বিশেষ করে কয়েকটি ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক আমানতকারীর আমানত ফেরত না দিতে পারা এবং কয়েক বছর আগে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়নে চলে যাওয়ার ঘটনা এ খাতের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। পরবর্তীকালে কভিডের প্রকোপ, ব্যাংকের নয়-ছয় প্রথা প্রবর্তন, অর্থনীতিতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, ২০২৪-এর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পালাবদল এবং সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অস্থিরতা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ওপর প্রতিনিয়ত নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। কিন্তু আয়কর হার ৪০ শতাংশে স্থির রাখা হয়েছে (লিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সাড়ে ৩৭ শতাংশ)।

পাশাপাশি ব্যাংক মেয়াদি আমানত ছাড়াও সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের মাধ্যমে কম খরচে আমানত সংগ্রহ করে। ফলে ব্যাংকের আমানত সংগ্রহের খরচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া আমদানি, রফতানি, গ্যারান্টি, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, অফশোর ব্যাংকিং ইত্যাদি সেবাগুলো থেকে ব্যাংক বিপুল পরিমাণে ফি আয় করে। যেহেতু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবাগুলো মূলত মেয়াদি আমানত গ্রহন ও ঋণ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, সুতরাং সুদ আয় ছাড়া আয় বাড়ানোর আর কোনো বিকল্পও তেমন নেই। সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহে বিধিনিষেধের কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত সংগ্রহের খরচ অনেক বেশি। এ কারণে বেশির ভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকারি বন্ড অথবা ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

খাতটি ক্ষুদ্র, মাঝারি, এসএমই, মহিলা উদ্যোক্তা, আবাসন, যানবাহন, কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত তথা প্রান্তিক ব্যাবসায়ী এবং ভোক্তাদের কয়েক যুগ ধরে সেবা দিয়ে আসছে। আশার কথা কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ খাতের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে এবং বেশকিছু ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকেও এ উদ্যোগে শামিল হতে হবে। আসন্ন বাজেট প্রণয়নের সময় আমরা আশা করব যেন তিন বছরের জন্যে এ খাতের আয়কর হার ২০ শতাংশে ধার্য করা হয়।