বরং আমি মনে করি কিছু ক্ষেত্রে যেমন সংবাদপত্র শিল্প—যেহেতু এটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের কাগজ আমদানিতে ডিউটি বা শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত, যাতে তারা সহজে কাগজ আমদানি করতে পারে।

আমাদের দেশে বর্তমানে ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ৭ শতাংশের নিচে, যা অত্যন্ত কম। আমি মনে করি এটি অন্তত দ্বিগুণ হওয়া উচিত। এ লক্ষ্য অর্জনে ট্যাক্সের নেট বাড়ানো দরকার। তবে ট্যাক্স নেট বাড়াতে হলে এনবিআরকে অবশ্যই ডিজিটালাইজড করতে হবে। আমি মনে করি এনবিআরকে ডিজিটালাইজড করা এবং রাজস্ব নীতি ও প্রশাসনকে আলাদা করা জরুরি, যেটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার শুরু করেছিল, সে জায়গায় আবার ফিরে যাওয়া উচিত। এছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না যায়, তবে কোনো সুফল আসবে না।

এ বছর লক্ষ্যের ৭৫ হাজার কোটি টাকার মতো ট্যাক্স কম আসবে। বর্তমানে যে বিশাল অংকের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, সে প্রেক্ষাপটে কর্মসংস্থান বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিতে হবে। এজন্য প্রচুর এনার্জি সাপোর্ট বা জ্বালানি সহায়তা প্রয়োজন। আমি মনে করি আগামী বাজেটে ‘এনার্জি’ হওয়া উচিত এক নম্বর অগ্রাধিকার বা ফার্স্ট প্রায়োরিটি। এনার্জি সাপোর্ট নিশ্চিত করলে কর্মসংস্থান বাড়বে, শিল্পায়ন হবে এবং তা রাজস্ব বাড়াতেও সরাসরি অবদান রাখবে। তাই এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে রফতানি শিল্পকে গতিশীল করতে প্রচলিত বাজারের বাইরে অন্যান্য দেশে রফতানির ক্ষেত্রে যে নগদ সহায়তা বা ক্যাশ ইনসেন্টিভ আছে, সেটি অব্যাহত রাখা দরকার। মূলত এ বিষয়গুলোই আসন্ন বাজেটে আমাদের বড় প্রত্যাশা।