এ ধারাবাহিকতায় আসন্ন বাজেট প্রস্তাবে কর ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করা এবং করনীতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাপ্লিমেন্টারি ডিউটির যত্রতত্র ব্যবহার বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। করসংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে অনলাইন বা ডিজিটাল করা উচিত। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক। তাই বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে কীভাবে করজাল বাড়ানো যায়, সেদিকে সরকারের নজর দেয়া উচিত। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলে বর্তমানে করের কার্যকর হার (ইফেকটিভ ট্যাক্স রেট) অনেক বেশি। কর আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারের উচিত বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা। লক্ষ্যমাত্রা খুব বেশি হলে এনবিআরের পক্ষ থেকে নিয়মিত করদাতাদের ওপর অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

গত দুই বছরে ব্যক্তিগত করের হার ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। এটি আরো বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হলে তা অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক হবে। সুপার রিচ ক্যাটাগরির সংজ্ঞা অন্তত ১০ কোটি টাকা বা তার বেশি আয়কারীদের জন্য হওয়া উচিত। উচ্চকরের কারণে মানুষের ব্যয় করার সক্ষমতা কমে যায়, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য অগ্রিম কর বা অ্যাডভান্স ট্যাক্স তুলে দেয়া অথবা কমিয়ে আনা প্রয়োজন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এখানে ওভাবে মূল্য সংযোজন বা ভ্যালু অ্যাডিশন হয় না। বিভিন্ন শিল্পে ভ্যাটের ওপর অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি আরোপ করার ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচ ও দাম বেড়ে যাচ্ছে। এটি সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। তাই বাজেটে এ ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর কাঠামো পরিহার করার আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রেসিডেন্ট, এফআইসিসিআই