ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের তথ্যমতে, এ খাতে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। আর বার্ষিক ফিড উৎপাদনের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা। খাত থেকে প্রতি বছর ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব জমা হচ্ছে।
ডব্লিউএইচও ও এফএওর মানদণ্ড অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৫০-৬০ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হলেও দেশে তা মাত্র ৩০-৩৫ গ্রাম। এ পুষ্টিগত ব্যবধান ঘোচাতে হলে প্রোটিনের উৎপাদন ব্যয় কমানো অপরিহার্য। তবে বর্তমানে শিল্পটি বহুমুখী সংকটে জর্জরিত। সাধারণ শিল্পে কর হার যেখানে ২০ শতাংশ, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ এ কৃষিভিত্তিক খাতে করপোরেট কর হার ২৭ দশমিক ৫।
এছাড়া এ খাতের উৎপাদন ব্যয়ের বড় অংশই আমদানিনির্ভর কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। অথচ কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং ১০ শতাংশ উৎসে কর বহাল রয়েছে। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। উচ্চ সুদহার এবং জটিল ঋণ প্রক্রিয়ার কারণে নতুন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
এ প্রেক্ষাপটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ শিল্পকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। প্রথমত, ফিড কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, উৎসে মূসক কর্তন ১০ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ এবং করপোরেট কর হার ২৭ দশমিক ৫ থেকে কমিয়ে ১০-১৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। ব্যাংক খাতে সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে খাতটি আরো শক্তিশালী হবে। একটি টেকসই ও সহায়ক বাজেট নীতির মাধ্যমেই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন গতিশীল রাখা সম্ভব।










