অর্থাৎ আমাদের বাজেটে আয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ব্যয়ের ক্ষেত্রে, তা উন্নয়ন ব্যয় হোক বা চলতি ব্যয়, যে ব্যয়গুলো হবে, সেগুলো সত্যিকার অর্থে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও মূলগত মানসম্পন্ন হতে হবে।

উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে যে প্রকল্পগুলো নেয়া হয়, সেগুলোর ব্যয়ের মধ্যে কোনো ধরনের অতিরিক্ততা থাকবে না, কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয়তা থাকবে না, অপচয়ের সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ বাজেটের যে ব্যয়, সেটি সত্যিকার অর্থে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে চলতি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না, অপচয়ের সুযোগ থাকবে না। সুতরাং বাজেটটা বড় আকারের হলেই হবে না, বরং গুণগত মানসম্পন্ন হতে হবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বর্তমান সংকটগুলো মোকাবেলায় সরকারের যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হতে হবে।

অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে আমার মনে হয় কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। শুধু মুদ্রানীতিনির্ভর করে এটি সম্ভব নয়, গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় সেটি দেখা গেছে। কাজেই বাজেটকেও মূল্য স্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে।

এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা খাত, শিক্ষা খাত এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে হবে বাজেটে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা ও বিশেষ সহায়তার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমন একটি বাজেট দরকার, যা জনআকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।