স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো মৌলিক অধিকার ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন। এমনকি কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণের কিছু সমন্বয়ের ফলে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবিত হলেও এর সুফল কৃষকের জীবনে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য কৃষিভিত্তিক শিল্প, প্রক্রিয়াজাত ও বাণিজ্যিক কৃষির বিকাশ জরুরি হলেও এসব খাতে অগ্রগতি সীমিত। ফলে কৃষক উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলন বেশি হলে দাম কমে যায়, আবার বাড়লেও তার সুফল কৃষকের হাতে পৌঁছায় না। উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রিমূল্যের এ অসামঞ্জস্য বাণিজ্যিক কৃষির বড় বাধা। সম্প্রতি আলু ও পেঁয়াজের মতো ফসলে ভালো ফলন হলেও কৃষক ন্যায্যমূল্য পাননি। এক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভর বাজার ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে কৃষক উপকৃত এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হতো। একই সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে শিল্প উদ্যোক্তারা আগাম বিনিয়োগ করে কৃষকের উৎপাদনের নিশ্চয়তা দিতে পারতেন।

কৃষি উৎপাদন ব্যয়ের অন্যতম কারণ হলো বীজ, সার ও কীটনাশকে আমদানিনির্ভরতা। বিশেষ করে কীটনাশক শিল্প এখনো বিদেশনির্ভর, ফলে কৃষক উচ্চমূল্য ও মানগত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন। অন্যদিকে কীটনাশক শিল্পে উচ্চ শুল্ক কাঠামো (প্রায় ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত) দেশীয় উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ বিদেশ থেকে প্রস্তুত পণ্য আমদানিতে তুলনামূলক কম শুল্ক দিতে হয়। এতে দেশীয় উৎপাদন নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে।

২০২৫ সালে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ফিনিসড গুডস (বালাইনাশক) আমদানি হয়েছে। দেশীয় উৎপাদন সম্ভব হলে বছরে ৪-৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ থাকত।

এলডিসি উত্তরণের আগে এ খাতে শিল্পায়ন নিশ্চিত করা না গেলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আসন্ন বাজেটে শুল্ক কাঠামো সংস্কার, নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধি ও দেশীয় শিল্প বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাই।

Agriculture-Outline-Final