কিন্তু বাস্তবতা হলো দেশে বাজেট প্রণয়ন এখনো অনেকাংশে ক্রমাগত বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সীমিত সংস্কারের মধ্যে আটকে আছে। কৃষি ও জ্বালানি—এ দুই খাতে সেই সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে স্পষ্ট।
আমরা এখনো কৃষিকে উৎপাদনের পরিমাণ দিয়ে মূল্যায়ন করি, কিন্তু সেই উৎপাদন থেকে কতটা মূল্য সৃষ্টি হচ্ছে—সেই প্রশ্ন বারবার উপেক্ষিত থেকে যায়। বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের কৃষি উপকরণ আমদানি করে, যেখানে উচ্চমূল্যের হাইব্রিড বীজের একটি বড় অংশই বিদেশনির্ভর। একই সঙ্গে মাঠ থেকে বাজারে পৌঁছার আগেই প্রায় ২০-৩০ শতাংশ সবজি এবং ফল নষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ আমরা উৎপাদন বাড়ালেও সেই উৎপাদনের একটি বড় অংশ অর্থনীতিতে কোনো মূল্য যোগ করার আগেই হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু সবজি খাতেই এ ক্ষতির পরিমাণ বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
এ প্রেক্ষাপটে বাজেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বরাদ্দ নয়—বাস্তবায়ন। নতুন জাত উদ্ভাবন, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি, কিংবা উচ্চফলনশীল বীজ—এসবের জন্য যে ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
জ্বালানি খাত কৃষির ওপর একটি নীরব কিন্তু গভীর চাপ সৃষ্টি করছে। দেশের জ্বালানি আমদানি বিল এরই মধ্যে ৮-১০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং এ ব্যয়ের একটি বড় অংশ পরোক্ষভাবে কৃষি খাতে প্রভাব ফেলছে। সেচে ব্যবহৃত ডিজেলের পরিমাণ, কোল্ড স্টোরেজ পরিচালনার খরচ—সবকিছুই ক্রমেই বাড়ছে। অথচ এক্ষেত্রে একই জমিতে কৃষি ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারত। কিন্তু এখানে সহায়ক নীতির অভাব রয়েছে।
সবকিছু মিলিয়ে বাজেট ২০২৬-২৭ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এটি কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় ও জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু যদি এ বাজেটও আগের মতোই সীমিত পরিবর্তনের মধ্যে আটকে থাকে তাহলে কৃষি ও জ্বালানি খাত একই জায়গায় ঘুরপাক খেতে থাকবে।










