তবে বাস্তবতা হলো সম্ভাবনার তুলনায় এ খাত এখনো নীতিগত অবহেলায় পিছিয়ে রয়েছে।

বর্তমানে দেশের ফসেট শিল্পের বাজারের আকার আনুমানিক ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। প্রতি বছর এ বাজারের প্রবৃদ্ধি ১০-১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ শিল্পের সবচেয়ে বড় সংকট হলো কাঁচামাল। ফসেট তৈরির প্রধান উপাদান স্ক্র্যাপ ব্রাস, যার একটি বড় অংশ আগে দেশের জাহাজভাঙা শিল্প থেকে আসত। এখন সেই ব্রাসের বড় অংশ রফতানি হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের দাম ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম ৫৫-৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। জিংক এবং কার্ট্রিজ পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হওয়ায় এর ব্যয় আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সংঘাতের কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে, যা পুরো শিল্পে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অন্যদিকে নিম্নমানের আমদানীকৃত পণ্যের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতাকে বিকৃত করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং এলসি জটিলতা।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় পুরোটাই নির্ভর করছে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর। জাহাজভাঙা শিল্প থেকে প্রাপ্ত স্ক্র্যাপ ব্রাস রফতানি নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় শিল্পের জন্য নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত না হলে এ শিল্প টেকসইভাবে দাঁড়াতে পারবে না।

উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫-১০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনলে উৎপাদন ও বাজার উভয়ই স্বস্তি পাবে। এছাড়া আমদানীকৃত পণ্যের ওপর বাধ্যতামূলক বিএসটিআই মান, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন এবং বাজার তদারকি জোরদার না করলে স্থানীয় শিল্প টিকতে পারবে না।