেশের অধিকাংশ বেসরকারি কর্মসংস্থান এখনো প্রাইভেট সেক্টরনির্ভর; সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে বেসরকারি খাতই প্রায় ৯৫% কর্মসংস্থান বহন করছে।
এ মুহূর্তে খাতটির মৌলিক সংকট গুলো কী?
আপনারা জানেন যে, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় অনেক সংকট রয়েছে।
যেমন,পর্যাপ্ত হাসপাতালের অভাব, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব, বিশ্বমানের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির অভাব, আধুনিক চিকিৎসার অভাব, চিকিৎসক ও জনবল ঘাটতি, বিশেষ করে শহর, উপজেলা ও গ্রামে সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপ, বেসরকারি খাতে খরচ অত্যন্ত বেশি/সকল- ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতালের মান এক রকম নয়, ওষুধ ও কাঁচামালে আমদানি নির্ভরতা, (বিশেষতAPI) স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল ডাটা, রোগী ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার জন্য আস্থার ঘাটতি—বিদেশ মুখী চিকিৎসা প্রবণতা সহ অন্যান্য অনেক অভাব রয়েছে। আরও স্বাস্থ্যসেবার অনেক অভাব রয়েছে। এ সকলদিক পূর্ণতায় বেসরকারী হাসপাতাল ভূমিকা রেখে চলছে। ১৮ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের আস্থা ফেরাতে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে আরও বাজেটসহ সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে। আরও বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, মেশিনারিজ, কেমিক্যাল ও অন্যান্য সামগ্রী বিশ্বমানের হওয়া খুবই প্রয়োজন। নচেৎ রিপোর্টের মান বিশ্বমানের হবে না।
কোন কোন পদক্ষেপ নিলে সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে মনে করেন?
বেসরকারী উদ্যোক্তাদের সরকারী সহযোগিতা বাড়াতে হবে। যেমন-হাসপাতাল নির্মাণে প্লট, সহজ শর্তে ঋণ বা কম সুদে ঋণ, দীর্ঘ মেয়াদী করা ইত্যাদি (এখানে লক্ষণীয় যে, অনেক প্রতিষ্ঠানই প্লট বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন নির্মাণ করেন নাই বা করতে পারছেন না) সুতরাং সক্ষমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ বা বাতিল করা যেতে পারে।
কোন সুবিধা যোগ করলে বা কোন অসুবিধা দূর হলে এ খাতের উন্নয়ন হবে, পাশাপাশি রাজস্ব বাড়বে।
হাসপাতাল নির্মাণের জন্য চিকিৎসার জোন সহ প্লট বরাদ্দ, স্বল্পসুদে দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ, সক্ষমতা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ অন্যান্য লোকবল সংগ্রহে সরকারী সহযোগীতা করা প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করনে সরকারী সহযোগীতা প্রয়োজন। রোগীদের সম্পূর্ণ মেডিকেল রেকর্ড ডিজিটাল করা (EMR) এবং 'ইউনিক হেলথ আইডি' চালু করা। এতে সেবার গতি বাড়বে, ফলে হাসপাতালের ওপর আস্থা বাড়বে, সাথে সরকারে রাজস্ব বাড়বে।










